১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিকেজের পরও ব্যবহার, নিম্নমানের সিলিন্ডার

লিকেজের পরও ব্যবহার, নিম্নমানের সিলিন্ডার
  • গ্যাস বিস্ফোরণের নেপথ্যে;###;বছরে গড়ে মারা যায় ৯০ জন

আজাদ সুলায়মান ॥ কাক ডাকা ভোরে রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। গৃহকর্মী সখিনা চুলার সুইচ খোলা রেখেই চলে যান পাশের ফ্ল্যাটে। ওখানে ঠিকই গ্যাস থাকায় রান্নার কাজ করেন এক ঘণ্টা। তারপর ফিরে আসেন নিজের রান্নাঘরে। এবার ফের চুলা ধরাতে ম্যাচের কাঠি জ্বালান। তাতেই বিকট শব্দে আঁৎকে ওঠেন। চোখের পলকেই আগুনের কু-লীতে পড়ে যান। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের সব রুমে। এতে অগ্নিদগ্ধ হন ডাইনিং টেবিলে বসে নাস্তা করতে থাকা গৃহকর্ত্রী রেহেনা, তার পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকা এক মেয়ে ও দুই ছেলেও আগুনে পোড়ে। তাৎক্ষণিক তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কদিন পর মারা যান সখিনা ও রেহেনা। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেহেনার ছোট ছেলে রেদওয়ান। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে আসেন রেহেনার বড় মেয়ে আফসানা ও বড় ছেলে তানভীর। ভয়ঙ্কর এই অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর আশকোনা এলাকায়।

রেদওয়ানের মতো এমন অসংখ্য ভিকটিম এখনও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় কাতর। প্রতিটি ঘটনায় দেখা যায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য এভাবে গ্যাসের চুলা বা সিলিন্ডার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালেও ওয়ারীতে একই পরিবারের তিন জন গ্যাস সিলিন্ডার বি¯েফারণে অগ্নিদগ্ধ হন। তারা এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।

গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতি মাসেই রাজধানীতে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অভিমত-আশু পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আসছে শীতে আরও বাড়বে। এটা শুধু রাজধানী নয়-মফস্বল শহরগুলোতেও এ ধরনের বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। প্রশ্ন উঠেছে- কেন এ দুর্ঘটনা? কী তার প্রতিকার ? কারা দায়ী ?

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কয়েকটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করে জানা যায়, নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, সঠিক তদারকি বা নজরদারি না থাকা, গৃহিণীদের অসচেতনতার কারণেই ঘটছে এ ধরনের দুর্ঘটনা। এ জন্য দায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক বিভাগ ও এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খোদ রাজধানীতেই গত তিন মাসে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার বি¯েফারণের ঘটনা ঘটেছে ১১টি। এতে প্রাণ হারিয়েছে এক ডজনেরও বেশি। এ সব পরিবারের ভুক্তভোগীদের আলাপ করে দেখা গেছে-সিলিন্ডার ও গ্যাসের চুলার বিস্ফোরণের মূল কারণ ত্রুটিপূর্ণ চুলা ও সিলিন্ডার। এই এগারোটি দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে-ব্যবহারকারীর গাফিলতি ও ভুল এবং ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ ও সিলিন্ডারকেই দায়ী করা হয়েছে।

আশকোনার বাসায় আমেরিকা প্রবাসী আবুল কাশেমের বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ভয়াবহতা থেকে রেহাই পায়নি ওই বাসার দরজা জানালা বেলকনি এমনকি পাশের বাসার দেয়ালও। সবই ভেঙ্গে চুরমার। ঘটনার পর পরই যে ধ্বংসযজ্ঞ চোখে পড়ে তাতে ডিনামাইটের আঘাতের সঙ্গে তুলনা চলে।

ওই আগুনের অন্যতম ভিকটিম রেহেনার কলেজপড়ুয়া মেয়ে আফসানা বলেন- প্রতি ভোরে পাশের বাসা থেকে কাজ করতে আসতেন গৃহকর্মী সখিনা। সেদিনও আজানের সময় সখিনা এসে রেহেনার ঘরে ঢুকে দেখেন চুলায় গ্যাস নেই। তখন তিনি পাশের ফ্ল্যাটে গিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করে ফিরে আসেন। যখন ম্যাচের কাঠিটা জ্বালালেন তাতেই বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আমরা সবাই পুড়ি। আমি তখন ঘুমে। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি মা নিচে ঘরের বাইরে সিঁড়ির কাছে। তার সারা শরীর পোড়া।

আফসানা এ আগুনের জন্য দায়ী করেন-গৃহকর্মী সখিনা অসচেতনাকে। তিনি যখন চুলা অন করেন তখন চুলায় গ্যাস ছিল না। কিন্তু চুলা অন রেখেই পাশের বাসায় গিয়ে ঘণ্টা খানেক থাকার সময় গ্যাস এসে যায়। ততক্ষণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে সারা ঘরে। সখিনা সেটা বুঝতে না পেরে ম্যাচের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হতে হয় আমাদের সবাইকে।

একই কারণে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওয়ারীর রথখোলার একটি বাসাতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত। ওই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ তিনজনের একজন শনিবার দিন হাসপাতালে মারা যান। বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে আরও চারজন আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে আগুন লেগে যায়। এ সময় ওই বাড়ির মালিক হোসনে আরা (৪৮) ও তার স্বামী আলমগীর হোসেন (৬০) ও তার ছেলে সামলীলা আলম (১৯) মারাত্মক দগ্ধ হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল কর্মীরা রাত ১টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।

বাড়ি মালিক হোসনে আরার ভাই আব্দুস সাত্তার জানান, রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেন রান্নাঘরে পানি গরম করতে যান। চুলা জ্বালানোর গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন দুলাভাই আলমগীরের শরীরে ধরে যায়। রান্না ঘর থেকে আগুন দ্রুত পাশে বেড রুমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বোন হোসনে আরা ও ভাগিনা সামলীলা আলমের শরীরে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ওয়ারী থানার ওসি জেহাদ হোসেন জানান, গভীর রাতে দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর ‘বিস্ফোরণের মতো হয়’। এ সময় ওই বাড়ির দেয়ালের একটি অংশ ধসে পাশের টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ওই টিনশেড বাড়ির চারজন আহত হয়। পরে হাসপাতালে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি জানান, দ্বিতীয় তলায় গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল। রাতে সম্ভবত কেউ আগুন জ্বালাতেই জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ফায়ার কর্মীরা তদন্ত করে দেখছেন।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব বিস্ফোরণের জন্য দায়ী কে? কার ভুল ত্রুটি বা গাফিলতির দরন বার বার ঘটছে এ ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে?

এ বিষয়ে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়-চলতি বছর রাজধানীসহ দেশব্যাপী শুধু গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৮৭ জনের প্রাণহানি ঘটছে। এ জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার, আবাসিক ব্যবহারকারীর গাফিলতি ও অসচেতনতা। এ ছাড়া তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্বপালনেও অবহেলা দায়ী। ত্রুটিপূর্ণ লাইনের কারণে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটছে আশঙ্কাজনক হারে। মাস ছয়েক আগে কলাবাগানের রাস্তার পাশে ওয়াসার কাজ করার সময় গ্যাস বিস্ফোরণের শিকার হন একই পরিবারের ৭ জন। তাদের দুজন মারা যান।

এ ছাড়া সবুজবাগ জুরাইন ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীতেও গত ছয় মাসে চারটি গ্যাস বিস্ফোরণের দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান রয়েছে।

এসব দুর্ঘটনায় ওই মহল্লার লোকজন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এ জন্য দায়ী করেন গ্যাস কর্তৃপক্ষকে।

গত বছরের ডিসেম্বরের দিকে লালবাগেও গ্যাস লিকেজের দরুন একটি পরিবারের তিন জন মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হন। তখন ওই পরিবার এ জন্য দায়ী করে গ্যাস কোম্পানির ওপর। কারণ বার বার অভিযোগ করার পরও গ্যাস কোম্পানি সেই লাইনের লিকেজ মেরামত করেনি। এ ধরনের গাফিলতির কারণেই বার বার ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

এ জাতীয় দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাবার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানি থেকেও নগরবাসীকে সচেতন করার কোন উদ্যোগও চোখে পড়ছে না। লাইনের ত্রুটির কারণে যদি গ্যাসের চুলায় বা ঘরে আগুন ধরে সেটার দায়ভার অবশ্যই ওই কোম্পানির বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ হচ্ছে-গ্যাসের লাইন বা চুলায় ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সারিয়ে নেয়া। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে সেটা ঠিক না করা পর্যন্ত একেবারে বন্ধ রাখা। যদি লাইনে লিকেজ বা ত্রুটি থাকে তাহলে যে করেই হোক তাৎক্ষণিক সেটা ঠিক করা। নিকটবর্তী গ্যাসের লোকজন সাড়া না দিলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সেটা সারিয়ে নিতে হবে।

প্রতিবারই রান্না শেষে ভাল করে খতিয়ে দেখতে হবে সেটা সুইচ অফ করা হয়েছে কি না। লাইনে গ্যাস না থাকাবস্থায়ও যদি সুইচ অন করা হয় সেটা সেভাবে না রেখে মনে রেখে অবশ্যই বন্ধ করা। কিছুতেই রান্নাঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখা যাবে না। ঈদে বা অন্য কোন বড় ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাবার পূর্ব মুুহূর্তে রান্না ঘরের চুলার সুইচ ভাল করে বার বার চেক করে দেখতে হবে। কারণ টানা কয়েকদিনের ছুটির সময় রাজধানীতে এমনিতেই গ্যাসের প্রবাহ বাড়ে। তখন যদি সে চুলার সুইচ খোলা থাকে তাহলে কয়েকদিনের গ্যাসে পুরো বাসা ভরে গিয়ে অবস্থা দাঁড়ায় সেটার বিস্ফোরণ ডিনামাইটের চেয়েও শক্তিশালী ও ভয়াবহ। কাজেই প্রত্যেক গৃহিণী এমনকি গৃহকর্তার উচিত দীর্ঘছুটিতে বাসায় তালা লাগিয়ে যাবার আগে ভাল করে সেটা বন্ধ করা। ছুটিতে ফেরার পর বাসায় ঢুকেই প্রথমে সিগারেট ধরানোর জন্য ম্যাচ না জালিয়ে আগে দরজা জানালা খুলে ফ্যান ছেড়ে ভেতরের গুমোট ভাব দূর করা। এতে কোন ধরনের গ্যাস লিকেজজনিত গ্যাস জমে থাকলেও সেটা দূরীভূত করা সম্ভব কয়েক মিনিটে। এ ছাড়া রুমে গ্যাস ছড়িয়ে জমে আছে কিনা সেটা চোখে দেখা না গেলেও গন্ধ পাওয়া যাবে। কোন ধরনের গন্ধ নাকে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে দরজা জানালা খুলে কিছুক্ষণের জন্য ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বাতাসের মাধ্যমে বাসাকে গ্যাসম্ক্তু করা।

ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়- গ্যাস বিস্ফোরণের বেশির ভাগই ঘটছে সিলিন্ডারে। রাজধানীতে শীতে তীব্র গ্যাস সংকটের দরুন প্রায় বাসাতেই এখন সিলিন্ডারের ব্যবহার চলছে। তিতাস গ্যাসের লাইনের চেয়ে সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ আরও বিপজ্জনক।

এ পর্যন্ত দেখা গেছে সিলিন্ডারের ব্যবহার যত বাড়ছে-এতে দুর্ঘটনাও তত বাড়ছে। একটি সিলিন্ডার কতটা নিরাপদ সেটা যাচাই করা সম্ভব নয় ব্যবহারকারীর পক্ষে। এটা দেখভালের দায়িত্ব বিস্ফোরক অধিদফতরের।

এ সম্পর্কে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা বলছেন-দেশে বর্তমানে একাধিক কোম্পানি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবসা করছে। তাতে দেখা যায়-শীর্ষ স্থানীয় দাবিদার কোম্পানির সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হচ্ছে। তাতে প্রাণহানি ঘটছে।

বিস্ফোরক অধিদফতর সূত্র জানায়- যে নিয়মে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করার কথা-সেটা মানা হচ্ছে না। প্রতিটি সিলিন্ডার প্রতি তিন বছর পর পর বিস্ফোরক বিভাগ থেকে পরীক্ষা করিয়ে অনুমোদন নিতে হয়। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলিন্ডার কোম্পানিগুলো বছরের পর বছর ধরে পুরনো ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। যে কারণে প্রায়ই ব্যবহারকারীর সামান্য ভুল ত্রুটি বা অসচেতনতার দরুন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে এসব সিলিন্ডার কতটা নির্ভরযোগ্য সেটাও কোন তদারকি নেই। যে কারণে কেউ শুনছে না কারোর কথা। আইন লঙ্ঘঘন করেই চলছে বছরের পর বছর ধরে এহেন অসাধু বাণিজ্য। আর খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

কি বলছেন আইনজ্ঞ ॥ এ সব দুর্ঘটনার দায় কার প্রশ্ন করা হলে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে খ্যাত এ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ জনকণ্ঠকে বলেন-কি কারণে কোন দুর্ঘটনা ঘটছে সেটার ওপর নির্ভর করছে দায়ভারের বিষয়টি। গ্যাস সিলিন্ডারের ত্রুটি থাকলে, কিংবা গ্যাস পাইপ লাইনে কোন ত্রুটি থাকলে তার দায়ভার অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের । যদি রান্নাঘরের ভেতর গ্রাহকের ভুল ত্রুটি গাফিলতি বা অজ্ঞতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে সেটার দায়ভার তারই। সে ক্ষেত্রে গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাস কোম্পানির ওপর দায়ভার চাপানো যাবে না।

রাস্তায় বা বাসার বাইরে তিতাস গ্যাসের পাইপে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় যদি হতাহত ঘটে সেটার ক্ষতিপূরণ ওই কোম্পানিকেই দিতে হবে।

কি করণীয়?

রান্নাঘরের কাজ শেষে মনে রাখতে হবে চুলার সুইচ বন্ধ রাখতে হবে । রাতে ঘুমানো আগে শেষবারেরর মতো চেক করতে হবে। যদি গ্যাস না থাকার সময় সুইচ অন করে থাকেন, তারপর আরও সতর্ক থাকতে হবে যাতে গ্যাস আসার পর সুইচ বন্ধ করা হয়েছে কি না সেটার দিকে। পূজা বা ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে শহর ছেড়ে যাবার আগে ভাল করে সুইচ বন্ধ করা। ফেরার পর ঘরে ঢুকেই তাড়াহুড়ো করে রান্না ঘরে না গিয়ে, সিগারেট ধরানোর জন্য ম্যাচ ব্যবহার না করে আগে ফ্যান ছেড়ে ঘরের বন্ধ গুমোট হাওয়া দূরীভূত করা। সিলিন্ডার বা চুলায় ত্রুটি থাকলে বা পাইপে লিকেজ ধরা পড়লে সেটা গাফিলতি বা কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক মেরামত করে নেয়া।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পরিচালক ডাক্তার সামন্ত লাল জনকণ্ঠকে বলেন-বার বার বলে আসছি যারাই গ্যাসের চুলা বা সিলিন্ডার ব্যবহার করেন-কিংবা ইলেট্রিক বয়লারের কাজ করেন-তাদেরকে অবশ্যই সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। শুধু একটু সচেতন হলেই এ ক্ষেত্রে শতকরা ত্রিশ ভাগ দুর্ঘটনা কমে আসবে। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করতে হবে, রান্না শেষে কিভাবে সুইচ ঠিকমতো বন্ধ করা হয়েছে কিনা সেটার দিক নির্দেশনা গ্যাস কোম্পানির করা উচিত।