২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনের পরিকল্পনা

  • শান্তি আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে প্যারিস হামলা

রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শনিবার সিরিয়ায় আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভাগ্য কী হবে, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এখনও তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। খবর ইয়াহু নিউজের।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বন্দুকধারী ও আত্মঘাতী হামলাকারীদের হামলায় ১২৭ জন নিহত হওয়ার একদিন পর ১২টির বেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনিয়র কর্মকর্তারা সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ অবসানে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ইতোমধ্যে প্যারিসের হামলাকারীদের ‘নির্দয় জবাব’ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে জাতিকে আজ অবশ্যই সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে ফ্রান্স। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত শনিবারের এই বৈঠকে প্যারিসের হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মুহূর্ত নীরবতা পালনের পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও সিরিয়াবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কেরি বলেন, এই ধরনের হামলা শুধুু সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তার দেশের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এখন সময় সিরিয়ার রক্তপাত বন্ধের। এদিকে কূটনীতিকরা বলেছেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বাদ দিয়ে আসাদবিরোধী কোন দলগুলোকে সিরীয় শান্তি আলোচনায় যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে, তা নিয়ে ভিয়েনায় আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু প্যারিস হামলার পর এই আলোচনার মোড় ঘুরে গেছে। এখন শুধু সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং আইএসকে কিভাবে সামরিক দিক দিয়ে পরাজিত করা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ বলেছেন, এখন আমার উপলব্ধি হচ্ছে যে, আইএসের বিরুদ্ধে লড়তে একটি কার্যকরী আন্তর্জাতিক জোটের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। রাশিয়া আসাদ বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সিরিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে পশ্চিমা শক্তিগুলো অভিযোগ করেছে, রাশিয়া আইএসের চেয়ে পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহী মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে লক্ষ্য করে বেশি সংখ্যায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। শনিবারের বৈঠকে মনে হয়েছে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আসাদের ভাগ্য নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো ও তার মিত্ররা বলেছে, আসাদকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু সিরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সমর্থন করছে রাশিয়া ও ইরান, যাতে আসাদ এতে অংশ নিতে পারেন। এ বিষয়ে কেরি বলেছেন, বাশার আল আসাদ ইস্যুতে আমাদের মধ্যে অবশ্যই মতপার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা সিরীয়দের নেতৃত্বে তাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করব, যা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর সিরীয়দের সঙ্গে সিরীয়দের আপোস এই ভয়ানক অধ্যায় বন্ধে সহায়তা করবে। এই বৈঠকে অংশ নেয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য এবং সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কসহ দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে সরকার ও বিরোধীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনাসহ সিরিয়া বিষয়ে একটি পরিকল্পনার রূপরেখা প্রণয়ন করেছে তারা।