২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সান্ত্বনার জয় ॥ দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ ড্র

  • বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারাল জিম্বাবুইয়ে

মিথুন আশরাফ ॥ বছর শুরু হয়েছে জয় দিয়ে। কিন্তু শেষটা আর জয় দিয়ে হল না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় দিয়ে ২০১৫ সালটি শুরু করেছিল বাংলাদেশ। রবিবার জিম্বাবুইয়ের কাছে ৩ উইকেটে হেরে বছরটি শেষ করল মাশরাফিবাহিনী। এ জয়ে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে ১-১ সমতাও আনল জিম্বাবুইয়ে। এক নেভিল মাদজিভাই জিতিয়ে দিলেন জিম্বাবুইয়েকে।

বাংলাদেশ ১৩৫ রান করার পর শেষদিকে ম্যাচে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। শেষ ওভারে জিততে ১৮ রান দরকার লাগে জিম্বাবুইয়ের। এ রানই তুলে ফেলে। নাসির হোসেন বল করতে আসেন। একা মাদজিভাই সবকটি রান নিয়ে নেন! ১৩৬ রান করে ম্যাচও জিতে যায় জিম্বাবুইয়ে।

রবিবার বছরের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দুটি পরিবর্তন নিয়ে নামে বাংলাদেশ। প্রথম টি২০’র একাদশ থেকে ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ও স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকে বাদ দেয়া হয়। লিটনের পরিবর্তে ইমরুল কায়েসকে ও জুবায়েরের পরিবর্তে আরাফাত সানিকে নেয়া হয়। জিম্বাবুইয়ে প্রথম টি২০’র একাদশই রেখে দেয়। পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি পুরো সিরিজ জুড়ে দলের সঙ্গে থাকলেও একাদশে খেলার সুযোগ আর পেলেন না। প্রথম টি২০তে তামিমের সঙ্গে এনামুল হক বিজয় ওপেনিং করেন। এবার তামিমের সঙ্গে ইমরুল নামেন। প্রথম ম্যাচে তামিম ভাল খেললেও এবার দ্রুতই আউট হয়ে যান। ২১ রান করে মাদজিভার বলে লং অনে চিগুম্বুরার হাতে ধরা পড়েন তামিম। দলও তখন খুব বেশি রান করতে পারেনি। তখন দলের স্কোরবোর্ডে ৩৪ রান যুক্ত থাকে।

প্রায় চার বছর পর টি২০তে খেলতে নেমে ইমরুলও (১০) খুব বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারেননি। উইলিয়ামসের চমৎকার ক্যাচে দলের ৩৫ রান হতেই সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। আর ২৪ রান যোগ হতেই মুশফিকুর রহীমও (৯) যখন আউট হয়ে যান তখন দল বিপত্তিতেই পড়ে যায়। ১০ ওভারে গিয়ে ৬৯ রান করে বাংলাদেশ। ১০০ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করতে ৮৯ বল লাগে। ১৫ ওভারে গিয়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১০২ রান যোগ হয়। বিজয় ও সাব্বির রহমান রুম্মন মিলে বিপত্তি দূর করেন। কিন্তু দল ১০০ রান করেছে তা আর দেখার সৌভাগ্য হয়নি সাব্বিরের। ৯৮ রানে আউট হয়ে যান ১৭ রান করা সাব্বির। বিজয় ঠিকই উইকেট আঁকড়ে থাকেন। কিন্তু আর কোন ব্যাটসম্যানই হাল ধরতে পারেননি। ১২২ রানের মধ্যে ৭ উইকেটের পতন ঘটে যায়। নাসির হোসেন (৩), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৮) ও মাশরাফি বিন মর্তুজা (০) আউট হয়ে যান। আর ৮ রান যোগ হতেই আরাফাত সানিও (৫) শট খেলতে গিয়ে আউট হন। কোন উপায়ও ছিল না। এক ওভার বাকি থাকে। এমন সময়ে শট খেলতেই হবে। ১৯ ওভারে গিয়ে দল ১৩০ রান করে। তবে বিজয় ঠিকই তখনও উইকেটে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আর অপরাজিত থাকতে পারেননি বিজয়। সেই সঙ্গে অর্ধশতকও করতে পারেননি। ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ৪৭ রান করে আউট হয়ে যান বিজয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশও ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে জেতার জন্য যে এ রানই যথেষ্ট তা বোঝাই গেছে। শেষ পর্যন্ত তাই ধরা পড়েছে। শুরুতেই ৭ রানের সময় সিকান্দার রাজা (৫) ও শন উইলিয়ামসকে (০) আউট করে দেন পেসার আল আমিন হোসেন। টানা দুই বলে দুটি উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের আশা জাগান। কিন্তু তা পূরণ হয়নি। তবে ৩৩ রানের মধ্যেই জিম্বাবুইয়ের আরও ২টি উইকেটের পতন ঘটে। এবার চাকাবভাকে (৪) মুস্তাফিজুর রহমান আউট করে দেন। আর এরভিন (১৫) রানআউট হয়ে যান। তখন মনে হচ্ছিল জিম্বাবুইয়ে ১০০ রানও করতে পারবে না। কিন্তু ওয়েলার ধামাকা আবারও দেখা যায়। সেই সঙ্গে এদিন লুক জঙ্গেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশকে হারানোর দিকেই এগিয়ে যান। ৫৫ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন। ৯৪ রানে গিয়ে ৩৪ রান করা জঙ্গেকে আউট করে দেন আল আমিন। জুটি ভাঙ্গে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ হারার যে শঙ্কা তৈরি হয় তা খানিক দূর হয়। ২৭ বলে তখন জিততে জিম্বাবুইয়ের ৪২ রান দরকার।

২৪ বলে গিয়ে যখন জিততে ৩৭ রান লাগে, এমন সময়ে ১৭তম ওভারটি করতে আসেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওভারটিতে মাত্র ৩ রান দেন। সেখানেই বাংলাদেশ জয়ের সুবাতাস পায়। ১৮ বলে জিততে তখন জিম্বাবুইয়ের ৩৪ রান লাগে। তবুও ভয় থাকে। ওয়েলার যে উইকেটে থাকেন। ১৮তম ওভারে ১০ রান নিয়ে নেয় জিম্বাবুইয়ে। ১২ বলে জিততে ২৪ রান লাগে। এমন সময়ে ১৯তম ওভারটি করতে আসেন মুস্তাফিজ। ৩ বলে ৫ রান দেন। চতুর্থ বলটিতে গিয়ে মাদজিভাকে আউট করে দেন। কিন্তু ‘নো’ হওয়াতে আউট বাতিল হয়। চরম উত্তেজনার মুহূর্ত তৈরি হয়। শেষ ওভারে জিততে জিম্বাবুইয়ের লাগে ১৮ রান। মাশরাফি, আল আমিন, মুস্তাফিজ, আরাফাতের ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায় নাসিরকেই বল করতে দিতে হয়। নাসির প্রথম বলেই ওয়েলারকে (৪০) আউট করে দেন। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দেন মাদজিভা। ৪ বলে জিততে ১২ রান লাগে। তৃতীয় বলে ২ রান নেয় জিম্বাবুইয়ে। জিততে ৩ বলে ১০ রান লাগে। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দেন মাদজিভা। ২ বলে জিততে তখন ৬ রান লাগে। পঞ্চম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দেন মাদজিভা। একাই ৫ বলে ১৮টি রান নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৯ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৮ রান করে অপরাজিতও থাকেন মাদজিভা। সেই সঙ্গে জিম্বাবুইয়ে ম্যাচও জিতে যায়। সিরিজে প্রথমবার ম্যাচ জিতে। খালি হাতে অন্তত দেশে ফিরতে হচ্ছে না জিম্বাবুইয়েকে।