২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় সরকার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। যাতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নারীর প্রতি হয়রানি রোধ করা যায়। ফেসবুকের সঙ্গে কোন চুক্তি না থাকায় ব্যবহারকারীরা যে যেমন খুশি আইডি খুলে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। সমাজে নারীর প্রতি বাড়ছে নির্যাতন। অসম্মান করা হচ্ছে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের। চুক্তি থাকলে সবার আইডিই চিহ্নিত করা সম্ভব হতো। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় এমন একটি সুযোগ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে দিয়েছিল। কিন্তু তখন জোট সরকার ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোন চুক্তি করেনি। সেই সময় যদি এই চুক্তি হতো তাহলে আজ এমন সব সমস্যায় পড়তে হতো না। মঙ্গলবার বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বিটিআরসির কার্যালয়ে গিয়ে সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ফেসবুক নিয়ে কথা বলেন। তিনি প্রথমেই বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে তাদের সঙ্গে চুক্তি করার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাব পেয়েও তারা সেদিন কোন প্রয়োজন মনে করেনি। কিন্তু আমরা এখন চুক্তির প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি। বিষয়টির ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে সমাজে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এটাকে কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কোন আইডি বন্ধ করতে চাইলেও পারা যাচ্ছে না। কারণ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কোন অনুরোধ শুনতে বাধ্য নয়। তারা যথাযথ কারণ জানতে চান কেন সংশ্লিষ্ট আইডি বন্ধ করা হবে। কোন কোন সময় অপরাধ প্রমাণিত কিনা সেটা আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান। যদি সব অপরাধ প্রমাণ করেও দেয়া যায় তারপরও ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে। তারা সংশ্লিষ্ট আইডি বন্ধ নাও করতে পারে। যদি চুক্তি থাকত হালে এই বিষয়গুলো সহজেই করা সম্ভব হতো। এখন আমরা চিন্তা করছি কোন প্রক্রিয়ায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করা যায়। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা আইটি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হবে। তিনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু ফেসবুক নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়নি। ভাইবার হটসআপসহ সাইবার নিরাপত্তা বিঘœ ঘটে এমন সব বিষয় নিয়েও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি রয়েছে দেশে। এখানে বার বার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম দিয়ে। এমন সব আজগুবি বিষয় ছড়িয়ে দেয়া হয়, যা পরে সমাজে চরম অরাজকতার জন্ম দেয়। আবার কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়। এতে ওই ব্যক্তি সামাজিকভাবে মারাত্মকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নারীর প্রতি সহিংসতার কারণও ঘটানো হচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমে নারীকে প্রলোভিত করে তার সম্ভ্রম হানি করা হচ্ছে সুযোগ বুঝে। সম্প্রতি শিশু রাজনকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয় ফেসবুকে। এমন নিষ্ঠুরতা ঘটিয়ে তা ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি আদিম যুগকেও হার মানিয়েছে। এরকম হাজারো ঘটনা ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যা সমাজের জন্য চরম ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা তৈরি করা হবে। এটা সহজ হতো যখন বিএনপি- জামায়াত জোট ক্ষমতায় ছিল তখন ফেসবুকের প্রস্তাবটি মেনে নিয়ে চুক্তি করা হলে। তখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ‘ফেসবুক কনটেন্ট’ বন্ধ করে দিতে বাধ্য থাকত। একই সময়ে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বড় সুযোগও হাতছাড়া করে দিয়েছে বিএনপি- জামায়াত জোট। পরবর্তীতে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হতে কনসোর্টিয়ামকে কয়েক শ’ কোটি টাকা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দেশবিরোধী শক্তি এমন কাজ কেন করেছিল তা তারাই ভাল বলতে পারবে।

বৈঠকে উপস্থিত এমন এক কর্মকর্তা বলেন, ফেসবুকে মানহানিকর কনটেন্ট, নারীর প্রতি অবমাননা, রাজনৈতিক কারণ ব্যবহার করে বিব্রত করা, জঙ্গী কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করার হাতিয়ার হিসেবে ফেসবুককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তির কোন বিকল্প নেই। চুক্তি না থাকলে অপরাধীদের আইডি শনাক্ত করা ও ব্যবস্থা নেয়া কোনটাই সম্ভব হবে না। আজকের বৈঠকে মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে একমত পোষণ করেছে। অল্পদিনের মধ্যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

তারানা হালিম বলেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির সুযোগটি আবার গ্রহণ করতে চাই। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে বা অনুরোধ জানানো হবে। এর বাইরে আরও যে সব বিষয় রয়েছে তাও করা হবে। যাতে করে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা যায়। বৈঠকে তিনি বিটিআরসিকে শক্তিশালী করার সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন। বৈঠকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খানসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।