১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এমপিওভুক্তির ঘোষণা ছাড়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ছাড়বেন না শিক্ষকরা

  • লাগাতার অবস্থান কর্মসূচীর ২০তম দিনে ঘোষণা;###;অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা ছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কোথাও যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের শিক্ষকরা। সোমবার লাগাতার অবস্থান কর্মসূচীর ২০তম দিনে এমপিওর দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে নড়বেন না।

এদিকে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী। কর্মসূচীতে অংশ নেয়া শিক্ষকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। আমাদেরকে আমাদের পরিবার-পরিজনদের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে সরকারের কোন রকম সাড়া না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছি। কর্মসূচীতে সভাপতি ছাড়াও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার কুন্ডু, সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম তপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেহসহ শতাধিক শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষকরা তাদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলছেন, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ১০-১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করায় তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। গত ৫ বছর ধরে আন্দোলন চললেও সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়ন করছে না। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি আমাদের দাবি পূরণ করবেন বলে আশা করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচী চলবে। তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসার প্রায় ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অর্থ বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে সরকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করছে না। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেও আশ্বাস ছাড়া কোন অগ্রগতি জানাতে পারেননি তিনি। আন্দোলনে যোগ দিতে আসা বরিশাল বাবুগঞ্জ রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাইনি। এখন সংসারে ছেলেমেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। শিক্ষকতার বাইরে জীবিকা অর্জনের মতো এমন সব পেশায় রয়েছি তা ভাষায় বলার মতো নয়। একই দাবি করেছেন যশোরের জিসিবি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর। তিনিও ১৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এমপিও’র আশায়। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা কামনা করে বলছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনি আমাদের পাশে একটু দাঁড়ান। আমাদেরকে আমাদের পরিবার-পরিজনদের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।

আন্দোলনরত সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক লাভলু বলেছেন, অনেকে বলেন আমরা নাছোড়বান্দা। যদি কেউ তা ভাবেন ভাবতে পারেন। তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা মাঠ ছাড়ব না, ঘরে ফিরে যাব না। এ শিক্ষক ও কর্মচারীরা এর আগে ২৬ ও ২৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও ২৮-২৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। এরপর ৩০ অক্টোবর থেকে ৪ নবেম্বর পর্যন্ত লাগাতার অনশন কর্মসূচী পালন করেন তারা।

অনশন কর্মসূচীতে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনশন কর্মসূচী সাময়িক প্রত্যাহার করে ৫ নবেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন তারা।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পাঠদানকারী প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী বিনা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষক ও কর্মচারীদের ৩টি দাবি। এই দাবিগুলো হলো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করতে হবে, যোগদানের তারিখ থেকে বয়স গণনা করতে হবে এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও পাঠদান বন্ধ রাখতে হবে। দাবি পূরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চলবে।