২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ উন্নয়ন মেলায় জয়িতা ফাউন্ডেশনের স্টল ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই স্টলটিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নকশী কাঁথা, জামদানি শাড়ি, শতরঞ্চি, মাটির তৈরি ফুলের টব ও কাঠের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের শো’পিস। নারীদের তৈরি বাহারী এসব পণ্য আনা হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া নারীদেরও যে অবদান রয়েছে তাই বুঝানোর চেষ্টা করছে জয়িতা। সরকারের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প হচ্ছে জয়িতা ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

জয়িতার মতো সরকারের আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)। এসডিএফের স্টলটিতে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে কথা বলছেন, মানবসম্পদ কর্মকর্তা শারমিন সিদ্দিকী। তিনি জানালেন, সামাজিক বিনিয়োগ ও নারীর ক্ষমতায়ন ও জীবনমান উন্নয়নে এসডিএফ কাজ করছে। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে তুলে ধরতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে উন্নয়ন মেলা। পাশাপাশি বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকও চলেছে সমানতালে।

সোমবার ছিল উন্নয়ন মেলার শেষ দিন। তাই এ দিনে মেলা ঘিরে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের উন্নয়ন মেলায় (বিডিএফ) মোট ৪১ স্টল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের স্টল ১৬টি এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর ৮টি এবং বাকি ১৭টি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের স্টল রয়েছে। এই স্টলগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করে এদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) মনোনীত প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহ-সভাপতি ওয়েন চাই ঝাং, জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও উন্নয়নসহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন উন্নয়ন মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেছেন। শুধু তাই নয়, উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু তহবিলে অর্থ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদিনব্যাপী এ বৈঠকের উদ্বোধন করেন।

এ প্রসঙ্গে ইআরডি সচিব জানান, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে যেতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ১০ শতাংশ হতে হবে। এ জন্য প্রতি বছর অবকাঠামো খাতে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়াগ প্রয়োজন। এ বিনিয়োগ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে করা দরকার। বিষয়গুলোও উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে এবারের ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে-সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণ। এছাড়া কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ, অবকাঠামো উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ, কার্যকর উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা ও লিঙ্গ সমতায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের বিষয়গুলো রাখা হয়েছে।

এছাড়া এবারের ফোরামের আলোচনা ও গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় পরামর্শক গ্রুপের (এলসিজি) কো-চেয়ার ও ইউএসএআইডির হেড অব মিশন জ্যানিনা জেরুজালস্কি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে ছয় শতাংশের বেশি মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।