২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামুদ্রিক মাছ আমদানি বন্ধ হচ্ছে

  • সিদ্ধান্ত নিতে মৎস্য অধিদফতরের বৈঠক আজ

জসিম উদ্দিন ॥ দেশের চাহিদার তুলনায় মাছ উৎপাদন এখনও কম। যদিও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদনে চতুর্থ। ঘাটতি মেটাতে তাই আমদানি করতে হয়। যা বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি প্রোটিন চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখে। এমন যখন অবস্থা তখনই সামুদ্রিক মাছ আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মৎস্য অধিদফতর। আজ বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা বিবেচনায় সরকারের মৎস্য বিভাগের অনেক কর্মকর্তাই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সামুদ্রিক মাছ আমদানি বন্ধ করতে মৎস্য অধিদফতরের নেয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিশ ইম্পোটার্স এ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি আশরাফ হোসেন মাসুদ ১৫ নবেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীকে দেয়া এক চিঠিতে সামুদ্রিক মাছ আমদানি বন্ধ করার পরিবর্তে এর মান যাচাই করতে সরকারী ল্যাবে পরীক্ষা করে স্থানীয় বাজারে ছাড়া দাবি করেন। এতে ‘সরকার বিরোধী মনোভাব’ সৃষ্টি হতে পারে। আশরাফ হোসেন মাসুদ বলেন, মাছ আমদানি বন্ধ করলে স্থানীয় বাজারে সামুদ্রিক মাছের দাম কয়েকগুণ বাড়তে পারে। যা নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া মাছ আমাদানি থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তা বন্ধ হয়ে যাবে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য মতে, দেশের মোট প্রোটিন চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজন ৪৫ লাখ টন মাছ। এর বিপরীতে যোগান আছে ৩৫-৩৬ লাখ টন। এর মধ্যে আমদানি হয় ৬০-৬৫ হাজার টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মাছ আমদানি হয় ৪১ হাজার ৬২৭ টন আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাছ আমদানি হয় ৫৭ হাজার ৩১০ টন। সম্প্রতি মৎস্য অধিদফতরের এক বৈঠকে মাছ আমদানি বন্ধের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। যেসব সামুদ্রিক মাছ বাংলাদেশ আমদানি করে তা তুলনামূলকভাবে কমদামের। বিশেষ করে মিয়ানমারে মাছের দাম বাংলাদেশের তুলনায় সস্তা। তাই নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের চাহিদা বিবেচনায় রেখে এসব মাছ আমদানি করা হয়।

হঠাৎ করে এসব মাছ আমদানি বন্ধ করলে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে অনেকেই এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছে। কেউ কেউ আলোচনার সময়ও পায়নি। তবে, শেষ পর্যন্ত সামুদ্রিক মাছ আমদানি বন্ধ করার বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।