১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেবা খাতেও বাজার সুবিধা চাইবে বাংলাদেশ

  • ডিসেম্বরে বসছে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মিনিষ্ট্রিয়াল বৈঠক

এম শাহজাহান ॥ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দশম মিনিস্ট্রিয়াল বৈঠকে যোগ দিতে এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী ১৫ থেকে ১৮ ডিসেম্বর কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য এবারের সম্মেলনে ১৬০টি দেশ অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি এবারও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া বালি প্যাকেজ বাস্তবায়ন ও এলডিসি দেশের জন্য শুল্কমুক্ত এবং কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, রুলস অব অরিজিন, সার্ভিসেস ওয়েভার বাস্তবায়ন ও কটন ইস্যুর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে দাবি জানানো হবে। দোহা রাউন্ডের এজেন্ডাভুক্ত অবশিষ্ট ইস্যুসমূহ নিষ্পত্তি করার বিষয়েও ডব্লিউটিও’র দৃষ্টি আকর্ষণ করবে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ঘোষণায় ওষুধে ১৭ বছরের মেধাস্বত্ব ছাড়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এলডিসি দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ওষুধ উৎপাদন ও রফতানি করছে। এ শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে গার্মেন্টসের পর ওষুধ রফতানিতে বিশ্বে নতুন চমক দেখাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, দেশের অন্যতম রফতানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের মতোই ওষুধ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

এদিকে, বালি প্যাকেজে ইতোমধ্যে তিনটি ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ইস্যু তিনটি হচ্ছে-ডেভেলপমেন্ট ইস্যু, বাণিজ্য সহজিকরণ চুক্তি ও কৃষি। এগুলোর মধ্যে ডেভেলপমেন্ট ইস্যুর আওতায় এলডিসি দেশের জন্য চারটি ইস্যু ও মনিটরিং মেকানিজম রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, রুলস অব অরিজিন, সার্ভিসেস ওয়েভার বাস্তবায়ন ও কটন ইস্যু। ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উন্নত দেশগুলোতে এলডিসি দেশের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটির নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সম্মেলন শেষে গত দু’বছরে এর কোন অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই বলছে, উন্নত বিশ্বের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার সঙ্গে সেবা খাতেরও বাজার সুবিধা দিতে হবে। এটি পাওয়া গেলে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত সব দেশ লাভবান হতে পারত। সেবা খাতের বাজার ধরতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কিছু খাত চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে পর্যটন, আর্থিক, প্রকৌশল, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি অন্যতম। সংগঠনটির মতে, ডব্লিউটিওর আগামী সম্মেলনকে ঘিরে সরকার যে প্রতিনিধিদল গঠন করবে, তার অন্যতম কাজ হবে অন্য ৪৮টি এলডিসিকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা। যাতে উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে বালি ঘোষণা বাস্তবায়নে বাধ্য হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, এলডিসি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা জরুরী হয়ে পড়ছে। এটি নিশ্চিত হলে দেশের গার্মেন্টস পণ্য রফতানির সবচেয়ে বড় বাধা দূর হবে। তিনি বলেন, ওষুধ রফতানিতে ১৭ বছরের মেধাস্বত্ব ছাড়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ।

এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে ওষুধ রফতানি বাড়াতে এখনই এ শিল্পে বিনিয়োগ প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, বালি প্যাকেজ এবং এলডিসি প্যাকেজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, ডব্লিউটিও’র আলোচনার অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয় না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বিশেষ করে টিকফা’র মাধ্যমেও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এতে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে শুল্ক ও কোটা ফ্রি মার্কেট পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, উন্নত রাষ্ট্রগুলো এখন আর দোহা রাউন্ড ও বালি প্যাকেজের বাস্তবায়ন চায় না। বরং তারা নতুন নতুন চুক্তি ও এফটিএ করছে। বাংলাদেশকেও একইভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

জানা গেছে, এলডিসি দেশ হিসেবে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত দেশের রফতানি বাজার আরও সম্প্রসারণ হবে। বাড়বে রফতানি। ভিশন-২১ এ বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারা ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানির যে স্বপ্ন দেখছেন তা বাস্তবায়নে রফতানি বাড়াতেই হবে। এছাড়া দেশের মোট রফতানির ৭৬ শতাংশই তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাক রফতানির ৪০ শতাংশই আবার একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়ে থাকে। যার পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। এলডিসি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধায় পোশাক রফতানি হওয়ার কথা। ডব্লিউটি’র শর্তানুযায়ী শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের রফতানি খাত আরও সমৃদ্ধশালী হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও’র পরিচালক মোঃ নূরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, ডব্লিউটিও’র দশম মিনিস্ট্রিয়াল বৈঠকে বালি প্যাকেজের বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি ওয়ার্ক প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৯ নবেম্বর এ বিষয়ে একটি জরুরী বৈঠক আহ্বান করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ডব্লিউটিও’তে উপস্থাপনের জন্য বাংলাদেশের এজেন্ডা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেখানে ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি মার্কেট চাওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য টিকফা ফোরামের বৈঠকেও বাংলাদেশ গার্মেন্টস পণ্য রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দাবি করবে। এছাড়া জিএসপি পুনর্বহালেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি জানানো হবে।