১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাতা ঝরা দিনের প্রসাধনী

  • এইচএসএম তারিফ

সৌরভ বড়ুয়া বেজায় ব্যস্ত মানুষ। সকাল ন’টায় ঘর ছেড়ে যান অফিসে, ফিরে আসেন সন্ধ্যার পর। পুরানা ঢাকার বেসরকারী এক ব্যাংকে সিনিয়র কর্মকর্তা তিনি। প্রতিদিন অফিসে বেশ ব্যস্ততার মাঝেই কাটাতে হয় তাকে। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার ক্লায়েন্টকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করতে হয়। সঠিক ও উত্তম সেবা প্রদানে থাকতে হয় সুস্থ ও সুন্দর মানসিকতা। আর নিজেকে স্মার্ট হিসেবে সকলের নিকট তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ষড়ঋতুর এদেশে প্রতিটি ঋতুতেই পরিলক্ষিত হয় বেশ কিছু পরিবর্তন। তারই ধারাবাহিকতায় শীতকালে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কয়েকদিন পূর্বেই আমাদের চারপাশে মৃদু শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতকালে নিজেদের ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কিছু প্রসাধনীসামগ্রী ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে যায়। এ উদ্দেশ্যেই সৌরভ লোশন ও পেট্রোলিয়াম জেলি ক্রয়ের জন্য ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে রওনা দিচ্ছে। শীত যেহেতু এসেই পড়ছে। সুতরাং এ সময়েও ফিট থাকার উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের মৌসুমি জলবায়ুর দেশে বিভিন্ন ঋতুর দেখা মেলে। আর ঋতুর ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রসাধনীসামগ্রী ব্যবহার করতে হয়; যা আমাদের ত্বক ও সৌন্দর্যকে বেশ ফুটিয়ে তোলে। শীতকালের উপযোগী অসংখ্য প্রসাধনীসামগ্রী অধিকাংশ শপ ও কসমেটিকস দোকানেই শোভা পেয়েছে।

লোশন : শীতকালে লোশন ব্যবহারের পরিমাণ অসম্ভব বৃদ্ধি পায়। এ সময় শীতের তীব্রতার কারণে অনেকের ত্বক ফেটে যায় এবং সারাদিন সাদা বর্ণ ধারণ করে; যা দেখতেও কুৎসিত। বাজারে কিছু লোশন রয়েছে; যার মূল্য সকলের নাগালেই। ভ্যাসলিন লোশন ৩০০ মিলির মূল্য ২৭০ টাকা, ২০০ মিলি ১৫০ টাকা এবং ১১০ টাকায় ১০০ মিলি। রয়েছে ডাভ লোশন; যার ৪০০ মিলি পড়বে ৩৪০ টাকা, ২০০ মিলি ২৪০ টাকা। ৪০০ মিলি নেভিয়া লোশন ৩৮০ টাকা ও ২০০ মিলির মূল্য ২৯০ টাকা, ব্রো লোশন ২৫০ টাকায় ৩০০ মিলি, ১৮০ টাকায় ২০০ মিলি ও ১০০ টাকায় ১০০ মিলি মিলবে। ইউনিলিভার কোম্পানির রয়েছে পনড্ লোশন। যা ২০০ মি.গ্রার মূল্য ১২৫ টাকা এবং ১০০ মি.গ্রার মূল্য পড়বে ৭৫ টাকা। এ ঋতুতে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় হলো শিশুদের ত্বকের প্রতি খেয়াল রাখা। এদিক বিবেচনা করে স্কোয়ার কোম্পানি নিয়ে এসেছে মেরিল বেবি লোশন। ২০০ মি.গ্রা মেরিল বেবি লোশনের মূল্য ১৭০ টানা, ১০০ মি.গ্রা ৯৫ টাকা এবং ৫০ মি.গ্রা ৫৫ টাকা।

ক্রিম : শীতকালে লোশন ব্যবহারের পাশাপাশি ক্রিমও বেশ জনপ্রিয়। অনেকে ত্বকের সমস্যার কারণে ক্রিম মেখে নেন। কারণ লোশন তেমনভাবে সুবিধা প্রদানে সম্ভব হয় না। এতে বিকল্প প্রসাধনীস্বরূপ ক্রিম গ্রহণ করে। এদেশে ক্রিমগুলো সাধারণত স্থানীয় আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুসরণ করে তৈরি হয়ে থাকে। মার্কেটে অনেক কোম্পানির ক্রিম লক্ষ্য করা যায়। এগুলোর মধ্যে জার্মানির নেভিয়া ক্রিম ১৫০ মি.লির মূল্য ২০০ টাকা, ৬০ মি.লি. ১৩০ টাকা ও ৩০ মি.লি. ৯০ টাকা। নেভিয়া শফট ক্রিম স্পেনের যার দাম পড়বে ২০০ মিলি ৩৬০ টাকা এবং ১০০ মিলি ২২০ টাকা। এছাড়া ডাভ ক্রিম ২২০ টাকায় মিলবে ১৫০ মি.লি ও ১০০ মি.লি ১৭০ টাকাতে। রয়েছে পনড্ কোল্ড ক্রিম। ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ১০০ মি.লি ২২০ টাকা, ৬০ মি.লি ১৫০ টাকা। লোশনের বিকল্প হিসেবে ক্রিম বেশ কার্যকর।

পেট্রোলিয়াম জেলি : শরীরে ত্বক সুরক্ষার জন্য লোশন ও ক্রিম ব্যবহার হয়। পাশাপাশি হাত ও পায়ের পরিচর্চার ক্ষেত্রেও প্রসাধনীসামগ্রী রয়েছে। এক্ষেত্রে সবার পছন্দের তালিকায় আছে পেট্রোলিয়াম জেলি। অনেকে পথেঘাটে চলাচলের সময় ছোট্ট আকারের পেট্রোলিয়াম জেলি সঙ্গে রেখে দেয়। এ প্রসাধনীসামগ্রীটির মূল্য তুলনামূলক কম। ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি ২৪০ মি.গ্রা সাইজের মূল্য ৩০০ টাকা, ১২০ মি.গ্রা ২২০ টাকা ও ৬০ মি.গ্রা ৯০ টাকা। এ পণ্যটি দুবাই থেকে আমদানিকৃত। আরও রয়েছে জনসন পেট্রোলিয়াম জেলি। যা পড়বে ১০০ মি.গ্রা ১৫০ টাকা। দেশের স্কয়ার কোম্পানির মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলিও রয়েছে। অন্য পণ্যের তুলনায় মূল্য বেশ কম। ১০০ মি.গ্রামের মূল্য ৭৫ টাকা, ৫০ মি.গ্রা ৪০ টাকা এবং ২০ মি.গ্রা ১৫ টাকা। এ প্রসাধনী হাত ও পায়ের পাতা বেশ সুরক্ষিত রাখে।

গ্লিসারিন : এ ঋতুতে দেশে গ্লিসারিন ব্যবহার খুব লক্ষণীয়। চাহিদার কথা বিবেচনা করে দোকানে বেশ সংখ্যক এ প্রসাধনীসামগ্রী ঠাঁই পায়। জনপ্রিয় গ্লিসারিনের মধ্যে রয়েছে মেরিল। ১০০ মি.লি মেরিল গ্লিসারিনের দাম ৭৫ টাকা ও ৫০ মি.লি ৪৫ টাকা। কিউট ১০০ মি.লি গ্লিসারিন ৭০ টাকা এবং ৫০ মি.লি ৪০ টাকা।

তেল : মানুষ দেহের প্রয়োজনে বিভিন্ন উপায়ে তেল ব্যবহার করে। প্রায় মানুষ চুলের পরিচর্যায় তেল তুলে নেয়। তবে শীতের দিনে ব্যাপক হারে অলিভ ওয়েল দেখা মেলে। স্পেনের জঝ কোম্পানির ২৫০ মি.লি অলিভ ওয়েল তেলের মূল্য ২৭০ টাকা, ১৭৫ মি.লি ২০০ টাকা এবং ১০০ মি.লি ১৫০ টাকা। এছাড়া লুসি অলিভ ওয়েল ১৫০ মি.লির মূল্য পড়বে ২৩০ টাকা।

দীর্ঘদিন ত্বক এক আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার মাঝে হঠাৎ করে শীতে পরিবর্তন হতে শুরু করে। এ সময় ত্বক অনেকটাই রুক্ষ হতে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে ত্বক এত বেশি রুক্ষ হয় যে ত্বকই ফেটে যায়। তাই এ সময় ত্বকের যতেœ বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। যার মধ্যে প্রসাধনী ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু প্রসাধনী ব্যবহারে কিছু লক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। নিজের ত্বকের সঙ্গে যে সামগ্রী বা পণ্যটি মানাবে তা ব্যবহার করতে হবে। নতুবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে সংগ্রহ করা শ্রেয়। শীতকালে প্রসাধনীসামগ্রীর চাহিদা প্রশ্নে ইত্যাদি কসমেটিকস এ্যান্ড গিফট কর্নারের কর্ণধার মো. ইমাম জানান, অন্যান্য ঋতুতে প্রায় সকলেই প্রসাধনী ব্যবহার করে এমন নয়, কিন্তু শীতকালে সবাই তা করে থাকে। এ ঋতুতে ত্বক রুক্ষ ভাব ধারণ করায় প্রসাধনীসামগ্রীর চাহিদা অনেক বড়ে যায়।

নিজ ত্বকের যতেœ উপযোগী প্রসাধনীসামগ্রী ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে ভেষজ উপাদানে তৈরি কসমেটিকস ও ওষুধ ব্যবহার সর্বোত্তম, যা কোন প্রকার চিন্তার বিষয় হবে না।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : সুজানা