১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাক সেনাপ্রধানের আকস্মিক জনপ্রিয়তা!

  • অনেকের দৃষ্টিতে তিনি এখন ত্রাণকর্তা

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ হঠাৎ করেই ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও তার জনপ্রিয়তা যেন তুঙ্গে উঠেছে। ঘটনা কি তা জানার চেষ্টা করেছেন বিবিসির উর্দু বিভাগের আম্বার শামসি।

রাজধানী ও সেনাসদরের মধ্যে যে মহাসড়কটি চলে গেছে তার দু’পাশে অসংখ্য জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে এখানে ওখানে কিছু নতুন ভবন তৈরি হয়েছে। তবে ওগুলো তেমন আকর্ষণীয় কিছু নয়। তেমনি অতি সাধারণভাবে নির্মিত একটি মসজিদও রয়েছে। বিশেষ কারণে মসজিদটি যেকোন পথচারীরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। কারণ এর নামকরণ করা হয়েছে সেনাবাহিনী প্রধান রাহিল শরীফের নামে। মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসা শ্মশ্রুম-িত এক তরুণ বলছিলেন, ‘আমরা চাই অবৈধ দখলদার ও ভূমি দস্যুদের কবল থেকে মসজিদটি রক্ষা পেতে সেনাবাহিনী প্রধান হস্তক্ষেপ করুক।’

এই তরুণের মতো অনেক পাকিস্তানীর দৃষ্টিতে জেনারেল শরীফ এখন এক ত্রাণকর্তা। যিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বিবিধ সামাজিক অনাচার থেকে দেশকে রক্ষা করে চলেছেন। চিত্রশিল্পী হাবিবুর রহমানও তাই মনে করেন। পেশায় ট্রাক আর্ট পেইন্টার বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়লেও এখন কর্মঠ রয়েছেন। তিনি ১৯৫৫ সাল থেকে ট্রাকের গায়ে বিভিন্ন রকম ছবি আঁকছেন। সাধারণত ফুল পাখি এবং বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি ট্রাক সুসজ্জিত করে থাকেন। আম্বার শামসির কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। শামসি তাকে জিজ্ঞেস করেন তার প্রিয় রাজনৈতিক নেতা কে? তিনি জবাব দিলেন, ‘বেনজীর ভুট্টো আমার সবচেয়ে প্রিয় নেতা।’ এরপর বলে তার পিতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। এরপর রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনা শাসক আইয়ুব খান, জিয়াউল হক ও ইয়াহিয়া খান। শামসি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, জেনারেল শরীফের নামটি বাদ দিলেন কেন? তিনি এমনভাবে হাত ওপরের দিকে ওঠালেন যেন আকাশ স্পর্শ করবেন, বললেন তিনি (জেনারেল শরীফ) নেতা হিসেবে অনেক যোগ্য। এই পাঁচজনের ওপরে তাকে স্থান দেয়া যায়।

জেনারেল শরীফ প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী নন। তারপরও তার ছবি এখান দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। ট্রাক-বাস-রিকশা থেকে শুরু করে ফেসবুক-টুইটার কোথাও বাদ নেই জেনারেল শরীফের ছবি। অনেকে মনে করেন, গোলযোগপূর্ণ শহর করাচীতে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে তার অবদান রয়েছে। এছাড়া গত বছর ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে জঙ্গী হামলা দেড় শ’ ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ার পর তিনি জঙ্গীদের রাশ যেভাবে টেনে ধরেছেন সেজন্য তিনি দেশবাসীর প্রশংসাভাজন হয়েছেন। -বিবিসি।