২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস বার্নিকাট। এজন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সহযোগিতা দিতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসে একথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস বার্নিকাট। মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি নিজেই সাংবাদিকদের কাছে এ আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া আগামী ২৩ নবেম্বর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) দ্বিতীয় বৈঠকে হযরত শাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ‘ক্যাটাগরি ওয়ান’ স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলেও জানান বার্নিকাট।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সব সরকারকে নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। ‘সন্তোষজনক নয়’- এমন কথা আমরা বলব না। তবে পরিস্থিতি আরও ভাল করতে সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি আমরা। নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ৪৪ বছরের সুসম্পর্ক। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছি, অন্য দেশকেও করছি।

যুক্তরাষ্ট্র সব জায়গাতেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বলে উল্লেখ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা সারাবিশ্বের যে কোন স্থানেরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। আমরা চাই, প্রত্যেকে নিরাপদে থাকুক। হামলার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু প্যারিস নয়, বিশ্বব্যাপী কোথাও যেন কোন হামলা-হুমকিতে কোন মানুষ কষ্ট না পায়- সেটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া। তবে প্যারিসের পরে আরও সাবধানতা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই দেখছি, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সচেতন রয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরে সরকার যা করছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। সহিংস চরমপন্থা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কাজ নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। ওয়াশিংটনে হামলার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু প্যারিস নয়, বিশ্বব্যাপী কোথাও হামলা হোক এবং জনগণ কষ্ট পাক এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারবিদেশী নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। স্থিতিশীল পরিবেশ উন্নত ভবিষ্যত এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে বাংলাদেশের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের হযরত শাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ‘ক্যাটাগরি ওয়ান’ স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব জানিয়েছি। টিকফা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন-কানুন, জনবল কাঠামোসহ অন্য শর্তগুলো পূরণের কাজ চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের জনগণ ও বিদেশী নাগরিকদের শান্তি এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের রেড এলাটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে যুক্তরাষ্ট্র রেড এলার্ট জারি করেনি। এখন ঘন ঘন তা জারি করছে। এ বিষয়টি বাংলাদেশের ভাবমূতির জন্য ক্ষতিকর বলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়েছে।