১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস'র বিরুদ্ধে স্থল অভিযান কতটা জরুরী

আইএস'র বিরুদ্ধে স্থল অভিযান কতটা জরুরী

অনলাইন ডেস্ক ॥ প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস’র বিরুদ্ধে স্থল অভিযানের দাবী উঠেছে পশ্চিমা বিশ্বে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট গত বছর থেকে ইরাক এবং সিরিয়ায় আইএস’র বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু সম্ভাব্য স্থল অভিযান কতটা ফল দেবে? এবং সে সিদ্ধান্ত নেয়া আদৌ সহজ কিনা?

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড: আলী রীয়াজ বিবিসি বাংলার কাছে সে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। আইএস'র বিরুদ্ধে স্থল অভিযান পরিচালনা করার সমস্যা এবং সম্ভাবনা – দুটোই রয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং স্থল অভিযানের যে দাবী উঠছে তার বাস্তব ভিত্তি আছে।

ড: রীয়াজ বলেন, “শুধু বিমান থেকে বোমা ফেলে আইএসকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই স্থল অভিযান কে পরিচালনা করবে এবং কারা তাতে অংশ নেবে - সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”

সিরিয়াতে মার্কিন সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি যে ভুল হবে সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পরিষ্কার করেই বলেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা মনে করেন, সিরিয়াতে বাইরের কোন শক্তি পাঠিয়ে সে জায়গা দখল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এই যুক্তির সাথে একমত অধ্যাপক রীয়াজ।

তিনি বলেন , “যদিও স্থল অভিযান ছাড়া আইএসকে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব, কিন্তু তা করতে হবে স্থানীয়ভাবে ইরাক এবং সিরিয়ার জনগোষ্ঠী এবং সৈন্যবাহিনী সাথে নিয়ে।”

এর পাশাপাশি সে অঞ্চলের অন্যান্য শক্তিগুলোকে সাথে নেয়া যেতে পারে।

কিন্তু এর বাইরে যদি অন্য কোন শক্তি স্থল অভিযানে যুক্ত হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে মনে করেন অধ্যাপক রীয়াজ।

জাতিসংঘ যদি কোন প্রস্তাব গ্রহণ করে তাহলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সিরিয়ার স্থল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তবে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সিরিয়ার কোন যুদ্ধ বিরতি করা যায় কিনা সে বিষয়টিও চিন্তা করা হচ্ছে।

ভিয়েনাতে ২০টি দেশের যে আলোচনা হয়েছে সেখানে সিরিয়া বিষয়ে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি তৈরির ব্যাপারে তারা একমত হয়েছেন।

এছাড়া ১৮ মাসের মধ্যে সিরিয়াতে একটি নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও দেশগুলো একমত হয়েছে।

এমন অবস্থায় সিরিয়া সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

ড: রীয়াজ বলেন , “ শেষ পর্যন্ত কোনটি কার্যকর হবে আমরা জানি না। কিন্তু যেটাই হবে, সেটা জাতিসংঘের মাধ্যমে কার্যকরী হতে হবে।”

তিনি মনে করেন, স্থল অভিযানের আগে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পাবে। সেজন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাশ হবার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন অধ্যাপক রীয়াজ।

সূত্র : বিবিসি ‍বাংলা