২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে এনামুলের ব্যাটে রান

মোঃ মামুন রশীদ ॥ বিশ^কাপের দলেও ছিলেন। খেলেছিলেন দুটি ম্যাচ। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে আঘাত পেয়ে সেই যে ছিটকে পড়লেন আর ফেরা হলো না। কোন ফরমেটেই আর জায়াগা হচ্ছিল না ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের। অবশেষে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে দলে ফিরলেন সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে। কিন্তু একাদশে জায়গা হয়নি। কিন্তু টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচেই খেলতে নামলেন। দুর্ভাগ্য, রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে। মাত্র ১ রান করতে পেরেছিলেন। তবে দ্বিতীয় টি২০-তে নিজের জাত চেনালেন এনামুল। দলের রক্ষাকর্তা হয়ে গেলেন তিনিই। টি২০ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আবারও সেই রানআউটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন এনামুল। তবে এর আগেই ৫১ বলে ৪৭ রান করে তিনি দলকে একটি লড়াই করার পুঁজি গড়তে সহায়তা করেছেন। দেশের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং গড় এ ডানহাতি ওপেনারেরই। সেটাকে আরও বাড়িয়ে নিলেন এদিন।

গত বছর ২৭ আগস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সর্বশেষ টি২০ খেলেছিলেন এনামুল। ওই ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন ১৯ রান করে। গত বছর টি২০ বিশ^কাপে দেশের পক্ষে ধারাবাহিক পারফর্মার ছিলেন এনামুল। নিয়মিত রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। কিন্তু বিশ^কাপে ইনজুরিটাই কাল হয়েছে। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বিশ^কাপে প্রথম দুই ম্যাচে ২৯ রানের দুটি ইনিংস খেলেন। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে আঘাত পান তিনি। ইনজুরি এবং নবাগত সৌম্য সরকারের দারুণ নৈপুণ্য কোনভাবেই সুযোগ করে দিচ্ছিল না দলে ফেরার। এমনকি এবার জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে দলেও ছিলেন না। যদিও সৌম্য ইনজুরির কারণে দলে নেই। তবে সাকিব এক ম্যাচ খেলে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেয়াতে সুযোগ মিললো আবার। কিন্তু একাদশে ঠাঁই হয়নি। ওয়ানডে সিরিজে দলে থাকলেও খেলেননি। কিন্তু টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচেই একাদশে ফিরলেন। নামলেন তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে। তবে দুর্ভাগ্যটা পিছু ছাড়েনি। মাত্র ১ রান করার পরই রানআউটের খপ্পরে পড়ে বিদায় নেন। নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও পেলেন না। তবে অতীতটা ভোলেনি বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক ব্যাটিং গড় এনামুলের। ১৩ টি২০ খেলে তার গড় ৩২.২৭।

রবিবার দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিটা দারুণ জমে গিয়েছিল ইমরুলের। কিন্তু এ দুজনই দ্রুত ফিরে যান। এরপর লড়াইটা একাই করে গেছেন এদিন ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা এনামুল। তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি আর কোন ব্যাটসম্যান। তবে সাবলীলভাবে খেলে গেছেন দারুণ ছন্দে এনামুল। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে ২৪ এবং চতুর্থ উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপদটা কাটিয়েছেন তিনি। একপ্রান্ত আগলে থেকে এনামুল একে একে ফিরে যেতে দেখেছেন ইমরুল, মুশফিক, সাব্বির, নাসির হোসেন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি মর্তুজা ও আরাফাত সানিদের। কিন্তু এনামুল একদিক ধরে রেখে খেলে গেছেন। সাবলীলভাবেই মোকাবেলা করেছেন জিম্বাবুইয়ে বোলারদের। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতকের দিকে। কিন্তু এদিনও রানআউটের দুর্ভাগ্য সঙ্গী হলো তার। ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে দুই রান নিতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ততোক্ষণে করে ফেলেছেন ৫১ বলে ৩ চারে ৪৭ রান। দলকে একটা ভাল অবস্থানে রেখে যাওয়ার পুরো কৃতিত্বই তার। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে আবারও ব্যাট হাতে জ¦লে উঠলেন এ তরুণ ওপেনার। নিজেকে মেলে ধরে প্রমাণ করলেন সামর্থ্য ও যোগ্যতা। টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে আর কোন ব্যাটসম্যানের গড় ৩০ নেই। এনামুল সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। ১৩ ম্যাচে ৩২.২৭ গড়ে তার রান ৩৫৫। ব্যাটিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন। ৭ ম্যাচে তিনি ২৫.৪২ গড়ে করেছেন ১৭৮ রান।