২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ভালবাসা-শান্তি ফেরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’

‘ভালবাসা-শান্তি ফেরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’
  • প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মেসি-রোনাল্ডোসহ ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের শোক প্রকাশ, মারা গেছেন ফ্রান্স দলের এক ফুটবলারের বোন, অল্পের জন্য রক্ষা গ্রিজম্যানের বোনের, নিরাপত্তা শঙ্কা সত্ত্বেও ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ;###;হবে ফ্রান্সেই

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। কাপুরুষোচিত, নিন্দনীয় এই ঘটনায় এখন উত্তাল গোটা বিশ্ব। নারকীয় এই হামলা থেকে রেহাই মেলেনি বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বিনোদনের মাধ্যম খেলাধুলাও। এ কারণে বিবেকবান সবাই বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ভালবাসা ও শান্তি হরণ করা হয়েছে। বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই অঙ্গনের সবাই নিন্দা ও শোক জানিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন। সবার কথার ধরন অনেকটা একই রকমÑ ‘ভালবাসা ও শান্তি ফেরাতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে’। বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও এমন অভিমত রেখেছেন। তারা বর্বরোচিত এই ঘটনায় শোক জানিয়েছে, সবার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। শুধু রোনাল্ডো-মেসিই নন, ক্রীড়াঙ্গনের সব ঘরানার ক্রীড়াবিদরাই নিন্দা জানিয়েছেন নারকীয় এই ঘটনার। এদের মধ্যে অন্যতম থিয়েরি অঁরি, জ¬াতান ইব্রাহিমোভিচ, বিশ্বের দ্রুততম মানব জ্যামাইকার উসাইন বোল্ট, টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল, যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমসসহ আরও অনেকে। শুক্রবার প্যারিসের কয়েকটি স্থানে বোমা হামলা ও বন্দুকধারীদের গুলিতে ১২৮ জন নিহত হয়। এছাড়া ৯৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানায় দেশটির কর্মকর্তারা। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, হামলার শিকার মানুষগুলো ও তাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্যারিসের হামলায় সমবেদনা জানাতে ফেসবুকের ট্রেন্ড হ্যাশট্যাগ ‘প্রে ফর প্যারিস’ দিয়ে মেসি লিখেছেন, অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে জোরালোভাবে আরেকবার বলতে চাই, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা ও শান্তিই একমাত্র পথ। এটি অর্জনে পুরো বিশ্বকে এক হতে হবে। বর্তমান ফিফা সেরা তারকা রোনাল্ডোও গভীর শোক জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগের আরেক মাধ্যম টুইটারে প্যারিসের ঘটনার অনেকগুলো ছবির কোলাজ দিয়ে পর্তুগাল অধিনায়ক লিখেছেন, প্যারিসে হামলার ভয়াবহতার সময় আমি উদাসীন থাকতে পারি না। হামলার শিকার লোকজন ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড মাতানো গতি দানব উসাইন বোল্ট টুইটারে লিখেছেন, প্যারিসে হামলার ঘটনায় অনেক দুঃখ পেয়েছি। হামলার শিকার মানুষগুলো ও তাদের কাছের লোকজনের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী এই হামলায় নিহত হয়েছেন ফ্রান্স ফুটবল দলের মিডফিল্ডার লাসানা ডিয়ারার বোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিয়ারা তার বোন আস্টা ডিয়াকিটের মৃত্যুর খবর জানিয়ে লিখেন, আপনারা হয়তো জানেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই হামলার শিকার হয়েছি। হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে আমার কাজিন আস্টা ডিয়াকিট অন্যতম। সে ছিল আমার বড় বোন। যেখানে আরও ১০০ জনের মতো নির্দোষ ফরাসী মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, এই ভয়াবহ সময়ে আমরা যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, সবার উচিত কথা বলা। একসঙ্গে থেকে বীভৎস এই ঘটনার সামনে দাঁড়ানো, যার কোন ধর্ম নেই, কোন বর্ণ নেই। এক হয়েই ভালবাসা, সম্মান ও শান্তি রক্ষা করতে হবে। প্যারিসের স্টাডে দ্য ফ্রান্সে জার্মানির বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জেতা প্রীতি ম্যাচের ৮০ মিনিট খেলেন ডিয়ারা। ম্যাচটি চলার সময়ই একযোগে প্যারিসের কেন্দ্রের কয়েকটি স্থানে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। স্টেডিয়ামের বাইরে বোমা হামলার শব্দ মাঠ থেকেও শোনা যায়। স্টেডিয়ামের বাইরের এই হামলায় তিনজন মারা যায়। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ডিয়ারার সতীর্থ ফরোয়ার্ড অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যানের বোন। যুক্তরাষ্ট্রের রক ব্যান্ড ঈগলস অব ডেথ মেটাল সঙ্গীত পরিবেশন করার সময় বাতাক্লঁ থিয়েটারে বন্দুকধারীরা ঢুকে পড়ে। তাদের গুলিতে ও বোমা বিস্ফোরণে সেখানে কমপক্ষে ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কনসার্টে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে সেখানে ছিলেন স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফুটবলার গ্রিজম্যানের বোন। ফরাসী এই ফরোয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে জানান, তার বোন নিরাপদ আছেন। তিনি লিখেন, ঈশ্বর আমার বোন আর ফ্রান্সের মানুষদের সহায় হোক। আমার বোন বাতাক্লঁ থেকে বের হতে পারায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। হামলার শিকার হওয়া মানুষ এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি। প্যারিসের ঘটনায় আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ইউরোপিয়ান এ আসরটি বাতিল অথবা জায়গা পরিবর্তনের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান জ্যাকুস ল্যাম্বার্ট। তিনি বলেন, এই হামলা গত জানুয়ারির ঘটনাকেও পেছনে ফেলেছে। তবে ইউরো আসরটিতে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দিকটিই বিবেচনা করবো। ল্যাম্বার্ট বলেন, স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা ভাল। আর ইউরো সরিয়ে নেয়া মানে সন্ত্রাসীদের কাছে আত্মসমর্পণ করা।