২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনযোগ্য

  • বড় প্রকল্পে অর্থায়নের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যের অনেক উচ্চাভিলাসী হলেও অর্জনযোগ্য। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এজন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যেতে হবে। এটি করতে পারলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) মতো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে সাফল্য পাবে বাংলাদেশ। এ সময় রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপরও জোরারোপ করা হয়েছে। রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ) বৈঠকের মূল অধিবেশনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং দেশের একাধিক প্রতিনিধি এ কথা বলেন। এর আগে বিডিএফের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল কিনগো তৈয়দা বলেন, উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতামূলক কর্মকা- নিবিঘেœ বাস্তবায়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে নিরাপত্তা। বাংলাদেশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, বিশ^ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। মধ্যম আয়ের দেশের রূপান্তরিত হতে প্রায় আট শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। দেশের বেসরকারী বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষের। যা অর্জন করা কিছুটা কঠিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। জ্বালানি, অবকাঠামো খাত এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন। এসব দিকে নজর দিলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আওতায় কয়েকটি খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহারের সক্ষমতা একই গতিতে বাড়ছে না। এ জায়গায় আরও উন্নতি করতে পারলে সাফল্য পাবে বাংলাদেশ।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তা রড রিগো বলেন, মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরে বাংলাদেশকে কর জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। করযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ কর আদায় করতে হবে।

প্রথম শেসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিভিন্ন পর্যায় থেকে অকৃষি কার্যক্রম গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকার আগেই গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেছে। গত ছয় বছরে কৃষিবর্হিভূত কাজে বেশি গুরুত্ব দেয়ার জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য কয়েক বছরের মধ্যে রফতানি বেড়েছে কয়েকগুণ। তিনি বলেন, শিল্পায়নের পথে জমি সঙ্কট একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তোরণে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১১ লাখ লোক কর দেয়। ২০ লাখ লোকে উন্নীতকরণে লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে কর জাল বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তার নিজস্ব অফিস কক্ষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এশিয়ান ইনফ্রাসটাকচার ব্যাংকের কাছে নয়টি প্রকল্পে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- এমআরটি-৬, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্র, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। এআইআইবির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এ মাসেই তারা অফিস নেবেন এবং জানুয়ারি মাসে বোর্ড মিটিং করবেন। তারপরই বিনিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, এডিবির প্রতিনিধিদের কাছে বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে বিশ্বব্যাংক গত অর্থবছর ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং চলতি বছর ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। সুতরাং এডিবিকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের বলা হয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে যাবে। তখন যেহেতু সহজ শর্তের ঋণ কম পাওয়া যাবে, তাই ইউএনডিপি থেকে ঋণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বলা হয়েছে, রূপপুর পরমাণু প্রকল্পের কাজ অনেক সতর্কভাবে করতে হবে। যে কোন বিবেচনায় এ প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেশি। প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত বড় প্রকল্পের কাজ আমাদের অনেক সতর্কভাবে করতে হবে। এটা আমাদের জন্য পরীক্ষাও বটে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক দেশ পরমাণু প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে। যেমন-চীন, ব্রাজিল ও ফ্রান্স। তবে ইংল্যান্ডের পরমাণু প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা থাকলেও তারা সরে এসেছে। আমরা বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। যেমন-১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে যমুনা ব্রিজ বাস্তবায়ন করেছি। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাজেটের ব্যয় বাড়ছে। আমরা আশা করছি আগামীতে বাজেট ৫ লাখ কোটি টাকা হবে। কারণ আগামীতে অনেক বড় বড় প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হবে। ড. শামসুল আলম সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় জানান, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩১ লাখ ৯০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ব্যয়ের লক্ষ্য। মোট ব্যয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আগামী ৫ বছরে মোট যে ব্যয়ের (বিনিয়োগ) লক্ষ্য ধরা হয়েছে তার মধ্যে সরকারী ব্যয় ৭ লাখ ২৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং বেসরকারী খাত (বৈদেশিকসহ) থেকে ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

নির্বাচিত সংবাদ