২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়নুলে মলয় বালার চিত্র প্রদর্শনী ‘শকুন্তলার পুনর্মিলনী’

জয়নুলে মলয় বালার চিত্র প্রদর্শনী ‘শকুন্তলার পুনর্মিলনী’
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সবুজের বৈভবে উদ্দীপ্ত ক্যানভাস। বিশাল চিত্রপটের চারপাশে ছড়িয়েছে বৃক্ষের শিকড়। ওই শিকড়ের ভেতর থেকে দৃশ্যমান এক সুন্দরী নারীর অনেক অবয়ব। মনের আনন্দে অনন্য ভঙ্গিমায় তপোবনে নৃত্যরত এই নারীর নাম শকুন্তলা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শকুন্তলা উপাখ্যানের এই নায়িকা উঠে এসেছেন শিল্পী মলয় বালার চিত্রভাষ্যে। নানান রূপে গাছের বাকল পরা তপোবনবাসী শকুন্তলাকে চিত্রিত করেছেন এই শিল্পী। সেই সব ছবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হলো প্রদর্শনী। শিরোনাম শকুন্তলার পুনর্মিলনী।

সোমবার হেমন্তের বিকেলে চারুকলার সামনের বারান্দায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও দিকদর্শন প্রকাশনীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন চন্দ্র পাল। সভাপতিত্ব করেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শিল্পী ড. মলয় বালা।

প্রদর্শনীর চিত্রকর্ম প্রসঙ্গে মলয় বালা বলেন, অজন্তা গুহাচিত্রের নারীচিত্র, মোগল মিনিয়েচারের নারীচিত্র, নব্য-বেঙ্গল রীতিতে অঙ্কিত নারীর চরিত্র কিংবা বাংলার আবহমানকালের নারী চরিত্রের মধ্যে আমি শকুন্তলার প্রতিচ্ছায়া দেখতে পাই। একই শকুন্তলার বহু রূপ বহু ছবিতে এসেছে আমার দীর্ঘদিন ধরে আঁকা শকুন্তলার বিভিন্ন সিরিজচিত্রে। সেই চরিত্রগুলোর পুনর্মিলন ঘটাতেই এ প্রদর্শনীতে শকুন্তলার পুনর্মিলন সিরিজচিত্রের উপস্থাপন। রংমাখা একটা উৎসবের ভেতর দিয়ে উপস্থাপন করেছি শকুন্তলাকে। শকুন্তলার নিরাভরণ ও লাবণ্যময়ী রূপের আদলে সমাজের সমস্ত নারীকে সাজিয়েছে একেকজন হিসেবে। এই শকুন্তলা কখনও প্রেমময়ী, কখনও গৃহিণী, কখনও গায়ক-বাদক কিংবা নর্তকী। প্রাচ্যকলা রীতির আশ্রয়ে জলরঙের ওয়াশ পদ্ধতিতে শকুন্তলাকে উপস্থাপন করেছেন মলয় বালা। অনবদ্য ড্রইং আর রঙের সম্মিলনে প্রকৃতির শোভার সঙ্গে সমান্তরালে মিলিয়ে দিয়েছেন শকুন্তলার সৌন্দর্যকে। নানান রূপে হাজির হয়েছে মহাকবি কালিদাসের নাটক থেকে বিদ্যাসাগরের উপাখ্যানের এই নায়িকা। প্রতিটি চিত্রকর্মেই গাছের শিকড় কিংবা বটের ঝুড়ির ভেতর থেকে আবির্ভূত হয়েছে এই সুন্দরী। একটি ছবিতে দেখা যায় সখীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছে শকুন্তলা। কোথাও বা প্রিয় বান্ধবী প্রিয়ংবদার সঙ্গে একান্ত আলাপে ব্যস্ত কিংবা হরিণশাবককে আদর করছে অথবা দুষ্মন্তের সঙ্গে প্রণয়রত শকুন্তলাকে। এভাবেই মলয় বালার চিত্রভাষ্যে হাজির হয়েছে বহুরূপী শকুন্তলা।

কুড়িটি চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীটি শেষ হবে ২২ নবেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নভেরা আহমেদের ভাস্কর্য জাদুঘরে হস্তান্তর ॥ বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের সদর দফতরে রক্ষিত দেশের আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পের পথিকৃৎ নভেরা আহমেদের একটি ভাস্কর্য জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত হলো। সোমবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নভেরা আহমেদের ভাস্কর্যটি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অন্যতম সদস্য ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান, কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল ও জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পের পথিকৃৎ নভেরা আহমেদের ভাস্কর্য রীতিকে ‘এ্যাবস্ট্র্যাক্ট এক্সপ্রেশনিজম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বলা হয়, আদিম ভারতীয় শিল্পের সরলতার সঙ্গে ইউরোপীয় শিল্পকলার মসৃণতার মিশ্রণ তার ভাস্কর্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিষয় নির্বাচন ও টেকনিকের বিবেচনায় তার শিল্পকর্মে বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ব্রিটিশ ভাস্কর হেনরি ম্যুরের প্রভাব লক্ষণীয়। অন্যদিকে, তার নির্মাণকলায় এক অদম্য, দুর্বিনীত, নির্ভীক শিল্পীর চেতনাধারা অন্তর্লীন হয়ে আছে। এ ভাস্কর্যটি জাদুঘরের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পের পথিকৃৎ নভেরা আহমেদ ভাস্কর্য শিল্পে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। তার একটি মূল্যবান ভাস্কর্য জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত হওয়ায় আমি আনন্দিত। শিল্পচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ ভাস্কর্যটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, জাতীয় জাদুঘর দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মূল্যবান নিদর্শন সংগ্রহ করে থাকে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ইতোমধ্যে সংগ্রহ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ৪০টি শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজে রক্ষিত ভাস্কর্য জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত হলো।