২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লোকগাঁথাভিত্তিক প্রযোজনা মঞ্চে আনছি ॥ হৃদি হক

হৃদি হক একাধারে অভিনেত্রী, নাট্যকার ও পরিচালক। বাবা নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক ও মা লাকি ইনামের হাত ধরে মঞ্চে প্রবেশ করেছেন। নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২০তম প্রযোজনায় ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ নাটকের পূনর্কথন ও নির্দেশনার পাশাপাশি বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয়ও করছেন। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে আজ সন্ধা সাড়ে ৬ টায় নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ণ। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

‘গহর বাদশা ও বানেছাপরী’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী সম্পর্কে বলুন

হৃদি হক : নাটকটি মঞ্চায়নের উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। উপস্থিত থাকবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সভাপতি ড. ইনামুল হক।

নাগরিক নাট্যাঙ্গনে প্রথম নির্দেশনার অনুভূতি কেমন?

হৃদি হক: অবশ্যই ভাল লাগছে। দলের ২১ বছরের পথচলায় বেশ কিছু মৌলিক নাটক করেছি, যেগুলো আমাদের দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও সুনাম বয়ে এনেছে। কিন্তু লোকগাঁথা নিয়ে আমাদের কোন প্রযোজনা মঞ্চে আসেনি। এজন্য নাটকটি নির্দেশনার দ্বায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়। এাটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। কোরিওগ্রাফী, কস্টিউম ডিজাইন, অভিনয় থেকে এখন নির্দেশনার কাজ করছি। কাজেই থিয়েটারের প্রতি ভাললাগা থেকেই ভেতরের ভালবাসা তৈরি হয়েছে। আমার নির্দেশনায় প্রথম নাটক মঞ্চে যাচ্ছে, এটা আমার জন্যে খুবই আনন্দের।

নাটকটির উপজীব্য কি?

হৃদি হক: কাহিনীতে দেখা যায়, বিশ্বিং বাদশা গিলামাইট বনে শিকার না পেয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষে। ঠিক তখনই অদূর জলাশয়ে হরিণশাবকের আগমনে তীর ছোড়ে বাদশা। পরক্ষণেই মানবসন্তানের কান্নায় তিনি বুঝতে পারেন কী ভীষণ নিষ্ঠুরতায় তার হাত রাঙালো। অন্ধমুনি সন্তান হারানোর বেদনায় অভিশাপে জর্জরিত করলো সন্তানহীন বাদশা বিশ্বিংকে। সেই অভিশাপের পর দুই পুত্রের চন্দ্রমুখ দেখার সৌভাগ্য হলো বাদশার। বার বছর বয়সে বিশ্বিং যখন বড় ছেলে গহরকে রাজ্যের অধিপতি করে, তখন উজিরের চক্রান্তে গহর আবদার করে গিলামাইট বনে শিকার করতে যাবে। গিলামাইট বনে গিয়ে গহর বন্দি হয় বিশ্বিং দানবের হাতে। বাবার মিতা বলে মৃত্যু থেকে রেহাই পেলেও বানেছা পরীর প্রেমতীরে বিদ্ধ হয় গহর। অবশেষে তার বুদ্ধি ও মেধা দিয়ে জয় করে তার রাজ্য। এভাবেই এগোয় নাটকের কাহিনী।

নাটকে আপনার চরিত্র কেমন?

হৃদি হক: আমি বানেছা পরীর চরিত্রে অভিনয় করছি। এতে গহরের দুটো বয়স। প্রথমটিতে অভিনয় করছেন আসিব চৌধুরী এবং দ্বিতীয়টিতে জুয়েল জহুর। মঞ্চ পরিকল্পনায় রয়েছেন সাজু খাদেম।

আমাদের দেশের থিয়েটারের বর্তমান অবস্থা কেমন?

হৃদি হক: আমার মনেহয়, স্বাধীনতাওত্তর বাংলাদেশকে তুলে ধরার আধুনিক শিল্প হচ্ছে থিয়েটার। এখন শুধু বাংলা ভাষাভাষি নয়, আমরা ভাষাভাষিদের মধ্যেও এই শিল্পকে ছড়িয়ে দিতে পারছি। আমার উপলব্দি হয়েছে আমাদের থিয়েটার এখন সব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

থিয়েটারকে আরও এগিয়ে নিতে করণীয় কি?

হৃদি হক: শিল্পকলা একাডেমি ছাড়া থিয়েটারের জন্য আর মঞ্চ নেই। দর্শক সংকট আছে আমি এটা মেনে নিতে পারি না। দর্শক বাড়াতে মঞ্চ দরকার।

সংগঠনের কাজ সম্পর্কে বলুন?

হৃদি হক: টোটাল থিয়েটার করে আমাদের দল। আমাদের একটা প্রকাশনা সেল আছে। সেখান থেকে প্রতি ৬ মাস অন্তর থিয়েটার বিষয়ক প্রত্রিকা প্রকাশিত হয়। আমাদের সংগঠন উৎসব প্রিয়। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের নাট্যদল নিয়ে আমরা উৎসব করি। আমাদের এনএনআইডি থেকে প্রতি ৬ মাস পর ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রশিক্ষণ নিয়ে বের হয় এবং নতুন একটি প্রযোজনাও মঞ্চে আনে। এ পর্যন্ত ৬শ ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা এখান থেকে প্রশিক্ষন দিতে পেরেছি।

মঞ্চ ছাড়াও আপনার ব্যস্ততা কেমন?

হৃদি হক : এখন নাটক লিখছি, নির্দেশনা দিচ্ছি। ‘টিকেট’ প্রযোজনা সংস্থা থেকে ‘শেষ বিকেলের গান’ নামে একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক তৈরি করছি। এর নির্দেশনায় রয়েছি আমি ও কামরুজ্জামান রনি। নাটকটি এনটিভিতে প্রচার শুরু হবে আগামী ১২ ডিসেম্বর। আরটিভির জন্য ‘বর্ষার গল্প’ নামের একটি এক ঘন্টার নাটক নির্দেশনা দিয়েছি। -গৌতম পাণ্ডে