২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবিক সম্পর্কের রসায়নে উজ্জ্বল রোকেয়ার ক্যানভাস

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিমূর্ত ধারায় ছবি আঁকেন চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা। সুনির্দিষ্টভাবে অবয়বের উপস্থাপন পরিবর্তনের রং ও রেখার আশ্রয়ে মেলে ধরেন বিষয়কে। বর্ণের ওপর বর্ণ চাপিয়ে প্রকাশ ঘটান আপন ভাবনার। আর সেই ভাবনার সূত্র ধরে মানবিক রসায়নের উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটে চিত্রপটে। সন্ধান মেলে মাতৃত্ব কিংবা নারীত্বের অন্তর্নিহিত পরিচয়ের। এমন সব বিষয়ের ছবি নিয়ে ধানম-ির বেঙ্গল শিল্পালয়ের চলছে এই শিল্পীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। শিল্পীর ১৭তম এই একক প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘রোকেয়া’। মঙ্গলবার হেমন্তের সন্ধ্যায় বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস আয়োজিত প্রদর্শনীটির সূচনা হয়। যৌথভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেতে লুন্ডেমু। অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রোকেয়া সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের ও মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

রোকেয়া সুলতানার চিত্রভাষ্য নির্মাণে মাতৃত্ব ও নারীত্বের সঙ্গে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে মানবিক সম্পর্কের বিবিধ রসায়ন ও নিসর্গের নান্দনিকতা। মাতৃত্বের নানা অবগুণ্ঠিত পরিচয় শিল্পীর চিত্রপটে অফুরান ভাবনার আধার নিয়ে উন্মোচিত হয়েছে। নিজের মা ও মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের যে নির্মিতি তা কখনও কখনও স্থান, পাত্র ও সময়হীন বাস্তবতার উপাখ্যান হয়ে উঠেছে। যাপিত জীবনের পরিক্রমায় একজন মায়ের সময় খননের যে বহির্গামী ও ক্রমিক প্রক্রিয়া এবং সেই প্রক্রিয়ালব্ধ যে বিবিধ আবেগ, তা-ই রোকেয়ার ‘ম্যাডোনা’ সিরিজের মূল উপজীব্য। এই আবেগ একজন মায়ের, একজন মেয়ের, একজন শিল্পীর এবং মা-মেয়ে ও শিল্পীসত্তার একীভূত অস্তিত্বের। নারীর অন্তর্মুখী অভিযাত্রার যে বৈচিত্র্যময় প্রকাশ এবং এর রূপান্তর চিত্রিত হয়েছে ‘রিলেশান্স’ সিরিজের চিত্রকর্মে। নারীর মানসিক ও জৈবিক আকাক্সক্ষার দ্বান্দ্বিক গল্প সৃজিত হয়েছে শিল্পীর চিত্রপটে। ‘আর্থ, ওয়াটার, এয়ার’ সিরিজে এই চিত্রকর প্রকৃতির নানা উপাদানের রসায়নকে পুনর্নির্মাণ করেছেন চিত্রভাষায়। প্রকৃতির শূন্যতায় নিমজ্জিত হয়ে সন্তানের জন্য স্মৃতিকাতর হয়েছেন; বাতাস, জল ও মাটির অগুণতি অণুতে সুলুকসন্ধান করেছেন নিজের অব্যক্ত বিষণœতার ।

একইসঙ্গে উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের বৈভবে উদ্দীপ্ত রোকেয়ার ক্যানভাসগুলো চিত্রিত হয়েছে মিশ্রমাধ্যম, জলরং, ড্রয়িং, ছাপচিত্র টেম্পেরা মাধ্যমে। প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে ৫২টি চিত্রকর্ম। চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

গহর বাদশা ও বানেছা পরীর মঞ্চায়ন ॥ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হলো নাগরিক নাট্যাঙ্গনের প্রযোজনা ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাগরিকের এই নুতন নাটকটির প্রদর্শনী হয়। মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত লোকগাঁথা ‘গহর বাদশা বানেছা পরী’ অবলম্বনে বিন্যাস্ত হয়েছে প্রযোজনাটির কাহিনী। নাটকটির পুনর্কথনের পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন হৃদি হক।

গিলামাইট বনে বিশ্বিং বাদশা এসেছিলো শিকার করতে। সারাবন খুঁজে শিকার না পেয়ে পরিশ্রান্ত বাদশা যখন দুষছিলো তার ভাগ্যকে ঠিক তখনই অদূর জলাশয়ে হরিনশাবকের আগমনে তীর ছোড়ে বাদশা। পরক্ষণেই মানবসন্তানের কান্নায় বুঝতে পারে কী ভয়ানক নিষ্ঠুরতায় সে তার হাত রাঙালো। অন্ধমুনি সন্তান হারানো বেদনায় জর্জরিত করলো সন্তানহীন বাদশা বিশ্বিংকে। সেই অভিশাপের পর দুই পুত্রের চন্দ্রমুখ দেখার সৌভাগ্য হলো বাদশার। রাজ্যজুড়ে যখন আনন্দের বন্যা বাদশার মনে তখন সন্তান হারানোর ভয়। বাদশা আদেশ দিলেন এমন এক দালান তৈরি করা হোক যেখানে চন্দ্র সূর্যের আলো প্রবেশ করবে না। কিন্তু শত আয়োজনেও কি বাদশা আটকে রাখতে পারলো তার নিয়তিকে? বারো বছর বয়সে বিশ্বিং বাদশা যখন বড় পুত্র গহরকে রাজ্যের অধিপতি করলো তখন উজিরের চক্রান্তে গিলামাইট বনে শিকারে যাওয়ার আবদার করলো গহর। গিলামাইট বনে গিয়ে বিশ্বিং বন্দী হলো বিশ্বিং দানবের হাতে। বাবার মিতা বলে মৃত্যু থেকে রেহাই পেলেও বানেছা পরীর প্রেমতীরে বিদ্ধ হলো গহর। অবশেষে বহু যুদ্ধ ও সংগ্রাম পেরিয়ে বানেছাকে নিয়ে যখন রাজ্যে ফেরার সময় হলো ততদিনে রাজ্য উজিরের দখলে চলে যায়। বুদ্ধি এবং মেধা দিয়ে গহর তার নিজের রাজ্য পুনরুদ্ধার করলো। জয় হলো সত্য ও সুন্দরের। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নিয়মিত নাট্যকর্মীরা।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া