১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কম মূল্যমানের নোট ও কয়েন না নিলে ব্যবস্থা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনেক শাখাই ধাতব মুদ্রাসহ কম মূল্যমানের নোট ও কয়েন নিচ্ছে না। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। সম্প্রতি এ ধরনের অভিযোগ অনেক বেড়েছে। যশোর, বগুড়া, সিলেট, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। গেল সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি শাখার বিরুদ্ধেও ধাতব মুদ্রা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় নিজস্ব গ্রাহকের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ধাতব মুদ্রাসহ কম মূল্যমানের (খুচরা টাকা) নোট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জারিকৃত সার্কুলারে এ সর্তক বার্তা জানিয়ে সব ধরনের নোট ও মুদ্রা বিনিময় ও সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, তফসিলী ব্যাংকের শাখাগুলো গ্রাহকদের নিকট হতে ১, ২ এবং ৫ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা এবং কাগুজে নোট গ্রহণ এবং স্বাভাবিক লেনদেনের স্বার্থে প্রতিটি শাখা প্রতিটির ন্যূনতম ১০,০০০ পিস করে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে স্থানীয় কার্যালয় ও অন্যান্য বড় শাখাকে বর্ণিত সংখ্যার তিনগুণ অর্থাৎ প্রতিটি মূল্যমানের ৩০,০০০ পিস করে ধাতব মুদ্রা সংরক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত ধাতব মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে, তাদের সকল শাখায় তাদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ ধাতব মুদ্রা সংরক্ষিত আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা জমাদানের প্রয়োজন হলে ব্যাংক শাখাগুলো শক্ত মোটা কাপড়ের ব্যাগ বা থলে ব্যবহার করবে। প্রতিটি ব্যাগ বা থলেতে মূল্যমান নির্বিশেষে ১,০০০ পিস করে ধাতব মুদ্রা রেখে ব্যাগ/থলের মুখ সিলগালা করে অথবা সিকিউরিটি ট্যাগ দ্বারা বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা প্রদান করতে হবে। একই ব্যাগ বা থলেতে একাধিক মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা রাখা যাবে না। ব্যাংকের নিজস্ব ফ্লাই লিফ পূরণ করে তা আঠার সাহায্যে ব্যাগের গায়ে লাগিয়ে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি স্থানে ব্যাংক কর্তৃক ধাতব মুদ্রা গ্রহণ না করার অভিযোগ ওঠায় এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ছেঁড়া নোট ও ধাতব মুদ্রার পাশাপাশি ছোট-বড় সব ধরনের নোট নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে তাদের ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময়মূল্য প্রদান ছাড়াও মূল্যমান নির্বিশেষে সব ধরনের নোট ও ধাতব মুদ্রা গ্রহণ এবং বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু তারপরও ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ধাতব মুদ্রাসহ কম মূল্যমানের নোট না নেয়ার অভিযোগ আসছে। সম্প্রতি দেশের কিছু জায়গায় ধাতব মুদ্রা অচল হওয়ার গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মতো ঘটনাও ঘটছে। ফলে লেনদেনের সময় অনেকেই ধাতব মুদ্রা নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কয়েন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন মূল্যমানের কয়েনও বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত লেনদেনের বৈধ মাধ্যম। তাই লেনদেনের সময় বিভিন্ন মূল্যমানের কাগুজে নোটের পাশাপাশি ধাতব মুদ্রাও সবাই নিতে বাধ্য। কেউ কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানালে তা বিধিসম্মত হবে না। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানাতে না পারে, সেজন্য আবারও নতুন নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।