২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা-তারেক দেশে ফিরতে চাইলে কোন বাধা নয় ॥ তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকার কোন বাধা দেবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সচিবালয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে আসাতে (খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) কোন বাধা দেয়া হবে না। স্বাগত জানানো হবে। কারণ বাংলাদেশী নাগরিকদের দেশে আসাই বাঞ্ছনীয়।

ইনু বলেন, স্বামীর মতোই খালেদা জিয়া জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ, যুদ্ধাপরাধী এবং জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সন্ধি স্থাপনের অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। এ কারণে আজও তিনি তাদের সঙ্গে সন্ধি করছেন। ওই সন্ধির কারণে বাংলাদেশে পরিকিল্পিত হত্যা, খুন, নাশকতা এবং সর্বশেষ আগুন সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটিয়ে এই মুহূর্তে একজন সন্ত্রাসী নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে গত সাত বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার কথা বলে লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাও ছেলের সঙ্গেই আছেন।

সম্প্রতি সেখান থেকেই এক বিবৃতিতে খালেদা আশা প্রকাশ করেন, সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে দেশের এই ক্রান্তিকাল ও সঙ্কটজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র বিকাশের ক্ষেত্রকে সংকোচন না করে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে সরে এসে একটি জাতীয় সংলাপের সূচনার পরিবেশকে উন্মুক্ত করবে। এরপর গত ৭ নবেম্বর সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের ঐক্যের আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। মওদুদের বক্তব্যের জবাব দিতেই সোমবার তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা খুনীদের ফর্মুলা গ্রহণ করতে পারি না। মওদুদের ঐক্যের প্রস্তাব বিড়াল তপস্বীর মতো। খুনীদের সঙ্গে ঐক্যের প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি। বিএনপির সঙ্গে জঙ্গীবাদ, উগ্রবাদ এবং যুদ্ধাপরাধীর সন্ধিকে হালাল করতে চাইছেন। ঐক্য বা জাতীয় ঐক্যের নামে সন্ত্রাসবাদকে আড়াল করার অপচেষ্টা সফল হবে না। অপকর্ম ‘আড়াল করে’ রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টার ‘নীল নকশার’ অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া তার দলের আরেক নেতাকে দিয়ে এই ঐক্যের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন জাসদ সভাপতি ইনু। তিনি বলেন, সরকার জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। যারা নাশকতা করে, তাদের আইনের আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছি। অনেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।

বিএনপি সত্যিই সন্ত্রাসী দল হয়ে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তাদের নিষিদ্ধ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সাম্প্রতিককালে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দলে পরিণত করছেন। আইনগত বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আগুন সন্ত্রাসী থাকবে না।

লিখিত বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গত ৭ নবেম্বর যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। মওদুদ বলেছেন, সরকার দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে দুর্বল ও নিঃশেষ করে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত আছে বলে আজ কিছু বিপথগামী এই সুযোগ গ্রহণ করে দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জঙ্গীবাদের উত্থানের এই সুযোগ সৃষ্টি করে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য সরকারই দায়ী।

মওদুদ আহমদের এ বক্তব্য দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান এবং বিএনপি-জামায়াত জঙ্গীবাদীদের সম্মিলিত আগুনসন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাত-সহিংসতা-নৈরাজ্যকর রাজনীতিকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। ‘কিছু বিপথগামী’ শব্দটি ব্যবহার দেশে জঙ্গীবাদী-সন্ত্রাসবাদী শক্তির সুসংগঠিত উপস্থিতি ও তৎপরতাকে আড়াল করাই অপপ্রয়াস। দেশবাসী সায় দিচ্ছে যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি-জামায়াত স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ ছেড়ে সরাসরি সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-অন্তর্ঘাত-নাশকতার পথ গ্রহণ করে, যার সর্বশেষ রূপ ছিল আগুনসন্ত্রাস-আগুনযুদ্ধ। বিএনপি-জামায়াত আজ নিজেরাই সন্ত্রাসবাদী-নৈরাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আর বিএনপির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদী-মৌলবাদী গোষ্ঠীর ‘রাজনৈতিক সন্ধি’ দেশবাসীসহ কারও অজানা নয়।