২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফ্রান্সজুড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন

  • আইএস হামলার আশঙ্কায় ভারতের সকল রাজ্যে দ্বিতীয় দফা সতর্কতা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে ফ্রান্সজুড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইএস জঙ্গীদের এই হামলার প্রেক্ষিতে ভারতের সকল রাজ্যে দ্বিতীয়দফা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে জনবহুল এলাকায় হামলা চালাতে পারে আইএস। পাশাপাশি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম যুব সমাজের একাংশ আইএস ভাবধারায় প্রভাবিত হচ্ছে কিনা তাও নজরে রাখতে বলা হয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপি, এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও আলজাজিরা অনলাইনের।

শুক্রবারের ওই ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের ধরতে ফ্রান্সজুড়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সারা রাত ধরে চলেছে অভিযান। এই হামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন সালাহ আবদে সালামকে ধরতে চলছে চিরুনি অভিযান। ফরাসী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানার্ড কাজনভ বলেছেন, এ পর্যন্ত ফ্রান্সের বহু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে বেলজীয় নাগরিক সালাহ আবদে সালাম হয়ত সীমান্ত পেরিয়ে বেলজিয়ামে পালিয়েছে। তিনি বলেন, বেলজীয় পুলিশ এই সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সজুড়ে অতিরিক্ত ১ লাখ ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ফরাসী ভুখ-ে অতিরিক্ত ১ লাখ ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছি। এর মধ্যে পুলিশ, আধা সামরিক সদস্য এবং সেনাবাহিনী রয়েছে। এসব সদস্য সকল ফরাসী নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবে। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের জন্য আরও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্যারিসে এই সন্ত্রাসী হামলার পরও আইএস বিরোধী লড়াইয়ে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তুরস্কে সদ্য সমাপ্ত জি-২০ সম্মেলনে তিনি বলেন, আইএস দমনে স্থল সৈন্য পাঠানো হবে ভুল সিদ্ধান্ত। বরং মার্কিন নেতৃৃত্বাধীন বাহিনী আইএস নির্মূলে বিমান হামলা অব্যাহত রাখলেই ভাল ফল আসবে বলে মত দেন ওবামা। তিনি আরও বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের জন্য মার্কিন সেনা না পাঠানোর মতটি কেবল তার একার নয়, বরং তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টারাও এর পক্ষে। তারাই তাকে বলেছেন, আইএস মোকাবিলায় স্থলসেনা পাঠানোটা ভুল হবে।

প্যারিসে গত শুক্রবারের জঙ্গী হামলায় ১২৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর আইএস-এর ওপর হামলা জোরদার করেছে ফ্রান্স। এ অভিযানে একজোট হতে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়াকেও আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।

ওদিকে একই সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেন, আইএস জঙ্গীদের অর্থের যোগান দিচ্ছে ৪০ দেশ। আর এর মধ্যে জি-২০ জোটের কয়েকটি দেশও রয়েছে। জি-২০ সম্মেলনের শেষ দিন জোট নেতাদের উপস্থিতিতে এ কথা বলেন পুতিন। বক্তব্য শেষে জোট নেতাদের হাতে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ এবং ছবি তুলে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এসব দেশের সরকার নয়, গুটিকয়েক নাগরিক এবং বেসরকারী সংস্থা এসব অর্থ আইএসের তহবিলে জমা দিচ্ছে।

ভারতের সকল রাজ্যে সতর্কতা জারি করে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আইএসসিস কোন নির্দিষ্ট দেশ নয়, সারা পৃথিবীর কাছেই আশঙ্কার। ভারতেও আক্রমণ চালাতে পারে এই জঙ্গী গোষ্ঠী। খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে গোটা দেশের মধ্যে ১২ রাজ্যে আইএসের প্রভাব রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে। মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতেই আইএসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমেও এর প্রভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের দমদমে এক যুবককে আইএস ভাবধারা প্রচারের অপরাধে আটক করে পুলিশ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, ধীরে ধীরে এ দেশের একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় রয়েছে আইএস। এতে শিক্ষিত যুবকদের কাজে লাগানো হচ্ছে।

আইএসের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের উদ্বেগ হলো, লস্কর বা আল কায়েদা জঙ্গীদের নিজ প্রশিক্ষণ শিবিরে এনে প্রশিক্ষণ দিয়ে তারপর তাদের ব্যবহার করত। কিন্তু আইএস স্রেফ ইন্টারনেট ব্যবহার করে যুবকদের আইএস ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করছে। কীভাবে বোমা বানানো যায়, এবং তা জনবহুল এলাকায় ব্যবহার করলে সবথেকে বেশি ক্ষতি হতে পারে সে ঘরে বসেই ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারছে আইএস সদস্যরা।

ফ্রান্স এখন যুদ্ধাবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। সোমবার ভার্সাই প্রাসাদে পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি অনেকটা নজিরবিহীনভাবে দেয়া এক ভাষণে তিনি একথা বলেছেন। ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রমণকারীরা সিরীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে শরণার্থী পরিচয় দিয়ে গত মাসে গ্রিস হয়ে ফ্রান্সে ঢুকেছিল। পুলিশ যেন কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই কারও বাসায় তল্লাশি চালাতে পারে এবং প্রয়োজনে যে কাউকে গৃহবন্দী করে রাখতে পারে সেলক্ষ্যে দ্রুত সংবিধান সংশোধনের জন্য কাজ করার জন্য ওলাঁদ পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দেশের ভেতর ইসলামী চরমপন্থীদের উত্থান রোধ এবং দেশের বাইরে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) নিশ্চিহ্ন করতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন। পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে ওলাঁদ বলেন, ফ্রান্স এখন যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। সরকারের নজরদারি ক্ষমতা কিভাবে আরও বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে তিনি আদালতের পরামর্শ চাইবেন বলে জানিয়েছেন।