১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়কে সবজি বাজার ॥ ঠাকুরগাঁওয়ে চরম দুর্র্ভোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ১৬ নবেম্বর ॥ শহরের গোবিন্দনগর এলাকার ২০ থেকে ২২ ফুট প্রশস্ত সড়কের ওপর প্রতিদিন সবজির বাজার বসায় পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছয়-সাত বছর ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি।

ভুক্তভোগীরা জানান, ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনের ৩শ’ মিটারের মধ্যে শহরের গোবিন্দনগর এলাকায় পাকা সড়কের উপর প্রতিদিন সকালে সবজির পাইকারি বাজার বসছে। জেলার চাষীরা উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে ওই বাজারে ভিড় করেন। এটি জেলার অন্য চারটি উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। এ কারণে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি সরকারী ও একটি বেসরকারী কলেজ, একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, দুটি হাসপাতাল, জেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়সহ স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ও জেলা পরিষদের দফতর রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে ২০ থেকে ২৫টি সবজির আড়ত রয়েছে। এখানে পাইকারি দরে পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, রসুন, আলু, বেগুনসহ বিভিন্ন কাঁচা মালামাল ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা সড়কের দু’পাশে বসে সবজি কেনা-বেচা করছেন। সেই সঙ্গে পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা সবজি কিনছেন। এতে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় সড়কে যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র ১০ থেকে ১২ ফুট জায়গা থাকছে। ওই জায়গা দিয়েই বাস, ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও রিকশা মন্তরগতিতে চলাচল করছে।

ছয়-সাত বছর ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি।

বাজারে এসে সড়কের পাশে শাক বিক্রি করতে বসেছেন সদর উপজেলার নারগুন গ্রামের অনিল চন্দ্র। তিনি বলেন, সবজি বাজারের জায়গার সঙ্কটের কারণে তার মতো অনেক বিক্রেতাকে সড়কের উপরই কেনাবেচা করতে হচ্ছে।

কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী লুবনা জাহান ও সাবিনা ইয়াসমিন জানায়, তাদের ক্লাস সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়। আর সে সময়ই সবজি বাজারে চরম ভিড় থাকে। তাদের অভিভাবকরা জানান, সড়কটিতে বাজার বসানোর কারণে ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভিড় ঠেলে চলাচল করতে অসুবিধা হয়।

সবজি ব্যবসায়ী পরিমল সরকার বলেন, পথচারীদের ভোগান্তির কথা ভেবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পৌর মেয়র এসএমএ মঈন বলেন, পথচারীরা যাতে নির্বিঘেœ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হবে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানুর বলেন, রেলস্টেশন সড়কটি খুবই ব্যস্ততম। কাজেই সেখানে হাটবাজার গড়ে ওঠা কোনভাবেই কাম্য নয়। সম্প্রতি জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। সভায় তালিকা তৈরি করে সড়কের পাশের হাটবাজারসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মাস থেকে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম চালানো হবে।