২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপেক্ষার ১৫ দিন শেষে আজ রিভিউ শুনানি সাকা-মুজাহিদের

অপেক্ষার ১৫ দিন শেষে আজ রিভিউ শুনানি সাকা-মুজাহিদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নিজস্ব বাহিনীর স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের ওপর মঙ্গলবার শুনানি শুরু হবে। মুজাহিদ ও সাকার রিভিউয়ের আবেদন ২ নবেম্বর আদালতে আসে। ওই দিন ১৭ নবেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এ সময়ের মধ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে বেশকিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারও করেছে। এ মামলাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ সহিংস ঘটনা না ঘটাতে পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে। এসব মিলে সারাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওই মামলার শুনানির বিষয়ে। কারণ ইতোমধ্যেই মানুষকে পাড়ি দিতে হয়েছে ভারি পনেরোটি দিন। আজ সাকা মুজাহিদের রিভিউ শুনানি, অন্যদিকে নিজামীর আপীলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে সবার নজর এখন আপীল বিভাগের দিকে। আপীল বিভাগের কার্যতালিকায় মুজাহিদ দুই এবং সাকা তিন নম্বরে রাখা হয়েছে। জামায়াতের আমির আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর আপীল শুনানিও কার্যতালিকার ৪ নম্বরে রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বিভাগের বেঞ্চে এই দুই আসামির করা রিভিউ ও নিজামীর আপীল শুানানি হবে। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এদিকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় চ্যালেঞ্জ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরীর করা রিট শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

সাকা-মুজাহিদের রিভিউ শুনানি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে দ্রুত রিভিউ শুনানি নিষ্পত্তি হবে। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, রিভিউয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যেসব যুক্তি তুলে ধরবেন তাতে দ-িতদের খালাস পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। রিভিউয়েও সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসির দ- বহাল থাকবে। দুই আসামির পক্ষে প্রধান আইনজীবী হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন দু’টির শুনানিতে নেতৃত্ব দেবেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করবেন এ্যাটর্নি জেনারেল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জুন আলী আহসান মুজাহিদ ও গত ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর আপীল মামলার সংক্ষিপ্তাকারে চূড়ান্ত রায় প্রদান করে আপীল বিভাগ। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের এই দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। পরদিন ১ অক্টোবর তাদের আপীল বিভাগের রায় অবহিত করে কারাগার কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পড়ে শোনানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যু পরোয়ানা। নিয়ম অনুসারে সে থেকে নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যেই রিভিউ আবেদন করেন মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরী। যদি এ আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চায় তাহলে মৃত্যুদ- কার্যকর করতে আর কোন বাধা থাকবে না।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমাইন্ড আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীল খারিজ করে ১৬ জুন মুত্যুদ- বহাল রাখেন আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বুদ্ধিজীবী হত্যায় এটাই আপীল বিভাগের প্রথম রায়।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এই প্রথম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোন ব্যক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে উচ্চ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল।

অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সাকা বাহিনীর (নিজস্ব বাহিনী) প্রধান স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রাখে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অপারগতা প্রকাশ ॥ সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় চ্যালেঞ্জ করে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরীর করা রিট শুনানিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদেরও সময় নষ্ট, আমাদেরও (আদালতের) সময় নষ্ট। যেহেতু এ বিষয়টি সুপ্রীমকোর্র্টে ফয়সালা হয়ে গেছে, এখন সময় নষ্ট করতে চাই না।