২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুচির বিজয়ে মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহ বাড়ছে রোহিঙ্গাদের

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ দীর্ঘ ২৫ বছর পর মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি জয়লাভ করায় আশায় বুক বাঁধছে কক্সবাজারে আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক শরণার্থীরা। বহু প্রতীক্ষায় পাওয়া গণতন্ত্র তারা ধরে রাখতে স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ নির্বাচনে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) জয় লাভ করে। এ জয়ের ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খুশির ঝিলিক দেখা গেছে। যদিও ভোট দিতে পারেনি রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তবুও এদের চোখে মুখে যেন একটি তৃপ্তির হাসি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর বহু প্রতীক্ষায় পাওয়া গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার এবং সুবিধাদি পেতে স্বদেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী আবদুল হামিদ বলেন, আউং সান সুচি রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিক। সুচির দল বিজয়ের খবরে নতুন করে আশায় বুক বেধেঁছে উখিয়া-টেকনাফের দু’টি শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থানরত বৈধ অবৈধ প্রায় দুই লক্ষাধিকসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থানরত আরও দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী। এদিকে মিয়ামারের ভোটার থেকে বাদপড়া ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমের দৃষ্টি এখন সুচির দিকে। ১৯৭৮সালে জিয়াউর রহমানের শাসন আমলে ঢালাওভাবে প্রথম দফায় এদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটে। নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু ও উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত ক্যাম্পে তারা আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সীমান্তের ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৭ জন রোহিঙ্গা নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু ও উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হলেও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে ১ হাজার ৭৭৫ পরিবারের ১৪ হাজার ৪৩১ জন রোহিঙ্গা এবং উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ১ হাজার ১৯৪ পরিবারের ৯ হাজার ৮৫০ জনসহ প্রায় ২৮ হাজার রোহিঙ্গা দুই ক্যাম্পে অবস্থান করছে। বনবিভাগ ও খাস জমি দখল করে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারা। টেকনাফ ও উখিয়ার দু’টি ক্যাম্প ঘুরে পরিলক্ষিত হয়েছে, সুচির বিজয়ে স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহ বাড়ছে শরণার্থীদের।

ইতোপূর্বে লক্ষ্য করা গেছে, যখনই রোহিঙ্গা মুসলিমরা দাঙ্গা বা অনুরূপ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে, তখনই তারা ঘরছাড়া হয়ে নাফনদী পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলে এসেছে। তবে রোহিঙ্গারা যে এতদঞ্চলের বসবাসকারী মানুষের জন্য বিষফোঁড়া তা বর্তমানে বুঝে উঠতে বাকি নেই স্থানীয়দের। বিএনপি জিয়াউর রহমানের ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াত-বিএনপির ক্ষমতাসীন সময়ে (১৯৭৮, ১৯৯১, ১৯৯২ ও ১৯৯৪) সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা এদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। বেশিরভাগ শরণার্থী ফিরে গেলেও অন্তত ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে রয়ে গেছে। কক্সবাজার অঞ্চলের পাহাড়, উপত্যকা, সমতল, সৈকত, ঝাউবীথি এবং দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে খাস ও বনবিভাগের জমি দখল করে রয়েছে ওসব রোহিঙ্গারা।