১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যারিয়ারে উন্নতি চাইলে কিছু অভ্যাস ছাড়ুন

  • মু. আব্দুল্লাহ আলআমিন

চাকরিতে ঢোকার পর প্রথম দিকে অনেক ভুল হয়ে থাকে। কিছু কিছু ভুল অভ্যাসে পরিণত হয়। অনেকদিন কাজ করার পরও রয়ে যায়। যা একজনের প্রফেশনাল ইমেজের জন্য ইতিবাচক নয়। আপনি যত মেধাবী বা করিতকর্মাই হন না কেন এসব ত্রুটি সংশোধন না করলে আপনার উপরে ওঠা যতটা সহজে মনে করছেন তা হবে না।

অসাক্ষাতে নিন্দা করা

কারো অসাক্ষাতে নিন্দা করা একটি ভয়ানক বাজে অভ্যাস। অনেকে ইচ্ছা অনিচ্ছায় এ কাজটি করে থাকে। একটি করার অভ্যাস যদি আপনার থাকে আজই বদলানোর চেষ্টা শুরু করুন। আপনার সহকর্মী অনুপস্থিতিতে তার বদনাম করে আপনি যতটা ক্ষতি করবেন তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করবেন আপনার নিজের। সহকর্মীরা আপনাকে খারাপ জানতে শুরু করবে। তারা আপনার কাছে অনেক ব্যক্তিগত কথাই আর শেয়ার করবে না, পাছে আপনি তাদের বদনাম করেন। মনে রাখবেন আপনার সহকর্মীদের যেমন ভুল হয় তেমনি আপনারও ভুল হয়। তাই আপনার ভুলগুলো নিয়ে কেউ আড়ালে সমালোচনা করলে কি আপনার ভাল লাগবে ?

আরেকজনে কৃতিত্বে

ভাগ বসানো

আপনি যদি আরেকজনের কৃতিত্বকে নিজের বলে চালানোর চেষ্টা করেন সেটি কিন্তু আপনার মানসিক দুর্বলতাই তুলে ধরবে। তার কৃতিত্ব চুরি করবেন সে যখন এটি জানবে তখন কি পরিমাণ হতাশ হবে সেটিও চিন্তা করুন। বিষয়টি ছোট হোক বড় হোক আপনি তার কাছে ছোট হবেন। অন্যরা বুঝবে আপনার নিজের কাজ করার বা টিমকে কিছু দেয়ার সামর্থ নেই। কেবল পরের ধানে পোদ্দারি করাই আপনার কাজ।

সুযোগ পেলেই নিজের ঢোল বাজানো

সুযোগ পেলেই নিজের ঢোল বাজান অনেকের অভ্যাস। সবকিছুর মধ্যে কেবল নিজের অবদান দেখতে পাওয়া অন্যেরটা না দেখা এক রকম অন্ধত্ব। কাজ একাকী করা হোক বা দলবদ্ধভাবে, সবারই কমবেশি অবদান থাকে। কাজেই শুধু নিজের বাহাদুরী করা বা অন্যদের হেয় করা কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না। সত্যি সত্যি আপনি যখন প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় কিছু করবেন তখন অন্যরা আপনার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেবে না।

জুনিয়রদের প্রতি অতিরিক্ত

কর্তৃত্ব দেখানো

জুনিয়র সহকর্মীরা আপনার সহানুভূতি পাওয়ার দাবি রাখে। স্বাভাবিক পরিবেশে তারা পেয়েও থাকে সেটা। কিন্তু কোন কোন প্রতিষ্ঠানে সিনিয়ররা অতিরিক্ত কর্তৃত্ব পরায়ন হন। জুনিয়রদের তারা হিসাবের মধ্যে ধরতে চান না। সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে গড়ে ওঠে অদৃশ্য প্রাচীর। পরিণামে সিনিয়ররা জুনিয়রদের কাছ থেকে সহযোগিতা হারান। উৎপাদনশীলতা কমে প্রতিষ্ঠানের। প্রকৃত জেষ্ঠত্ব কেবল বয়সে নয় কাজে দক্ষতা ও সুন্দর আচার ব্যবহারের মধ্যে।

অন্যদের মানসিকভাবে কাবু করার চেষ্টা

কর্মক্ষেত্রে অন্যদের মানসিকভাবে কাবু করার চেষ্টা করে অনেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। মানসিকভাবে সবার সমান শক্তি সমান নয়। এছাড়া অনেকের অনেক বিষয়ে মানসিক দুর্বলতা থাকে। এতে আঘাত দিয়ে বা এগুলো পুঁজি করে সুবিধা আদায় করার অভ্যাস যদি আপনার থাকে আজই ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করুন। আরেকজনকে মানসিকভাবে আঘাত দেয়ার অর্থ নিজের মানসিক নীচতা ও দীনতা প্রকাশ। কাজটি ক্যারিয়ার উন্নয়নের সহায়ক নয়।

অনেকে আর্থিক বা পারিবারিক সমস্যার কথা বারংবার মনে করিয়ে দিয়ে সহকর্মীদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হওয়র ঝুঁকিও রয়েছে। প্রথম দিকে সহযোগিতা পেলেও পরে তারা পিঠটান দিতে পারে।

অতিরিক্ত তোষামোদী করা

কাজ করতে গেলে ভুল হতেই পারে, সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই নেয়া উচিত। কিন্তু আপনি যদি সহকর্মীদের ভুলের জন্য সবসময় তাদের পেছনে লেগে থাকেন অথবা গোপনে এইসব ভুলচুকের খতিয়ান তৈরি করেন এই মনে কওে যে, এটি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা আপনার ওপর তুষ্ট থাকবেন তবে তা এখনই বাদ দিন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আপনার ওপর সন্তুষ্ট হন বা না হন সহকর্মীদের কাছে আপনি যে বিরাগভাজন ও তাদের আস্থা হারাবেন তা হলফ করেই বলা যায়।

অন্যদিকে বেশি তোষামুদিও করা ঠিক নয়। এটি আপনার যোগ্যতাকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করবে। সহকর্মীদের কাছেও ধীরে ধীরে অপ্রিয় হতে হবেন। তাই কারও অতিরিক্ত তোষামোদীকরবেন না।

সময় সম্পর্কে সচেতন না থাকা

সময়ের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে, একথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কয়জন পারে সময়মতো কাজ শেষ করতে। আলস্য ও বেশি কাজ করার অভ্যাস দুটোই ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর। আলসেমী করে সময়মতো কাজ শেষ না করার সমস্যাটি আমরা বুঝি। কিন্তু অতিরিক্ত কাজ করা কেন অনুচিত ? প্রথমত বেশি কাজ করলে সব কাজ আপনি ডেডলাইন ধরে শেষ করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত এতে অলস সহকর্মীদের আরও আলস্য করার সুযোগ দেয়া হয়। এজন্য করণীয় কাজ ঠিকভাবে করেন, সময় অনুযায়ী শেষ করেন। সময়ের বাজেট ঠিক করে নিন।