২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন দিনের সফরে ঢাকায় ডাচ রানী ম্যাক্সিমা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ঢাকায় এসেই ব্যস্ত সময় পার করছেন নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা। তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেই দুপুরে তিনি দেশের এনজিওদের কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনে যান। দারিদ্র্যবিমোচনে এনজিওদের বৈচিত্র্যময় কর্মকা- সম্পর্কে জেনে তিনি অভিভূত হন।

রানীকে জানানো হয়, দারিদ্র্যবিমোচনে এখন আর বাংলাদেশের এনজিওরা প্রথাগত ক্ষুদ্র ঋণের মধ্যে নেই। তারা ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে বৈচিত্র নিয়ে এসেছেন। এনজিওরা এখন দরিদ্রদের ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে উন্নয়ন অর্থায়ন করছে। যার মধ্যে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের দরিদ্ররা দ্রুত দারিদ্র্যের বেড়াজাল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে বিশেষজ্ঞ রানী ম্যাক্সিমা উন্নয়ন অর্থায়নের বিষয়গুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ক্ষুদ্র ঋণের ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চান। দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য সবাইকে নিয়ে এগুনোর আহ্বান জানান।

এই বৈঠকে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকসহ পিকেএসএফের সহযোগী সদস্যরা যোগ দেয়। বৈঠকের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের এনজিওরা এখন আর মাইক্রো ফাইন্যান্স করে না। তারা উন্নয়ন অর্থায়ন করে। অর্থাৎ দরিদ্রের চাহিদা অনুযায়ী যার যা লাগবে সে অনুযায়ী অর্থায়ন করা হয়। পিকেএসএফ সহযোগী সদস্যরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দরিদ্রদের ঋণ দিয়ে থাকে। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, বাজারজাতকরণ সহায়তা প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কারণ শুধু ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র্যবিমোচন হবে না।

রানী ম্যাক্সিমাও তার সূচনা বক্তব্যে তার বক্তব্য সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘দরিদ্রদের ঋণের পাশাপাশি অন্য সেবাও লাগবে। তাহলেই দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে।’ তিনি পিকেএসএফের কর্মকা-ের প্রশংসা করেন।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফে বৈঠক শেষে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ফিরে আসেন ডাচ রানী ম্যাক্সিমা জরিগুয়েতা সেরুতি। সেখানেই তার দিনের বাকি কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। রাতযাপনও সেখানেই।

এর আগে, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে রানীকে বহনকারী প্লেনটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা। পিকেএসএফের আগে তিনি ঢাকার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সেখানে একটি বৈঠকে অংশ নেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার জন্য অর্থনৈতিক সেবার সচেতনতা বাড়ানোই ডাচ রানীর এ সফরের উদ্দেশ্য। সফরে রানী ম্যাক্সিমা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানসহ সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর বাইরে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বেসরকারী খাত ও উন্নয়ন সহযোগী অংশীদারদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে গাজীপুরে সফরের কথাও রয়েছে রানীর। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গাজীপুর সফরের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র।

উল্লেখ্য, উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স ফর ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক বিশেষ পরামর্শক হিসেবে রানী ম্যাক্সিমাকে ২০০৯ সালে নিয়োগ দেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।

এর আগে, গত ৩ নবেম্বর নেদারল্যান্ডস সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ম্যাক্সিমার সঙ্গেও সাক্ষাত করেন তিনি। সাক্ষাতকালে রানী অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের প্রশংসা করেন। ওই সফরে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪টি চুক্তি সই হয়। ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে তার সরকারী বাসভবন ‘কাস্টহুউসে’ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর শিক্ষা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার জন্য এসব চুক্তি সই হয়। তিন দিনের সরকারী সফর শেষে ৬ নবেম্বর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।