২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়া সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে ওবামা-পুতিন মতৈক্য

সিরিয়ায় রাজনৈতিক উত্তরণ এবং দেশটির জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মতৈক্যে পৌঁছেছেন। তুরস্কের আনাতালিয়া শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের অবকাশে ওবামা ও পুতিন আধা ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেন এবং সেখানে সিরিয়া ইস্যুতে মতৈক্য হয়। দুই নেতাই সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সিরিয়ার জনগণের নেতৃত্বে দেশটির রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। খবর গার্ডিয়ানের।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, দুই নেতা সিরিয়ার চলমান সঙ্কট অবসানের জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও সরকার বিরোধীদের মধ্যে সংলাপ শুরু, দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং সিরিয়ার জনগণের নেতৃত্বে রাজনৈতিক উত্তরণের বিষয়ে একমত হন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বোমা হামলার দুদিন পর দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক হলো। এদিকে এই বৈঠকের একটু আগেই জি-২০ মঞ্চ থেকে ওবামা ঘোষণা দেন, আইএসের বিরুদ্ধে চতুর্গুণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে তার দেশ। এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে জি-২০ বিশ্বের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনারই মঞ্চ। কিন্তু মাত্র দুদিন আগে প্যারিসে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আকাশ কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো সিরিয়া সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার দ্বিগুণ চেষ্টা করবে এবং আইএস জঙ্গীদের প্যারিসের মতো হামলার ঘটনা ঘটানো থেকে প্রতিহত করবে। দুইদিন আগের ভয়াবহ হামলা এবং দেশে জরুরী অবস্থা চলায় জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। এ হামলার পরই ওলাঁদ ঘোষণা করেছিলেন, বর্বরদের প্রতি আর কোন রকম দয়ামায়া দেখাবে না ফ্রান্স। এরপরই সিরিয়ায় আইএসের শক্ত ঘাঁটি রাখায় রবিবার রাতে ফরাসি জঙ্গী বিমান বড় ধরনের অভিযান চালায়। এ রণহুঙ্কার আইএস দমন অভিযানে পশ্চিমা শক্তিগুলোর অবস্থানে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা আর কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তার আগে রবিবার ওবামা-পুতিন বৈঠক আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও উস্কে দিল। পুতিন শুরু থেকেই আইএসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানোর পক্ষপাতী। সেপ্টেম্বর মাস থেকে সিরিয়ার বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। সিরিয়ানীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে পুতিনের স্পষ্ট বিরোধ আছে।