২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আন্তর্জাতিক মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসব শুরু বৃহস্পতিবার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এই বিশ্ব চরাচরে নানা জাতিসত্তার বসবাস। বৃহৎ জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে আছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা আদিবাসী সম্প্রদায়। বৈচিত্র্যময় জীবনধারার পাশাপাশি আদিবাসীদের আছে বৈভবময় স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। তাঁদের সেই সংস্কৃতির একটি ধারা হচ্ছে নাটক। সকল জাতিসত্তার মাঝে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও সহনশীল বিশ্ব নির্মাণে আকাক্সক্ষায় আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসব ঢাকা-২০১৫।’ সম্প্রীতি নাট্যোৎসব পর্ষদ আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী এ উৎসবে বাংলাদেশের ৭টি এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৯টি মৃত্তিকালগ্ন জাতিগোষ্ঠীর নাট্যদল অংশ নিচ্ছে। সব মিলে দুই দেশের ১৬টি প্রযোজনা মঞ্চস্থ হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলো, পরীক্ষণ থিয়েটার হলো ও নন্দনমঞ্চে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে উৎসব। আগামী ১৯ নবেম্বর বিকেল ৫টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে এই নাট্যোৎসবের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত পংকজ শরণ। উদ্বোধনী এ আয়োজনটি একই সঙ্গে সম্প্রসারিত হবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও যশোরে। উৎসব উপলক্ষে সোমবার শিল্পকলার নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সম্প্রীতি নাট্যোৎসব পর্ষদের উপদেষ্টা নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও পর্ষদের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী লাকী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পর্ষদের সদস্য মীর জাহিদ, শাহনেওয়াজ, তপন হাফিজ প্রমুখ। উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন পর্ষদের সদস্য সচিব কামাল বায়েজীদ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আট দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসবে বাংলাদেশ ও ভারতের ১৬টি বৈচিত্র্যময় নাট্যক্রিয়ার প্রদর্শন করবে বিভিন্ন নাট্যদল। বাংলাদেশের চাকমা, মণিপুরি, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারো, মারমা, ওঁরাও এবং ভারতের অসমিয়া, খাসী, বড়ো, মণিপুরি, ত্রিপুরা, মিজো, ঝাড়খ- ও ছৌ মৃত্তিকালগ্ন গোষ্ঠীর নাট্যদলসমূহ তাদের প্রশংসিত নাটক মঞ্চস্থ করবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় একাডেমির নন্দনমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আমন্ত্রিত দেশী ও বিদেশী নাট্যদলসমূহের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সকল দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ পরিবেশনা। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বাংলাদেশের মৃত্তিকালগ্ন সম্প্রদায়ের পরিবেশিত নাটক এবং সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাট্যশালার মূল হলে মঞ্চস্থ হবে ভারতীয় নাট্যদলসমূহের পরিবেশিত নাটক। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সুকীর্তি হলো বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক। স্বাধীনতা উত্তরকালে শিল্পের এ শাখাটি শতফুলে বিকশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এ দেশের নাটক গতিময়তা লাভ করেছে। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য হাজার বছরের। আমরা বার বার ফিরে গিয়েছি হাজার বছরের সেই নাট্য ঐতিহ্যের কাছে। আমাদের শেকড়সন্ধানী মন অনুপ্রাণিত করেছে ঐতিহ্যের কাছে সমর্পিত হতে।