২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাত খুনের আসামি নূর হোসেনের সম্পদের হিসাব চাইবে দুদক

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সাত খুনের মামলার আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে তাকে নোটিস পাঠাতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

‘খুব শিগগিরই’ এই নোটিস পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কমিশন চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান।

নূর হোসেনের বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছে। গত বছর সাত খুনের পর পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ভারতে ধরা পড়ার পর গত সপ্তাহে তাকে ফিরিয়ে এনে কারাগারে রাখা হয়েছে।

বদিউজ্জামান বলেন, আমরা তো অনেক আগেই অনুসন্ধান শুরু করেছিলাম। সে (নূর হোসেন) দেশের বাইরে ছিল বলে (সম্পদ বিবরণীর) নোটিস জারি কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। এখন যেহেতু সে দেশে আছে, সুতরাং আর কোনো সমস্যা নেই।

২০১৪ এর এপ্রিলের নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যার পর নূর হোসেন পালিয়ে গেলে ২৯ মে তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, গত দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত এই কাউন্সিলরের প্রায় আট কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য পেয়েছেন তারা।

জাতীয় পার্টির মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা নূর হোসেন পরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর তিনি যোগ দেন এই দলে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হওয়ার পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও ছিলেন নূর হোসেন।

ট্রাকচালকের সহকারী থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিশাল সম্পদ গড়ার অভিযোগ নূর হোসেনের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন থানার নথি থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে শীতলক্ষ্যার তীর দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা গড়ে তোলায় নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করে বিআইডব্লিউটিএ।

সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং নদীতীরের প্রায় ৮০০ শতাংশ জমি দখলেরও অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

ওই জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে আট-দশবার অভিযান চালানো হলেও নূর হোসেন ও তার সমর্থকদের বাধার মুখে সেসব অভিযান সফলতার মুখ দেখেনি।

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কাঁচপুর সেতুর নিচে বালু-পাথরের অবৈধ ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা আবার চালু হয়।

নূর হোসেনের নেতৃত্বে শিমরাইল-কাঁচপুরে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ সিটি করপোরেশন ট্রাক টার্মিনালে মেলার নামে জুয়ার আসর বসানো ও মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।