২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লুই কানের নকশায় সংসদ ভবন চত্বরে কোন কবর ছিল না ॥ সংসদে গণপূর্তমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, লুই আই কানের প্রণীত নকশায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে কোন কবরের চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না। কোথাও কবরস্থান দেখানো হয়নি। আমাদের উদ্দেশ্য কারও কবর সরানো নয়, লুই আই কানের অমর এই স্থাপত্যশিল্পকে রক্ষা করা। লুই আই কানের মূল নকশায় ফিরে যাওয়া। আর যারা এই নকশার পরিবর্তন করে কবরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, লুই আই কান বিশ্ববিখ্যাত একজন স্থপতি। পৃথিবীতে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় সব দেশের জাতি এগিয়ে আসে। আমাদের কাছে লুই আই কানের একটি নকশা আছে। সেই নকশার কোথাও কোন কবর দেখানো হয়নি। তাই এই মূল নকশা রক্ষায় আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নকশাবহির্ভূত স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকারের আমলে লুই আই কানের নকশা পরিবর্তন করেছে, সংসদ ভবন চত্বরে কবর দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করেছি। তাই আমি মারা গেলে যদি কেউ বলে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মাঝখানে আমাকে কবর দেয়া হোক, এটা কী সম্ভব? কোন ব্যক্তি মারা গেলে যদি সংসদ ভবনের বিশাল সবুজ চত্বরে কবর দিতে চায়, সেই অনুমতি কেউ কী দেবে?

জাসদের শিরীন আখতারের এ বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারী নির্দেশনায় বিভিন্ন সময়ে সংসদ ভবন চত্বরে কবর গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় লুই আই কান প্রণীত সকল নকশা পেনসিলভিনিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচারাল আর্কাইভ থেকে সংগ্রহের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মূল নকশা আনা হলে নকশা অনুযায়ী সংসদ ভবনসহ এ এলাকার সকল স্থাপনার সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং সমন্বয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, মূল নকশা হাতে পেলেই সংসদ ভবনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারব। এছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সংসদ সচিবালয়, দক্ষিণ প্লাজা সবই লুই আই কানের নকশার মধ্যে রয়েছে। তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নকশা আনার পরই মূল নকশায় আমরা ফিরে যাব। মূল নকশাকে আমাদের টিকিয়ে রাখতেই হবে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয়ভাবে কয়েকজনকে কবর দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পীকার তমিজউদ্দীন খান।

এছাড়াও শেরেবাংলা নগরে লুই কানের নকশাবহির্ভূত আরও সাতটি স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি), সংসদের স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের বাসভবন, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরের চারদিকে থাকা চারটি প্রবেশপথের শুরু বা শেষ প্রান্তে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সম্মেলন কেন্দ্র ও মসজিদসহ চারটি স্থাপনা।

নতুন ড্যাপ প্রণয়ন হচ্ছে ॥ ভবনের উচ্চতাকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা মহানগরীর জন্য আরেকটি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এটি ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে। সরকারী দলের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর ইমারতের উচ্চতা নির্ধারণে ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা ২০০৮ এ বর্ণিত ফ্লোর এরিয়া রেসিও এবং সিভিল এভিয়েশনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়ে থাকে।