১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাখাওয়াতসহ ৯ জনের চার্জ গঠনের শুনানি ২২ নবেম্বর

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট ২৫ জানুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ ৯ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২২ নবেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী ২৫ জানুয়ারি ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার এ আদেশ প্রদান করেছে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী।

এর আগে মামলার প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ৫টি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ ও লুটের অভিযোগসহ মোট ৫টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। সাখাওয়াত হোসেন ছাড়া অন্য ৮ আসামি হলেন- মো. বিল্লাল হোসেন, মো. ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, মো. আব্দুল আজিজ সরদার, মো. আজিজ সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মো. লুৎফর মোড়ল এবং মো. আব্দুল খালেক মোড়ল। আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন সাখাওয়াত হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন ও মো. লুৎফর মোড়ল। বাকি ছয়জন পলাতক রয়েছেন। ১২ আসামির মধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন মোঃ আকরাম হোসেন, অজিহার মোড়ল ওরফে ওজিয়ার মোড়ল ও মশিয়ার রহমান।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত পাঁচ অভিযোগ : অভিযোগ ১: যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ। অভিযোগ ২: একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা। অভিযোগ ৩: কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন। অভিযোগ ৪: কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন। অভিযোগ ৫: কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।

ত্রিশালের ৮ রাজাকার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করে। প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমনের চার মাসের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময় প্রদান করা হয়।

এই মামলার গ্রেফতারকৃত অন্য তিনজন হচ্ছেন- এমপি হান্নানের ছেলে রফিক সাজ্জাদ এবং ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির ও মিজানুর রহমান মিন্টু।

এর আগে এই চারজনকে সেফহোমে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত ছিলেন। গত ১৯ মে এমপি হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ’১৯৭৩ এর ৩ (২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন আদালতের বিচারক আহসান হাবিব। মামলায় এম এ হান্নান ছাড়াও জামায়াত নেতা ফকরুজ্জামান ও শহরতলীর গলগণ্ডা এলাকার গোলাম রব্বানীকে আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আরও পাঁচজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এ মামলার আসামি হয়েছেন মোট আটজন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসামিরা শহরের নতুন বাজারে অবস্থিত এম এ হান্নানের নিজ বাসভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো টর্চার সেলের দায়িত্বে থেকে মুক্তিকামী সাধারণ নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করে মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ফেলে রাখেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ অঞ্চলে গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ পাওয়া গেছে।