১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যা ॥ স্বামীর দাবি নিখোঁজ

  • স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ১৫ নবেম্বর ॥ যৌতুকের দাবিতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ঘড়িয়া গ্রামের পারুল আক্তার নামের গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নাসির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে। পারুলের বাবা কুদ্দুছ মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। কিন্তু মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নাসির উদ্দিন বাবু ও একই এলাকার কুদ্দুছ মিয়ার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে পারুল আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারিবারিকভাবে অসম্মতি জানালে তারা দুইজনে ২০১২ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন। পারুলকে না পেয়ে তার বাবা কদ্দুছ মিয়া থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন নববিবাহিতরা আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় কলহ। স্বামী নাসির উদ্দিন যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত পারুলের ওপর চালায় নিষ্ঠুর, নির্মম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী পারুল গ্রামে চলে আসে। নাসির গ্রামে এসে তার স্ত্রীকে ফেরত নিতে চাইলে পারুল অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে একাধিকবার গ্রাম্যসালিশে অত্যাচার না করার শর্তে মীমাংসা করে পারুলকে নাসিরের কাছে তুলে দেয়া হয়। কিছুদিন পর মেয়ে পারুলকে দেখার জন্যে কুদ্দুছ মিয়া আশুলিয়ায় গেলে তাকে না পেয়ে ফিরে আসেন। তিনি আবার গত ২৮ জুলাই ভাড়াবাসায় গিয়ে নাসির উদ্দিনকে পারুলের কথা জিজ্ঞেস করলে সে জানায় পারুল বাসায় নেই। কোথায় গেছে, কবে গেছেÑ এসব প্রশ্নের কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় কুদ্দুছ মিয়া আশপাশে বিভিন্ন স্থানে মেয়ের খোঁজখবর নেন। কিন্তু পারুলের কোন হদিস না পেয়ে কদ্দুছ মিয়া গত ৪ আগস্ট টাঙ্গাইল কোর্টে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পারুলের স্বামী নাসির উদ্দিন বাবু, শাশুড়ি অজুফা খাতুন এবং আব্দুল হালিমকে আসামি করেন। মামলা করার পর থেকেই নাসির উদ্দিন পলাতক রয়েছে।

পারুলের বাবা কুদ্দুছ মিয়া বলেন, ‘ওরা আমার মেয়েরে মাইরা ফালাইছে। আবার হত্যাকারীরা বাঁচার জন্য আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ জিডি করেছে।’ এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার তৎকালীন এসআই ছলিম উদ্দিন প্রতিবেদনে পারুল নিখোঁজ হয়েছে তথ্য প্রদান করলে বাদী নারাজি আবেদন করেন। অভিযোগ আছে, এসআই ছলিম বাদীর কাছে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করে। এরপর মামলার তদন্তের দায়িত্ব আদালত ডিবির কাছে হস্তান্তর করলে ডিবির এসআই আমিনুল ইসলাম একই ধরনের প্রতিবেদন প্রদান করেন। ফলে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছে বাদীপক্ষ।

এর আগে নাসির পাশের বাড়ির কলেজ পড়ুয়া আরেকটি মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। বিয়ের দাবিতে মেয়েটি নাসিরের বাড়িতে গিয়ে উঠলে নাসির অস্বীকৃতি জানিয়ে মেয়েকে তাড়িতে দেয়। পরে ওই মেয়ে অপমান সইতে না পেরে ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি সে সময় ধামাচাপা দেয়া হয়। এসব ঘটনায় গ্রামবাসী লম্পট খুনী নাসিরের শাস্তি দাবি করেছেন।