২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম মহানগরীতে কঠোর নিরাপত্তা, চলছে ব্লকরেইড

চট্টগ্রাম মহানগরীতে কঠোর নিরাপত্তা, চলছে ব্লকরেইড
  • পাঁচ এন্ট্রি পয়েন্টে ব্যাপক তল্লাশি

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ নাশকতার যে কোন ঘটনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দর নগরীর পাঁচটি এন্ট্রি পয়েন্টে সোমবার থেকে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। এর আগে গত শনিবার থেকে চট্টগ্রামে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে শুরু হয়েছে ব্লক রেইড।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর দু’জনের আবেদন শুনানির জন্য সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে। সোমবার এ সংক্রান্তে কার্যতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সিএমপি প্রশাসন সন্ধ্যার আগেই পাঁচ এন্ট্রি পয়েন্টে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করেছে। এগুলো হচ্ছে- সিটি গেট, শাহ আমানত সেতু, কালুরঘাট সেতু, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও অক্সিজেন মোড়। এর আগে থেকে শুরু হয়েছে ব্লক রেইড গত শনিবার চান্দগাঁও এলাকায় এবং রবিবার ইপিজেড এলাকায় ব্লক রেইড পরিচালিত করে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক সন্ত্রাসী, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, গোয়েন্দা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিএমপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানানো হয়, যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের রিভিউ পিটিশনের শুনানির দিন আজ সোমবার ধার্য হওয়ার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে এ বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবগুলো এন্ট্রি পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব যৌথভাবে সন্ধ্যার পর থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল ম-ল ইতোমধ্যেই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নগরীর পয়েন্টগুলো দিয়ে যাতে কোন ধরনের সন্ত্রাসী আনাগোনা করতে না পারে এবং শহর এলাকা স্পর্শকাতর কেন্দ্র ও কেপিআইগুলোতে যেন কোন ধরনের নাশকতা কেউ চালাতে না পারে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে যৌথবাহিনী সদস্যদের টহল তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রে জানা গেছে, সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদনের শুনানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ বাড়তি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করার পর পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে সিএমপি প্রশাসন তা কার্যকর করেছে। তবে সাকার অনুসারীরা প্রকাশ্যে কেউ নেই। রাউজান-রাঙ্গুনিয়া এবং ফটিকছড়িতে সাকার যেসব সমর্থক রয়েছে তারা বহু আগেই গা ঢাকা দিয়েছে। এরপরও পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার পর জনমনে তেমন আপাতত কোন শঙ্কা নেই।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যদের গোপন আস্তানা রয়েছে। ইতোমধ্যে জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যরা ভারী অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আদালতের এদের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে তাদের পরিকল্পনায় বড় ধরনের নাশকতা করার চিন্তা ভাবনা ছিল। কিন্তু তাদের গোপন তৎপরতা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা ব্যর্থ হয়ে গেছে। এরপরও এখন যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তারা চেষ্টা চালাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার। তবে সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল ম-ল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সদস্যদের আনাগোনা থাকলেও বড় ধরনের কোন অঘটন ঘটানোর শক্তি সামর্থ্য তাদের নেই। সুতরাং জনগণের শঙ্কাবোধ করার কোন কারণও নেই। ইতোমধ্যেই সিএমপির পক্ষ থেকে জঙ্গীদের ব্যাপারে প্রশাসনকে খবর দেয়ার আবেদনও তিনি জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, জামায়াত-বিএনপির ক্যাডাররা জঙ্গী সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক হয়ে বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর চেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে এবং দফায় দফায় অভিযান চলার প্রেক্ষিতে এদের আস্তানাগুলো সন্ত্রাসী শূন্য হয়ে গেছে। তবে যারা এখনও ধরা পড়েনি তারা গোপনে গা ঢাকা দিয়ে থেকে অঘটন ঘটাতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। যে কারণে বর্তমানে ব্লক রেইড শুরু করা হয়েছে।