২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপগঞ্জে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হাতুড়িপেটা ॥ বিতাড়িত

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ১৬ নবেম্বর ॥ যৌতুকের তিন লাখ টাকা না পেয়ে মাদকাসক্ত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলি বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, হাতুড়ি দিয়ে ওই গৃহবধূর মুখম-ল থেতলে দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার হাটিপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মিলি বেগম রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে।

মিলি জানান, ৪ বছর পূর্বে হাটিপাড়া এলাকার গনি মোল্লার ছেলে মনির মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। যৌতুক হিসেবে ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, আলমারি, সুকেচসহ যাবতীয় আসবাবপত্র দেয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার মারিয়া, সুমাইয়া ও সোহাগ নামে তিন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। বছরখানেক আগে থেকে স্বামী মনির মোল্লা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং মাদক ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিবাদ করত মিলি বেগম। আর প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। গত এক সপ্তাহ ধরে মনির মোল্লা যৌতুক হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করে আসছে মিলি বেগমের কাছে। আর এ যৌতুকের টাকার জন্য প্রায় সময় মিলিকে মারধর করা হতো।

রবিবার রাত ৯টার দিকে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী মনির মোল্লা, শ্বশুর গনি মোল্লা, শাশুড়ি ইটবানু, বাসুর বারেক মোল্লা, লিপি আক্তারসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলি বেগমকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে তার মুখম-ল থেতলে দেয়া হয়।

কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে উন্নত বীজ সরবরাহের উদ্যোগ

সমুদ্র হক ॥ কৃষি অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে বীজ সংরক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ধান পাট আলু সবজিসহ সকল উন্নত বীজ এখন বিএডিসি কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করবে। বীজের মান ঠিক রাখতে হিমাগারেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বগুড়া বিসিক এলাকায় অবস্থিত আলু বীজ হিমাগার ও বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে চলতি মৌসুমের বোরো ধান ও আলুসহ উচ্চ মানসম্পন্ন সকল বীজ সংরক্ষণ ও সরবরাহের সকল কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। প্রান্তিক চাষীদের সুবিধার জন্য সিরিয়াল আবাদে (ধান গম) এক থেকে ৫ কেজির বীজের প্যাকেট করা হয়েছে।

বিএডিসির সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) রওনক মাহমুদ উন্নত বীজ ব্যবস্থাপনায় দেশের সকল বীজ হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগ পরিদর্শন করছেন। সম্প্রতি তিনি বগুড়া বিএডিসির বীজ বিভাগের সকল কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ও উন্নত বীজ সরবরাহে যেন কোন ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে তার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এক শ্রেণীর বীজ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লক্ষ্যে কথিত হাইব্রিড বীজের নামে বিদেশ থেকে বীজ আমদানি করে সাধারণ কৃষকদের প্রতারিত করছে। অসাধু মুনাফালোভী এই বীজ ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত হয়ে পড়েছে। এই চক্রকে প্রতিহত করতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। খোঁজখবর করে জানা যায় এবং অভিযোগও মেলে দেশের অনেক হিমাগারে বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। সনাতনী পন্থায় বীজ রাখা হয়। বেশিরভাগ সময় তাপানুকূল যন্ত্র না চালিয়ে বিদ্যুত বিল কমানো হয়। ফলে বীজের মান ঠিক থাকে না। প্রি হিটিং ফ্যানিং গ্রেডিং করা হয় না। টেকনিক্যাল এ বিষয়গুলো সাধারণ কৃষক না জানায় বীজ রাখার পর হিমাগার কর্তৃপক্ষ যে বীজ দেয় তাই নিতে হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে মাঝে মধ্যেই হিমাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৃষকদের বিবাদ লেগে যায়। সাধারণ কৃষককের কথা- সরকার ভাল ব্যবস্থা নিলে কৃষক হয়রানি অনেক কমে যাবে। সরকারের বীজ বিভাগ এ বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দিয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ