১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুক অপরাধ

সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আন্তঃমহাদেশীয় যোগাযোগের সহজ মাধ্যমটি মানুষকে দূর থেকে টেনেছে কাছে। সম্পর্কের গভীরতাকে দিয়েছে আরও ব্যাপকতা। তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদান শুধু নয়, পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা, মতামত প্রদানের সহজতর মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের অবস্থান জীবনযাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের বিপরীতে নেতিবাচক চিত্রও মেলে। ফেসবুকের মাধ্যমে ‘সাইবার’ অপরাধ বাড়ছে। ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অনেক ধরনের অপকর্ম হচ্ছে। বাংলাদেশ সব সময় এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছে। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘটিত সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে সার্ভার বসাতে সম্মতি জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তাদের বলা হয়েছে, এসব অপকর্ম বন্ধ করতে বাংলাদেশে একটি সার্ভার বসাতে। এটা সম্ভব হলে অনেক অভিযোগের সমাধান হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি বা এ্যাকাউন্ট হ্যাক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যাকিং সংখ্যা অসংখ্য। সেখানে টেলিফোনে তেমন ঝামেলা নেই আড়িপাতা ছাড়া। তবে বাংলাদেশে সিকিউরিটি বিষয়টি মোবাইল ফোনে বেশি। দেশে এমটিএসসি রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় তা বিটিআরসি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারী পর্যায়ে ‘মিউচুয়াল এ্যাগ্রিমেন্ট’ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে। কারণ ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। তাই চুক্তি হলে এ ক্ষেত্রে সুবিধা মিলবে। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেসবুক ও গুগলের এ্যাডমিন প্যানেল বসাতে বিটিআরসি আবেদন জানিয়েছিল সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য। প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও তাদের কাছ থেকে কোন জবাব মেলেনি। এ সমঝোতা হলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ফেসবুক এবং গুগলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাবে এবং ক্ষতিকর উপাদান বন্ধে সহজ ব্যবস্থা নিতে পারবে। কোন ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগে সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলে কিংবা ক্ষতিকর কোন উপাদান সংযুক্ত করা হলে তার বিরুদ্ধে সহজেই ব্যবস্থা নেয়া যায়। ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের মাধ্যমে সহজেই ওই ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগের লিঙ্ক বন্ধ করা যাবে। তবে ফেসবুক কিংবা গুগল পরিচালিত ইউটিউবের কোন লিঙ্ক এককভাবে বন্ধ করা যায় না। এক লিঙ্ক বন্ধ করতে গেলে পুরো ডোমেইন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফেসবুক ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হন। দেখা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সরকারী পর্যায়ে ফেসবুক কিংবা গুগলের কোন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি না থাকায় ফেসবুকের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও তারা তা দেয় না। গুগলের কাছে কোন ইউটিউব লিঙ্ক বন্ধের আবেদন জানানো হলে তারা আমলেই নেয় না। এ কারণে অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফেসবুক এবং গুগলের এ্যাডমিন প্যানেল স্থাপন করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে তাদের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করার বিষয়ে গত মে মাসে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এদেশে মূলত সেলস অফিস খোলার মাধ্যমে ফেসবুক বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সেবা বিক্রি করার কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ আহ্বান জানিয়েছিল, বাংলা ভাষায় ফেসবুক, বাংলাদেশে আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ও স্থানীয়ভাবে গবেষণা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে লোকাল এ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য জনপ্রিয় অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ফেসবুক শিক্ষা সহায়ক টুলস প্রচলনের জন্য। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে শুধু ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। এছাড়া ফেসবুকে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সীদের হার ৪২ শতাংশ। বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। তাই সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে এমন প্রত্যাশা সবার।