২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাভারে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্যানারি সরিয়ে নিতে হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। ওই সময়ের মধ্যে কারখানা স্থানান্তর করতে ব্যর্থ হলে মালিকদের নামে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে কয়েকবার আল্টিমেটাম দেয়ার পরও ট্যানারি মালিকরা কারখানা সরাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং সরকারের এই উদ্যোগ ব্যর্থ করতে সব সময় সক্রিয় ছিল মালিকদের একটি বৃহৎ অংশ।

তবে মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে ট্যানারি শিল্প মালিকদের সঙ্গে এক যৌথসভা শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টি, হরতাল-অবরোধ, নাশকতাসহ বিভিন্ন কারণে শিল্পনগরীর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়নি। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) নির্মাণের কাজ শেষ হবে। আর তাই ওই সময়ের মধ্যে ১শ’ ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের টার্গেট রয়েছে। ফলে যারা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্যানারি সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করতে পারবে না তাদের প্লটের বরাদ্দ বাতিল করবে সরকার। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ওই ট্যানারিগুলোতে গ্যাস, বিদ্যুত, পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সার্ভিসও বন্ধ করে দেয়া হবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগের পরিবেশগত কারণে বিদেশী ক্রেতারা এখন অর্ডার দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় নিজেদের স্বার্থেই হাজারীবাগ থেকে দ্রুত ট্যানারি স্থানান্তরে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই হাজারীবাগ থেকে ১৫৫ ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারী নির্দেশনা ছিল। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ও তাগিদ রয়েছে সরকারের। আগামী বছরের জুন মাসে চামড়া শিল্পনগরী নামের এই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাভারের হরিণ ধরায় নদী তীরে ২০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী। ট্যানারিগুলোকে সেখানে স্থায়ী করতে এখন পুরোদমে চলছে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক মোঃ সিরাজুল হায়দার জনকণ্ঠকে জানান, তৈরি পোশাকের পরই রফতানিতে চামড়া শিল্পের অবস্থান। শতভাগ দেশীয় কাঁচামাল নির্ভর রফতানিমুখী এ শিল্প খাতটির সম্ভাবনা ব্যাপক। এ জন্য পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে সাভারে। ট্যানারি মালিকদের দায়ী করে তিনি বলেন, সরকারী সহযোগিতা পাওয়ার পরও তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। তবে এখন তারা বুঝতে পারছেন আর হাজারীবাগে থাকা সম্ভব নয়, তাই তারা সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্পনগরীতে কারখানা স্থানান্তরে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি বলেন, চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তুলতে ২০০৩ সালে বিসিকের আওতায় একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০১৬ সালের জুন মাসে। তাই ওই সময়ের আগে সরকার প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু করার চেষ্টা করছে। জানা গেছে, এ প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়তে হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পসমূহ স্থানান্তরের লক্ষে ২০০৩ সালে বিসিকের আওতায় ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার দুটি কান্দিবৈলারপুর ও চন্দ্রনারায়ণপুর মৌজা এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলার চরনারায়ণপুর মৌজাসহ মোট তিনটি মৌজার ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্পে বরাদ্দযোগ্য ২০৫টি প্লট ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তুলতে সিইটিপি (কমন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) ও ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৬০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ সংশোধনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ওই সংশোধনীতে সিইটিপিকে আরও যুগোপযোগী করণের জন্য তিনটি কম্পোনেন্ট স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এসটিপি), সøুজ পাওয়ার জেনারেশন সিস্টেম (এসপিজিএস), সলিড ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসডব্লিউএমএস) এবং ট্যানারি মালিকদের অনুকূলে ২৫০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্তকরণসহ মোট প্রকল্প ব্যয় ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এই প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র গ্রহণ, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ, ফায়ার ব্রিগেড শেড নির্মাণ, পাম্প ড্রাইভারস কোয়ার্টার নির্মাণ, প্রবেশ সড়ক নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পানি সরবরাহ পাইপ লাইন নির্মাণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নির্মাণ, বিদ্যুত লাইন নির্মাণ, আরইটি কর্তৃক ১০ এমভি ক্যাপাসিটি সম্পন্ন দুটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপন, গ্যাস লাইন স্থাপন, যানবাহন ক্রয়, জনবল নিয়োগ, বিটিএ এবং বিএফএলএলএফইএর আওতাধীন ১৫৫টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ২০৫টি প্লট বরাদ্দ প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।