২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয় গত সপ্তাহে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে। শুধু ঢাকার বিদ্বৎসমাজেই নয়, গোটা দেশেই এটি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সমাজের নানা স্তরে নিন্দা ও প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়। সপ্তাহ না ঘুরতেই কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হককেও হুমকি দেয়া হয় সরাসরি ফোনে। তিনি থাকেন রাজশাহীতে। প্রশ্ন হচ্ছে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেকটা উন্নতি হলেও কেন আমরা অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারছি না?

এসব ছাড়াও নানা বিষয় নিয়ে চাপা শঙ্কা আছে, আছে দুর্ভাবনা। তবু গত সপ্তাহে ঢাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল। শিশুকালে শেখা আপ্তবাক্যটি মনে পড়ে যায়- সময় ও স্রোত কারও প্রতীক্ষায় থাকে না। নিরন্তর বয়ে চলে। সময়ের বিশ্রাম নেই। সে নির্বিকার স্বাভাবিক ছন্দে এগিয়ে চলেছে। কার্তিক চলে গিয়ে এসেছে অগ্রহায়ণ, নবান্নের কাল। আবহমান কাল ধরেই নবান্ন গ্রামবাংলার একটি লোকপ্রিয় উৎসব। একটা সময় নবান্নে গ্রামেগঞ্জে বসত পালাগান ও জারিগানের আসর। ঘরে ঘরে পড়ে যেত পিঠা ও পায়েস তৈরির ধুম। যান্ত্রিকতার এ যুগে এখন আর আগের মতো করে পালিত হয় না নবান্ন উৎসব। তবে ঢাকায় নাগরিক আয়োজনে ভিন্নতর নবান্ন উৎসব দেখি আমরা। মুক্তমঞ্চে নবান্নের আনন্দ আয়োজনে থাকে নাচ, গান ও আবৃত্তির পরিবেশনা। এসব আয়োজনে নাগরিক পরিবেশে তুলে ধরা হয় গ্রামবাংলার নানা অনুষঙ্গ। রাজধানীতে এবারও নবান্নের উৎসব ছিল উল্লেখ করার মতো। ঘটা করে একাধিক অনুষ্ঠান হয়েছে গত সপ্তাহে। সামনের সপ্তাহেও আয়োজিত হচ্ছে ‘নবান্ন উৎসব’। জাতীয় নবান্নোৎসব উদ্যাপন পর্ষদ আয়োজনে নবান্ন উৎসব উদ্যাপিত হয় রবিবার পহেলা অগ্রহায়ণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় দিনব্যাপী আয়োজন ছিল। দুইপর্বের উৎসবের শুরু হয় সকালে সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি নবান্ন উৎসবের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর ব্যাপক বিস্তারের ওপর জোর দেন। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে কৃষকের নবান্নকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। কবিতা ও গানের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরেই পালিত হয় অগ্রহায়ণের প্রথম দিন। কুড়িটিরও বেশি সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে যোগ দেয়।

হোম সিসি ক্যামেরা

গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার নিরাপত্তার জন্য নতুন করে আরও ৮০০ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গুলশান-বনানী এলাকায় বর্তমানে ১০০টি সিসি ক্যামেরা আছে। তবে ওই এলাকাগুলোয় সম্পূর্ণভাবে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য আরও ৮০০ সিসি ক্যামেরা দরকার।

মেয়র আনিসুল হক এই ৮০০ সিসি ক্যামেরা কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধ জানান একটি সভায়। উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সিসি ক্যামেরা কেনার প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের আশ্বাসও প্রদান করেন। ঢাকায় বহু কার্যালয় সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। আবাসিক ভবনগুলোয়, আরও স্পষ্ট করে বললে ঘরে ঘরে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে কিনা বহু নাগরিক নিশ্চয়ই এমনটাই ভাবছেন। একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা শোনার পর আমাদের একজনের মুখ থেকেই স্বগতোক্তির মতো বেরিয়ে এলো কথাটা- বাসাবাড়িতেও সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে নাকি!

শনিবার সন্ধ্যার ঘটনা। রাজধানীর মিরপুর এলাকা। একটি পাঁচতলা বাড়ির তেতলার কলবেল টিপল এক তরুণী, হাতে একটু বড়সড় ব্যাগ। বাড়ির বৃদ্ধা মা তখন একা ঘরে। বাড়িতে মা-মেয়ে দু’জন থাকেন। দুটো ফ্লোর ওপরে ছেলে থাকেন ছোট্ট পরিবার নিয়ে। ডোর হোল দিয়ে বয়স্কা ভদ্রমহিলাটি দেখলেন কে এসেছে। অপরিচিত হলেও আগন্তুক একজন মেয়ে দেখে তিনি দরজা ফাঁক করলেন। আগন্তুক তরুণীটি তখন কথার জালে আটকে ফেললেন তাকে। পরিচিত ও প্রিয়জন- এমন দুয়েকজনের নামোল্লেখ করে গল্প করে যেতে লাগলেন দরোজায় দাঁড়িয়েই। একসময় মা ঘরে ঢুকতে দিলেন নিজের মেয়ের বয়সী মেয়েটিকে। ‘খালাম্মা চা খাব’- এ আবদার ফেলতে পারলেন না মা। রান্নাঘরে ঢুকলেন তিনি। চা নিয়ে ঘরে ঢুকে দেখেন আলমারি ল-ভণ্ড, মেয়েটি গায়েব হয়ে গেছে। বাহাত্তর হাজার টাকা ছিল। টাকার সঙ্গে সংরক্ষিত দলিলও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্ত!

পরিবারটি স্বস্তি বোধ করছেন অন্তত এটুকু ভেবে যে, আরও ভয়ঙ্কর কিছু ঘটলেও ঘটতে পারত। টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় দেখে ফেললে কি মেয়েটি আক্রমণে যেত না? সে একা এলেও আবাসিক ভবনটির বাইরে তার সহযোগীরা কি অপেক্ষায় ছিল না? এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়ার আছে। আর সে কারণেই প্রসঙ্গটি নিয়ে লিখছি। যদি ঘরে একা কেউ থাকেন তাহলে অচেনা কাউকেই ঘরে ঢুকতে দেয়া ঠিক নয়। এটা খুবই স্পষ্ট যে, ওই বাসার বাসিন্দাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। কোন না কোনভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে ওই চক্র। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত বাড়ির দারোয়ান, গৃহকর্মী এদেরকে সন্দেহের আওতায় নিয়ে আসে। এ বাড়ির দারোয়ান কিছুকাল আগে চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। এটাও হয়ত সন্দেহ বাড়াবে। ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়ির মেয়েটি সুপার শপে শপিংয়ে গেলে একটি বিষয় খেয়াল করে দেখেছেন যে তাকে ফলো করা হচ্ছে। সুপার শপে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওই সময়ের ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা অসম্ভব নয়। কাছাকাছি কোনো ভবন, যেমন কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা থাকলে সেটাও পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। বাড়ির মা ওই দুর্বৃত্ত আগন্তুক মেয়েটির চেহারা কি ভুলে যেতে পারেন!

নতুন গ্যালারি

রাজধানীবাসী আরও একটি নতুন চিত্র প্রদর্শনশালা (গ্যালারি) পেল। গুলশান ২ নম্বরে ডিসিসি মার্কেটের দোতলায় নতুন এই গ্যালারির উদ্বোধন হলো। দেখা যাচ্ছে গুলশান ধানম-িতেই বেশি গ্যালারি। যানজটের শহরে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাওয়া যে কী ঝক্কি, তা রাজধানীবাসী মাত্রেই জানেন। পুরনো ঢাকায় কোন গ্যালারি নেই। মিরপুরে আছে কি? লাখ লাখ মানুষের মডেল টাউন উত্তরায় মাত্র একটি গ্যালারি। ছবি বিপণন যাদের পেশা তারা বাণিজ্যের জন্য মোক্ষম জায়গাটিই তো বেছে নেবেন। টিত্রকর্মের ক্রেতাদের ভেতর বড় একটা অংশ বিদেশী নাগরিক। গুলশান-বারিধারায় যাদের বেশিরভাগের বসবাস। সে বিবেচনায় নতুন গ্যালারি খুলতে হলে ওই জায়গাটা প্রাধান্য পায় বটে। অবশ্য সদ্য যাত্রা শুরু করা ‘এসপিবিএ’ গ্যালারি কর্তৃপক্ষ বলছে অন্য কথা। তরুণ শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রত্যয় নিয়ে ‘সোসাইটি ফর প্রমোশন অব বাংলাদেশ আর্ট’ যাত্রা শুরু করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী জানান, নতুন এ গ্যালারি মূলত তরুণ শিল্পীদের বিশেষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করবে। সংস্কৃতিমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ওই সদিচ্ছার প্রশংসা করেন।

বইপ্রেমীদের জন্য সুসংবাদ

পড়ুয়ারা তাদের দরকারি বই ঠিকই খুঁজে নেন। কোন লাইব্রেরী বা পাঠাগারে কোন ধরনের বা কোন বিশেষ বইটি মিলবেÑ এই তথ্য জানা খুব কঠিন কিছু নয়। আসলে পাঠের তীব্র ইচ্ছাটাই হলো আসল কথা। ঢাকা শহরে বেশ কয়েকটি পাঠাগার আছে যেগুলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বহু দুষ্প্রাপ্য বই সেগুলোর সংগ্রহে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি এদিক দিয়ে বেশ অগ্রসর। অবশ্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা শিক্ষক ছাড়া আর কেউ সেখানে সমাদর পান না। তবে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি, আগারগাঁওয়ের জাতীয় আর্কাইভ ভবনের লাইব্রেরি, বাংলামোটর মোড়ে বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র লাইব্রেরি সব ধরনের বইপিপাসুদের খুবই পছন্দের। সুখবর হলো রাজধানীতে আরও একটি পাঠাগার পাওয়া গেল। এটি শুধু পাঠাগারই নয়, সুপরিসর এক বিদ্যাপীঠ। সাড়ে পাঁচ হাজার বইয়ের এক ভাণ্ডার। অনেকেরই ধারণা লোকে বই পড়ে না। লাইব্রেরীতে যায় না। ধারণাটা ভুল। অবশ্য এটা ঠিক যে ছাত্রজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর মানুষের বই পড়ার সময় কমে যায়। যদিও ইচ্ছেটা মরে না। একজন সেদিন বললেন, তার এক বন্ধু না পড়তে পড়তে বই না পড়ার অভ্যাস করে ফেলেছেন। এখন বড়জোর বইয়ের মলাট দেখেন। বইয়ের পেছনে লেখা টেক্সটও পুরোটা পড়েন না। সত্যি বলতে কী অধ্যয়ন অভ্যাসেরই ব্যাপার। শুধু আগ্রহ থাকলেই চলে না, অভ্যেস করতে হয়, সময় বের করতে হয়। অনেক মানুষ আছেন যারা প্রতিদিনই বই পড়েন। যা হোক, যে কোনো লাইব্রেরীতে গেলে দেখা যায় সেখানে হোটেল-রেঁস্তোরায় খানাপিনা করতে যাওয়া লোকের মতো ওরকম ভিড় নেই। তবে একেবারে জনমানুষহীনও থাকে না ঢাকার কোন পাঠাগার। নতুন এই পাঠাগারটি লেখক-গবেষকদের জন্য যে বেশ উপকারী হবে তা বলাই বাহুল্য। কারণ এমন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সংগ্রহের বই নিয়ে পাঠাগারটি পরিকল্পিত হয়েছে যিনি সমাজে জ্ঞানতাপস হিসেবে স্বীকৃত। তিনি হলেন শিক্ষকদের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক। ধানম-ির রবীন্দ্রসরোবরের কাছে ৭/এ সড়কের ৬০ নম্বর বাড়িটির নাম ‘জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ’। ভবনের দোতলার প্রতিটি তাকে সাজানো বই। রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ের নানা বই। আছে অনেক দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থও। প্রতিটি কক্ষে বইয়ের তাকের পাশেই আছে বসার জায়গা। পছন্দের কোন বই নিয়ে সেখানেই পড়া যাবে। বিদ্যা অর্জনে আগ্রহী ১৮ বছরের ওপরের যে কেউ এখানকার সদস্য হয়ে এখানকার বইগুলো পড়ার সুযোগ পাবেন। এই বিদ্যাপীঠ নির্মাণ করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

প্রাণভরপুর তারুণ্যের উৎসব

প্রতি বছর নবেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আর্মি স্টেডিয়ামে কয়েক দিনব্যাপী উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে এটা সঙ্গীতপ্রেমী নাগরিকদের বার্ষিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। গত বছর বোমা মেরে আগুনে পোড়ানোর আতঙ্কের ভেতরও সফলভাবে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। ত্রিশ পঁয়ত্রিশ হাজার দর্শক-শ্রোতা প্রতি সন্ধ্যায় উপস্থিত হয়েছেন। এ বছর একই ধারায় আরও একটি উৎসব পেল রাজধানীবাসী- ফোক ফেস্টিভ্যাল বা লোকসঙ্গীত উৎসব। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানÑ মূলত তিন দেশের লোকসঙ্গীত শিল্পীরা এতে অংশ নেন। এসেছিলেন আবিদা পারভীন, পবন দাস বাউল, অর্ক মুখার্জির মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। বাংলাদেশের বেশ ক’জন শিল্পী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বিস্তারিত সংবাদ বেরিয়েছে সংবাদপত্রে। তাই এ নিয়ে বিশদ বলার কিছু নেই। শুধু বলব, এবার এমন কিছু দৃশ্য দেখলাম তাতে তারুণ্যের প্রাণস্পন্দন কিছুটা হলেও অনুভব করতে সমর্থ হলাম। উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবে এটা দেখিনি। সেটি হলো শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে ঘাসের ওপর গোল হয়ে বসে গান উপভোগ করেছেন। আবার দল বেঁধে তারা গানের তালে তালে নেচেছেনও। একদল অল্পবয়সী বিদেশিনীকে দেখলাম উৎসবের প্রথম রাতে নিশ্চিন্ত নির্ভার হয়ে নাচতে। কোথাও কোন বিরূপতা বিড়ম্বনা নেই। সবাই স্বাভাবিক, সংযত, উৎসবমুখর। এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রিয় মেয়র,

আপনাকেই বলছি

আমরা এই কলামে ঢাকার দুই মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান ও অনিয়মের সুরাহা চাইছি। এটা নিছক অনুরোধ নয়, সমাজেরই দাবি। আজ আমরা তুলে ধরব ঢাকার প্রধান একটি সড়ক ভিআইপি রোডের ছোট্ট একটি অংশের কথা। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজারের মোড়ের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত জায়গাটুকুর কথাই বলা যাক। শুধু সড়কের ওপর নয়, দু’পাশের ফুটপাথ এবং পার্শ্ববর্তী পায়ে চলা মাটির পথের দিকে দৃষ্টি দিন। দু’পাশের ভবনগুলোর দিকেও তাকান, সাইনবোর্ড বিলবোর্ড কিছুই বাদ দেবেন না। রাস্তার ওপর খানাখন্দ, ফুটপাথকে ডাস্টবিন ও শৌচাগার বানানোর প্রবণতা দেখবেন। অনেক ভবনের ‘দাঁত’ বেরিয়ে পড়েছে। আবার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি চলছে বছরের পর বছর ধরে, অগ্রগতি নেই। সাইনবোর্ডগুলো কী বিচিত্র, অনেকগুলোই কদর্য। সব কিছু ঠিক করা যাবে না, আমরা জানি। তবে চেষ্টা করতে দোষ কি? এইটুকু রাস্তা ও তার চারপাশ যদি আমরা পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, সুরুচিকর, সংস্কৃতিমণ্ডিত ও নজরকাড়া করে তুলতে পারিÑ তাহলে সেটাও একটা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। প্রিয় মেয়র, ভেবে দেখবেন কি?

১৬ নবেম্বর ২০১৫

marufraihan71@gmail.com