২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিএসসিসি স্বাস্থ্য বিভাগে নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা

  • বিধিবহির্ভূত অর্থ ব্যয়ে অডিট আপত্তি

মশিউর রহমান খান ॥ নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগ। নিয়ম ভঙ্গ করে ডাক্তারদের যোগদান করা ও পদোন্নতি গ্রহণ, এক ডিগ্রী নিয়ে অধ্যয়নকারী ডাক্তার ডিগ্রী ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই বছরের পর বছর অন্য রোগের অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা প্রদান, ইপিআই সুপারভাইজারদের নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি প্রদানসহ নানা জটিলতায় এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা হারাতে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কোন ডাক্তার যদি নির্দিষ্ট ডিগ্রী না নিয়ে অভিজ্ঞতাহীন উক্ত পদে বছরের পর বছর ধরে চাকরি করে নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে তাহলে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা কত ভয়াবহ হয়ে পড়েছে তা সহজেই অনুমেয়। সরকারের অডিট অধিদফতরের করা অডিটে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। মাত্র কয়েকজনের ব্যক্তিগত ফাইল অডিট করেই এসব তথ্য পেয়েছে অডিট অধিদফতর। অডিট বিভাগ থেকে অভিযুক্ত সবাইকে কারণ দর্শানোর জন্য ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও এদের কেউ কোন প্রকার জবাব পর্যন্ত প্রদান করেনি। শুধুমাত্র অডিট আপত্তির কারণে ডিএসসিসির ৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের রয়েছে ৪৩ লাখ ২৬ হাজার ৬০৯ টাকা। ডিএসসিসির মহানগর জেনারেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। অসুস্থতায় রোগীর অন্যতম ভরসাস্থল হচ্ছে চিকিৎসক। সেখানে গাইনী ডাক্তার যখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রী ছাড়া প্যাথলজির চিকিৎসক হিসেবে রোগীর চিকিৎসা করেন ও বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেন তখন রোগীর অবস্থা কি হতে পারে তা নাগরিকরা সহজেই অনুভব করতে পারেন। বছরের পর বছর ধরে বিধি বহির্ভূতভাবে উচ্চতর স্কেল দিয়ে সংস্থাটির কোটি কোটি টাকা ক্ষতি করায় এ জন্য আপত্তি জানিয়েছে অডিট বিভাগ।

অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, এই অনিয়মের দায় ও দায়িত্ব শনাক্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। সমস্যা সমাধানে অতিরিক্ত পরিশোধকৃত টাকা আদায় করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এই আপত্তির সুরাহা যতদিন না হবে ততদিন তা দুর্নীতির বোঝা হিসেবে তা বিবেচ্য হবে। সরকারের স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতর ডিএসসিসির ‘অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্ট’ তৈরি করেছে।