২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডাবল সেঞ্চুরিতে উদ্ভাসিত রস টেইলর

ডাবল সেঞ্চুরিতে উদ্ভাসিত রস টেইলর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পার্থ টেস্টে দারুণ এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন রস টেইলর। অপরাজিত ২৩৫ রান নিয়ে ব্যাট করছেন তিনি। সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে ৫১০ রান করা নিউজিল্যান্ড মাত্র ৪৯ রানে পিছিয়ে। ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫৫৯ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। টেইলরের সেঞ্চুরি যেন ওয়ার্নারেরটির জবাব। সম্প্রতি সময়টা মোটেই ভাল যাচ্ছিল না সাবেক কিউই অধিনায়কের। জিম্বাবুইয়ে সফরে পড়েছিলেন ইনজুরিতে। অস্ত্রোপচার করে ফিরেছেন এই সফরে। যেন রাজকীয় ফেরা। ৬৬তম টেস্টে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী টেইলর। এটি তার ১৩তম সেঞ্চুরি এবং ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।

অস্ট্রেলীয় বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলাই করেছেন টেইলর। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তরুণ কেন উইলিয়ামসন। ১৬৬ রান করে আউট হয়েছেন প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু দ্বিতীয় দিন শেষে তাকে ছাপিয়ে গেছেন অভিজ্ঞ টেইলর। উইলিয়ামসনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তুলে নিয়েছেন ২৬৫ রানÑ যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে কোন জুটিতে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড। এরপর অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের সঙ্গে মাত্র ১৮ ওভারে ৮০। অপর প্রান্তে সঙ্গীরা সাজঘরে ফিরলেও টেইলর ছিলেন অবিচল। অসি বোলারদের চোখের জল, নাকের জলে এক করে ছেড়েছেন তুখোড় এই উইলোবাজ। ৩০৮ বলে ৩৪ চারের সাহায্যে ২৩৫ রান নিয়ে ব্যাটিং করে যাচ্ছেন টেইলর। নেই কোন ছক্কা। বাউন্ডারি দেখেই বোঝা যায় তার ইনিংস কতটা ‘ক্ল্যাসিক্যাল’।

৬৬তম টেস্টে এটি তার ১৩ নম্বর সেঞ্চুরি এবং ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ রান ছিল অপরাজিত ২১৭Ñ ডুনেডিনে ২০১৩ সালে করেছিলেন অতিথি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। মজার বিষয়, ওই সিরিজের আগের মৌসুমেই তাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে নাটকীয়তা কম হয়নি। ক্ষোভে-দুঃখে অবসরের চিন্তাটাও নাকি মাথায় এসেছিল। তখন এমন খবরই চাউর হয়। অবসর নেননি, জবাবটা দিয়েছেন ব্যাটে। হাঁকিয়েছেন জীবনের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। এছাড়া টেইলরের টেস্টে দেড় শতাধিক রানের ইনিংস রয়েছে দুটি। ১৫৪* ও ১৫১। আগের ডাবলের সঙ্গে এবারও কিছুটা মিল আছে। বিশ্বকাপ থেকে ব্যাট হাতে ফর্মটা তার ভাল যাচ্ছিল না। তার ওপর গত জিম্বাবুইয়ে সফরে ইনজুরিতে পড়েন। অনেকে ভেবেছিলেন টেইলরের ক্যারিয়ারই বুঝি শেষ হতে চলেছে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী কিউই ব্যাটসম্যান বলেছিলেন ঠিকই ফিরে আসবেন তিনি।

জিম্বাবুইয়ে সফরে হারারেতে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে অনুশীলনে সতীর্থ ইশ সোধির বল মোকাবেলা করতে গিয়ে কুচকিতে আঘাত পেয়েছিলেন। ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় টি২০ সিরিজ মিস করেন তিনি। ডানহাতি উইলোবাজকে ছোট্ট একটা অপারেশন করাতে হয়। গত অক্টোবর পর্যন্ত একটি বল মোকাবেলায়ও ডাক্তারের নিষেধ ছিল। অথচ ফিরলেন দুর্দান্ত প্রতাপে। ইনজুরি সত্ত্বেও টেইলরের আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি ছিল না। ‘যে কোন সময়েই আপনার একটা আঘাত লাগতে পারে। করাতে হতে পারে অস্ত্রোপচার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা যে কোন সময় ঘটতে পারে। আমার লক্ষ্য ছিল পুনরায় আঘাত না পেতে অধিকতর সতর্ক হওয়া। অল্প সময়ে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়েছে।’ বলেন টেইলর।