২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ে দেড় শ’ কোটি টাকার রেলভূমি বেদখল

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ রেলের আম বাগানসহ ৮৫ শতাংশ ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের মোট ভূমির ৪৫ শতাংশের বেশি অবৈধ দখলদারদের হাতে। তিন যুগের বেশি সময় ধরে আমনুরা গোদাগাড়ী রেল পথের (২৪ কিঃ মিটার) পুরোটাই এখন অবৈধ দখলদারদের অধীন। রেলপথটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকে এর পুরোটাই জোরজবরদস্তি দখল নিয়ে বাড়িঘর, মসজিদ এমনকি স্কুলঘর করে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত রেলপথের মধ্যবর্তী এলাকায় পাকা স্থাপনাসহ ডিগ্রাম নামের রেলস্টেশন সংলগ্ন জমিতে বাড়িঘর তৈরি করে দখলদাররা বসবাস করছে ৩০ বছরের ওপরে। রেলপথের দুই ধারে ধানী জমি দখলে নিয়ে একশ্রেণীর সিন্ডিকেট হাত বদলের বাণিজ্য করছে। এমনকি ২৪ কিলোমিটার রেলপথের জমি অবৈধভাবে কেনাবেচা হচ্ছে ভিটেমাটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন যে রেলের বিশাল আমবাগান ছিল তার একটি গাছও অক্ষত নেই। সেখানে গড়ে উঠেছে বস্তি। এসব বস্তি নিয়ন্ত্রণ করছে একশ্রেণীর মাস্তান সিন্ডিকেট। তারাই ইচ্ছামতো লিজ নিচ্ছে দিচ্ছে আর টাকা পকেটে তুলছে। এ ছাড়াও এসব বস্তির পাশাপাশি গড়ে উঠেছে ৭-৮টি বড় আকারের মার্কেট। দোকানের সংখ্যা তিন শতাধিক। এ ছাড়াও রয়েছে একাধিক রেস্টুরেন্ট ও চায়ের স্টল। এর মধ্যে কিছু লোক দেখানো লিজ নিয়ে রেখেছে। যার ভাড়া বা লিজের টাকার পরিমাণ খুবই সামান্য। এছাড়া রেলের জমিকে কৃষিজমি দেখিয়ে লিজ নিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। আইনী জটিলতার কারণে দখল ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি যারা অবৈধ দখল নিয়ে দোকানপাট করেছে তাদেরও উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। রেল কর্তৃপক্ষ গত ১০ বছরে বেশ কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। আর যতবার রেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদে এসেছে ততবারই একশ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে উচ্ছেদ বন্ধের নামে নিজেদের পকেটে পুরেছে। অনেক সময়ে উচ্ছেদ চলাকালীন কোন দোকানে স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে উচ্ছেদকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। এতে অবৈধ মার্কেটের উচ্ছেদ বন্ধ হয়ে গেছে। আরেক সূত্র মতে রেল বিভাগের ভেতরই একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ দখলদারদের সহযোগিতা করছে। বর্তমানে দখল এমন পর্যায়ে গেছে যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেলস্টেশনের সান্টিং এলাকার রেলপথ দখলে নিয়ে গরু ছাগল বেঁধে রাখা কিংবা মালামালের স্তূপ রেললাইনের ওপর রেখে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এসব করছে রেলের পাশের অবৈধ দোকানদাররা। সব মিলিয়ে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশনের দেড় শ’ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল রয়েছে। ইদানিং রেলের জমির ওপর ট্রাক বাস টার্মিনাল স্থাপন করেও দখল নেয়ার চেষ্টা চলছে।

কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ

জেটি ও স্থাপনা

নির্মাণ

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস থেকে জানান, বন্দরের আওতাধীন কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে জেটি ও ডক ইয়ার্ড নির্মাণ করে মৎস্য আহরণসহ নানা ধরনের দখল কর্মকা- চালিয়ে আসছে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী। বছরের পর বছর কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার মালিকরা সিন্ডিকেট করেই নিজেদের ব্যবসা চাঙ্গা রাখছেÑ এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বন্দরের অথরাইজ বিভাগ থেকে। রিভার বেল্টের হানি ঘটিয়ে শিকলবাহা এলাকায়ও গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা।

চট্টগ্রাম বন্দরের আওতায় কর্ণফুলী নদী ও এর তীরবর্তী এলাকা। এ এলাকায় অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬ ও তৎসংশোধনী ২০০৫ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের অধ্যাদেশ ১৯৭৬ অনুযায়ী যে কোন ধরনের স্থাপনা গড়ে তুলতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের অনুমতি প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, বন্দরের ক্ষতিসাধন করে কোন ধরনের স্থাপনা তৈরিতে যে সব সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তাদের উচ্ছেদে বিভিন্ন সময়ে বন্দরের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও রাতের আঁধারে চলছে জেটি স্থাপনসহ নানা ধরনের অবৈধ দখল কর্মকা- চালিয়ে যাওয়ার অপপ্রয়াস। বন্দরের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে আইনী পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব অপরাধী বন্দর কর্তৃপক্ষের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে স্থাপনা অক্ষুণœ রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও কর্ণফুলী তীরবর্তী এলাকায় গেঁড়ে বসা এসব অবৈধ স্থাপনাকারীদের বিভিন্ন সময়ে নোটিস করা হলেও কাজ হয়নি। ফলে বন্দরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চললেও পরক্ষণেই তা পুনঃস্থাপনের ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে শুরু করে শিকলবাহা পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। যেখানেই নদী তীরবর্তী এলাকা খালি রয়েছে সেখানেই গড়ে তোলা হচ্ছে কাঁচাপাকা ঘর।

সিন্ডিকেট করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে নানা কৌশল অবলম্বন করছে অবৈধ দখলদাররা। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হানি ঘটানোর পাশাপাশি সরকারী ভূমি বেদখল হয়ে ভাড়া বাণিজ্যে মেতে উঠেছে ওই সকল সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেট কৌশলে প্রথমে কাঁচাঘর, পরে সেমিপাকা ঘর থেকে শুরু করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি। ছোট বড় এসব স্থাপনা নদীর তীরবর্র্তী এলাকা দখল করে নেয়ায় নদীর গতিশীলতা ও আয়তন কমে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত নদীর উত্তর-পশ্চিম পাড়ে কোন জায়গাই বর্তমানে আর খালি নেই। অপরদিকে, নদীর পূর্ব পাড়েও বালির মহাল থেকে শুরু করে নানা ধরনের ছোটবড় কারখানাও গড়ে তোলা হয়েছে।