২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সলেমান মৌলবি ও ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শরীয়তপুরের সোলায়মান মোল্লা ওরফে সলেমান মৌলবি ও ইদ্রিস আলী সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে একই মামলায় আসামিপক্ষ এই দুই আসামির জামিন আবেদন করেছেন। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ২৫ নবেম্বর এ বিষয়ে আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল। এদিকে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ সাজাহান কবির জেরা অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার আবারও আসামিপক্ষের আইনজীবী তাকে জেরা করবেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর (সাবেক জেলা জজ) হƒষিকেশ সাহা, প্রসিকিউটর শেখ মোশফিক কবির, প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

এই দুই আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর প্রসিকিউশন ৩ সপ্তাহের সময়ের আবেদন করে। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতেই ১৬ নবেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার মোট সাতজন আসামি। প্রতিবেদন প্রকাশ করা অভিযুক্তরা হলেন-শরীয়তপুর জেলার পালং উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর মুসলিম পাড়ার মৃত চাঁন মোল্লার ছেলে সোলায়মান মোল্লা (৮৪) ও একই থানার মাহমুদপুরের মৃত হামিক আলী সরদারের ছেলে ইদ্রিস আলী সরদার ওরফে গাজী ইদ্রিস (৬৭)।

মামলাটি পরিচালনা করছেন, প্রসিকিউটর (সাবেক জেলা জজ) হƒষিকেশ সাহা ও প্রসিকিউটর শেখ মোশফিক কবির। প্রসিকিউটর হƒষিকেশ সাহা বলেন, শরিয়তপুরের মামলার আমরা ফরমাল চার্জ দাখিল করেছি। আসামিপক্ষ জামিনের জন্য আবেদন করেছেন। আগামী ২৫ নবেম্বর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ট্রাইব্যুনাল। এই দুই আসামির বিরুদ্ধে ২৮ জনকে সাক্ষী ও সিজার লিস্টে আরও ৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এতে সাত খ-ে ৮৫২ পাতার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

দুই আসামির বিরুদ্ধে চার অভিযোগ ॥ ১ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২২ মে, আসামিরা পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর ১০০ থেকে দেড়’শ জন সদস্যসহ শরীয়তপুর জেলার পালং থানা এলাকায় কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কৃষক আব্দুস সামাদসহ প্রায় ২০০ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে গুলি করে হত্যা করে ও বাড়ির মালামাল লুট করে।

২ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২৬ মে, ১৯৭১ সালে জেলার পালং থানার মালোপাড়া ও রুদ্রকর গ্রামে হামলা চালিয়ে মঠের পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা করে ও গ্রামগুলো থেকে মামালাল লুট ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মালোপাড়া থেকে ৩০/৪৫ জন নারী ও পুরুষকে ধরে মাদারীপুর পাকিস্তান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে ৩ দিন আটকে রেখে নারীদের ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে।

৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, জুন একই থানার শৈলেন্দ্র কৃষ্ণ পালের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নির্যাতন করে বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিরা দখলদার বাহিনীর সহায়তায় এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ করে। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে পালং থানার এক থেকে দেড় হাজার মানুষকে দেশ ত্যাগ করে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে।

ননী-তাহের ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ সাজাহান কবির এ র জেরা অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার আসামি পক্ষের আইনজীবী তদন্ত কর্মকর্তাকে আবারও জেরা করবেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোঃ ফজলুর রহমান তালুকদারকে অপহরণ করে ত্রিমোহনী ব্রিজে নিয়ে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

নির্বাচিত সংবাদ