২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে শীঘ্রই পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ

  • চাকরি প্রবিধানমালা চূড়ান্ত

এম শাহজাহান ॥ আইনানুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে শীঘ্রই পর্যাপ্তসংখ্যক জনবল নিয়োগ করা হবে। এ লক্ষ্যে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৫ চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বিধিমালাটি ভেটিংয়ের জন্য চলতি সপ্তায় আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে চাহিদামতো জনবল নিয়োগ করবে। এক্ষেত্রে যোগ্যতার অভাবে বর্তমান ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে নিয়োজিত অনেকেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত নাও হতে পারেন। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার বিচারে টিকে গেলে নিয়োজিতদের ব্যাংকটিতে প্রবেশে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ চাকরি বিধিমালাটির ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩০ জুন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপরই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্থায়ী রূপ পাবে। প্রকল্পটি বিলুপ্ত হওয়ার পর সকল সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধাদি এবং স্থাবর ও অস্থাবর, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, কর্মসূচী এবং অন্য সকল প্রকার দাবি ও অধিকার ব্যাংকে হস্তান্তরিত হবে এবং ব্যাংক তার স্বত্বাধিকারী হবে।

যদিও ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে ইতোমধ্যে এমডি নিয়োগসহ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইনানুযায়ী ১৮ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটিতে ৭ হাজার ১৬২ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। এছাড়া চাকরি বিধিমালা অনুমোদনের পর দেশের ৪৮৫ উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৪৮৫টি শাখা খোলা হবে। এক্ষেত্রে শাখা খোলার অনুমোদন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ঘোষণার পর ইতোমধ্যে গ্রামীণ সঞ্চয় উৎসাহিত হচ্ছে। বর্তমান এই প্রকল্পে ৪০ হাজার সমিতি রয়েছে এবং দেশের মোট ২৫ লাখ পরিবার এর সদস্য। সমিতির সদস্যরা নিয়মিত এখানে সঞ্চয় করছেন, যা দেশের মোট সঞ্চয়ের প্রায় ২২ শতাংশ। এই সঞ্চয়ের ১৫ শতাংশ গ্রামে ব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির পরিধিও অনেক বেড়েছে।

জানা গেছে, চাকরি বিধিমালা অনুমোদনের পর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অনুমোদিত জনবল বৃদ্ধি করে ১০ হাজার ১৫৬ তে উন্নীত করা হবে। ব্যাংকটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৭ হাজার ১৬২টি। ব্যাংকটি কাজ শুরু করলে প্রকল্পের বাইরে অনেক কাজ করতে হবে। শুধু তাই নয়, রাজধানীতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

এছাড়া সারাদেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়াতে তিন ক্যাটাগরির উপজেলায় ৯ হাজার ৩৮৩টি, দুই ক্যাটাগরির জেলা শাখায় ৫৬৮টি ও প্রধান কার্যালয়ের জন্য ২০৩টি পদ প্রয়োজন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০ হাজার ১৫৪টি সাংগঠনিক পদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে ব্যাংকিং বিভাগ। প্রকল্পের বাইরে নতুন করে ২ হাজার ৯৯৪টি পদের জন্য বছরে ব্যয় হবে ২২৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

চাকরি বিধিমালা ও ব্যাংকটিতে কারা নিয়োগ পাচ্ছেন জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ নূরুন নাহার জনকণ্ঠকে বলেন, নিয়োগ দেয়ার দায়িত্ব ও ক্ষমতা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক চাকরি বিধিমালা আইনটি প্রণয়ন করে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি চূড়ান্ত করে এখন ভেটিংয়ের আইন মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই ভেটিং শেষে এটি অনুমোদন পেলে ব্যাংকটি জনবল নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের চাকরি নিয়োগে যেসব নিয়মনীতি ও বিধি অনুসরণ করা হয় এক্ষেত্রেও তাই হবে। তাই যোগ্যরাই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে নিয়োগ পাবেন। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে যারা কাজ করছেন, তাদের মধ্য থেকে শুধু যোগ্যদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পকে বিলুপ্ত করে সেটি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে রূপ দেয়া হয়েছে। বর্তমান ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা।

পরিশোধিত মূলধনের ৫১ শতাংশ সরকার ও ৪৯ শতাংশ প্রকল্পের আওতায় গঠিত শেয়ারহোল্ডার সমিতি কর্তৃক পরিশোধ হবে। ১৫ পরিচালকের মধ্যে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত আট পরিচালক থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করবে সরকার। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৬৫ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন।