২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব এ্যাথলেটিকসে সাময়িক বহিষ্কার রাশিয়া

  • নিরপরাধ এ্যাথলেটদের শাস্তি না প্রদানের দাবি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবশেষে এ্যাথলেটিকস থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ হল রাশিয়া। অলিম্পিকসহ যে কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাময়িকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে না দেশটির এ্যাথলেটরা। বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থা ‘ওয়াডা’র সুপারিশেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক এ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (আইএএএফ)। এর ফলে আগামী বছর ব্রাজিলের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত রিও অলিম্পিকে রাশিয়ার এ্যাথলেটরা অংশগ্রহণ শঙ্কায় পড়ে গেল। এ্যাথলেটদের মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও আইএএএফ-এর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান না দেখালে এই সাময়িক বহিষ্কার আরও মারাত্মক হতে পারে বলে হুমকিও দিয়ে রেখেছে সংস্থাটি।

কয়েকদিন আগেই বোমা ফাটানোর মতো খবর দেয় বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থা ‘ওয়াডা’। তারা জানায়, রাশিয়ার অনেক এ্যাথলেটই নিয়মিত মাদক গ্রহণ করেন। আর তারা এটা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। দেশটির এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও এই মাদককা-ে জড়িত। ওয়াডা’র হাতে এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ আছে বলেও জানায় তারা। এমনকি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তারা বিশ্ব এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কাছেও জমা দেয়। সেইসঙ্গে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করার দাবি করে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়ার এ্যাথলেটিক ফেডারেশন। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এ বিষয়ে নরম সুরে কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি করে জানিয়ে দেন যে, কেউ অপরাধ করলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেয়া যেতে পারে। কিন্তু দলীয়ভাবে সবাইকে শাস্তি দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক এ্যাথলেটিকস ফেডারেশন ‘ওয়াডা’র সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয় যে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ্যাথলেটরা এই অপরাধ করেছে। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসে আন্তর্জাতিক এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সদস্যরা। সেখানে ২৩ সদস্যের ২২ জনই রাশিয়ার এ্যাথলেটকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দেন। এর ফলশ্রুতিতেই রাশিয়ার এ্যাথলেটদের যে কোন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না রাশিয়ার এ্যাথলেটরা। নিষিদ্ধ ডোপিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পাঁচজন এ্যাথলেট এবং পাঁচজন কোচকে আজীবন নিষিদ্ধ করারও সুপারিশ করা হয়েছে। রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করার বিষয় নিয়ে ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হবে বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে পরবর্তী অলিম্পিকের জন্যও। এর ফলে আগামী বছর ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিতব্য সামার অলিম্পিক গেমসে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের ওয়ার্ল্ড রেস ওয়াকিং কাপ ও বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে রাশিয়া। স্বাধীন তদন্ত কমিশন ৩২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে জানায়, ‘রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায়’ নিষিদ্ধ মাদক নিয়ে থাকেন রাশিয়ার এ্যাথলেটরা। যার কারণে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক বিশ্ব দরবারে কলুষিত হয়েছে। প্রতিবেদনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণা, গোপনীয়তা এবং অর্থের বিনিময়ে ডোপিং পরীক্ষার নমুনা ধ্বংসের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়াডা কর্মকর্তাদের রাশিয়া সফরের কয়েকদিন আগে ১৪১৭টি নমুনা নষ্ট করেন মস্কো পরীক্ষাগারের প্রধান গ্রিগোরি রোডচেনকোÑ এমনটি তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

তবে অনেক নিরপরাধ এ্যাথলেটই এই সমস্যা দ্রুতই সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে পল ভোল্টের রানী এলিনা ইসিনবায়েভা অন্যতম। ৪০০ মিটারে দৌড়বিদ রাদেল কাশেফ্রাজোভও জানিয়েছেন, সাময়িক বহিষ্কার হওয়ার পরও অনুশীলন চালিয়ে যাবেন তিনি। এই বহিষ্কার অনুশীলনে মোটেও প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।