২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৯তম মৃত্যুবাষির্কী আজ। ১৯৭৬ সালের এ দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানী পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কাছে তিনি মজলুম জননেতা হিসেবে পরিচিত।

তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। আর ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে মুসলিম লীগের রাজনীতির কবর রচিত হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে মওলানা ভাসানী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত করা এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখার জন্য আজ মওলানা ভাসানীর মতো নেতার বড় প্রয়োজন।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে ঢাকায় এবং টাঙ্গাইলে বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ, বাংলাদেশ ন্যাপ, শহীদ আসাদ পরিষদ ও বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে আজ সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতার মাজারে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে সকাল ১০টায় শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শহীদ আসাদ পরিষদ ও বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়ক দ্বীপের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠান।

দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, রাজনীতিক, কবি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশ ন্যাপের তিন দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল মহানগরে আলোচনা সভা, মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত, রাজধানীর ফটোজার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ভাসানীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভা এবং প্রত্যেক জেলায় জেলায় আলোচনা সভা।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সকাল ১১টায় আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিকেল ৪টায় শাহবাগ চত্বরে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা টাঙ্গাইল থেকে জানান, গত ১৩ নবেম্বর থেকে পাঁচ দিনব্যাপী শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, কৃষিবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভাসানীর কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মওলানা ভাসানী সম্পর্কে জানতে মেলায় আসছেন, ভিড় জমাচ্ছেন মেলার স্টলগুলোতে। তাদের পদচারনায় মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ।

এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারা ভোগ করেন। ১৯২৩ সালে ভয়াবহ বন্যা হলে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলে আসেন ত্রাণ বিতরণ করতে। এরপর তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের পিছনে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।