২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী, মাঠে সিআরটি

ঢাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী, মাঠে সিআরটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অস্ট্রেলীয় ফুটবল টিম ও ডাচ রানী ম্যাক্সিমার সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সোনারাগাঁও হোটেল হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত সর্বত্র ছিল সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দাদের নজরদারি। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীকে টহল দিতে দেখা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুলিশসহ গোয়েন্দাদের আনাগোনায় সাধারণ দর্শনার্থীরাও ওই এলাকায় বিচরণ করতে পারেনি। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্ট্রেলীয় দলকে একটি বাসে করে হোটেলে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি শক্তিশালী টিম এই টিমের গাড়ি বহরকে আগে পিছে টহল দেয়। ছিল র‌্যাবের টহল। রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বিজিবিকেও টহল দিতে দেখা যায়। প্রস্তুত রাখা হয়েছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার।

এদিকে বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। কয়েকটি বাসেও তল্লাশি চালানো হয়। বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ ঘরমুখী যাত্রীদের ব্যাগও তল্লাশি করা হয়। মগবাজার মোড় থেকে কাকরাইল পল্টন মতিঝিল আরামবাগ গুলিস্তান এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতেও ছিল গোয়েন্দাদের নজরদারি। পরশু রবিবার রাত থেকে এ এলাকার হোটেলগুলোতে অতিথিদের রুম ভাড়া নেয়া থেকে বিরত রাখা হয়।

সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম এলাকার আশপাশে দিয়ে যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইচ্ছে করলেই কেউ এ এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরাও করতে পারবে না। স্টেডিয়ামের আশপাশের সব উঁচু ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে ওয়াচটাওয়ার।

নিরাপত্তায় পুলিশ, ঢাকা নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), আমেরিকায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল ওয়েপন এ্যান্ড টেকটিশ (এসডব্লিউএটি-সোয়াত) মোতায়েন থাকছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে অন্তত ৫ হাজার সিসি ক্যামেরা। রাজধানীর ভেতরে ও প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হয়েছে শতাধিক চেকপোস্ট। মহানগরীতে কঠোর নজরদারি করতে উঁচু ভবনের ছাদে বসছে অন্তত অর্ধশত ওয়াচ টাওয়ার। এসব ওয়াচ টাওয়ার থেকে শক্তিশালী বাইন্যুকোলারের সাহায্যে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করা হবে। আপৎকালীন মুহূর্ত মোকাবেলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট ও ক্রাইসিস রেসপন্স টিম ছাড়াও একাধিক সিভিল টিম থাকছে। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বেশ কিছু পয়েন্টে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভবনগুলো। জঙ্গীসহ উগ্র মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। আঁতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যতীত স্টেডিয়াম ও তার আশপাশের এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, জাতীয় জাদুঘর, ধানম-ির ঘটনাবহুল ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি স্টেডিয়ামসহ পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুরো এলাকা হকারমুক্ত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসও মাঠ থাকছে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিমানবন্দরে মোতায়েন একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান- অস্ট্র্রেলীয় ফুটবল টিমের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ছাড়াও গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলেও নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। এ উপলক্ষে গোটা গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই বনানী রোড ধরে গুলশান ২ নং গোলচক্করমুখী প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। এমনকি বোরখা পরিহিত মহিলাদেরও নারী পুলিশ দ্বারা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এ সম্পর্কে এপিবিএন এএসপি আলমগীর হোসাইন শিমুল বলেন-বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই। এপিবিএন থেকে বাছাই করা চৌকস সদস্যদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারি করছে। ইচ্ছে করলে কেউ কোন অপরাধ বা নাশকতার সুযোগ পাবে না।