২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার বিদায়ের মিছিলে মিচেল জনসন

এবার বিদায়ের মিছিলে মিচেল জনসন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আক্ষরিক অর্থেই অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে চলছে বিদায়ের মিছিল। যেখানে সর্বশেষ নাম মিচেল জনসন। ‘এখন প্রতিটি টেস্টকেই মনে হয় জীবনের শেষ ম্যাচ!’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর প্রাক্কালে ৩৪ বছর বয়সী অসি ক্রিকেটারের মুখে এমন কথা শুনে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। বয়স, ফর্ম কোন বিচারেই অন্তত ‘বিদায়’ বলার সময় আসেনি। কিন্তু ইঙ্গিতের সঙ্গে মিলিয়ে ঘোষণার বেলায়ও চরম পেশাদারিত্বের পরিচয় দিলেন জনসন! এই হলো অস্ট্রেলীয় মানসিকতা, উপমহাদেশ নয়। এ্যাশেজ চলাকালেই নাকি মনের কোণে ভাবনাটা উঁকি দিয়েছিলে। যখন মিছিলের অগ্রভাগে গ্রেট মাইকেল ক্লার্কসহ ছয় ক্রিকেটার। মিছিলে নাম লেখালেন জনসন, একটা সিরিজ পরে এই যা।

কেবল সাদা পোশাকের টেস্ট নয়, সকল ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই অবসর নিলেন আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার সফলতম এই পেসার। বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে জনসন বলেন, ‘আমি অনেক ভাগ্যবান যে এমন দুর্দান্ত একটা ক্যারিয়ার পেয়েছি। দেশের হয়ে খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। এই পথ চলাটা ছিল অসাধারণ। তবে বাস্তবতা মেনে একদিন শেষ টানতেই হতো, আর তার জন্য ওয়াকার (পার্থের ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ড) চেয়ে ভাল জায়গা আর কি হতে পারতো।’ গত এ্যাশেজ এবং তৎপরবর্তী সময়ের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের নিশ্চই মনে আছে। বল হাতে দুর্দান্ত সাফল্যের সঙ্গে গোঁফ রাখায় চেহারায় একটা ‘ডেনিস লিলি’ ভাব চলে এসেছিল! মজার ব্যাপার, জনসন নামের এই ‘সোনার টুকরা’টিকে চিনতে পারা প্রথম জহুরি কিন্তু লিলিই। সেদিকটি মনে করিয়ে দিয়েই জনসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। একজন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। ‘ডেনিস লিলিই সর্বপ্রথম জনসনকে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি পুরোপুরি সঠিক ছিলেন। গোঁফওয়ালা জনসন অনেক দিক দিয়েই সর্বোচ্চ শিখরে থাকা, টগবগে লিলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেটি কেবল চেহারা, বেশভূষায় নয়, মাঠে লিলির মতো ভয়ঙ্কর ফাস্ট বল করে।’ জনসনকে উদ্দেশ্য করে লেখা বিবৃতিতে জানায় সিএ। পার্থে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই গুঞ্জন ওঠে, ‘অবসরে যাচ্ছেন জনসন।’ খেলার তৃতীয় দিনে সেই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলে যখন দেখা যায় ড্রেসিং রুমে জনসনের রাজ্য দলের ম্যানেজারকে। মঙ্গলবার সেটিই বাস্তবায়ন ছোট্ট এক ঘোষণায়, যখন জনসন বললেন, ‘অবসরের জন্য এটাই সবচেয়ে ভাল সময়।’

তবে বল হাতে সময়টা খুব একটা ভাল যাচ্ছিল না। জীবনের শেষ এই টেস্টে তো একটা অস্বস্তির রেকর্ডেই নিজের নাম জড়িয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ১ উইকেট শিকারের জন্য খরচ করেছেন ১৫৭ রান। ওয়াকা গ্রাউন্ডে আর কোন বোলারকে এত রান খরচ করতে হয়নি। জনসন খরুচে ছিলেন ব্রিসবেনের প্রথম টেস্টেও। ৪ উইকেট পেলেও ক্যারিয়ারের অভিষেক ভেন্যুতে বল হাতে দিয়েছিলেন ১৬৩ রান। তবে দুটি টেস্ট দিয়ে কি আর ‘সোনার টুকরা’ এক পেসারকে বিচার করা যায়? রেকর্ডই তার প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি জনসন। আট বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৭২ টেস্টে নিয়েছেন ৩১১ উইকেট (পার্থে দ্বিতীয় ইনিংস বাদে)। অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে উইকেট শিকারে তার চেয়ে এগিয়ে কেবল শেন ওয়ার্ন (৭০৮), ডেনিস লিলি (৫৬৩) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৩৫৫)। এর মধ্যে ওয়ার্নই কেবল স্পিনার।

পরিসংখ্যানকে যারা গাধার সঙ্গে তুলনা করতে চান, তাদের জন্য তথ্য, এটা বাদ দিলেও জনসন তার আগ্রাসী মনোভাবের জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। গোলার মতো বুক সমান বাউন্সার, কিংবা রিভার্স সুইং অথবা দুরন্ত ইয়র্কারে ব্যাটসম্যানের স্ট্যাম্প উপড়ে দেয়া দারুণ সব দৃশ্যের জন্ম তো তিনিই দিয়েছেন। জনসনের ভয়ঙ্কর এই রূপটা সবচেয়ে বেশি দেখেছে চিরশত্রু ইংল্যান্ড। ২০১৩ এ্যাশেজে তো বলতে গেলে প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন। ৫ টেস্টে নিয়েছিলেন ৩৭ উইকেট। এমন একজনের আচমকা অবসরে কিছুটা বিস্মিত বর্তমান অধিনায়ক। স্টিভেন স্মিথ বলেন, ‘সত্যি বিস্মিত হয়েছি। তবে আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। জনসন ছিল অসি পেশাদারিত্বের চরম এক উদাহরণ। ব্যাগিগ্রিন ক্যাপে সর্বশেষ সে ৩শ’ উইকেটের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মাঠে ওর সঙ্গী হতে পেরে আমরাও গর্বিত’

টেস্ট দিয়ে বিদায় বললেও জনসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছিলেন ওয়ানডে দিয়ে ২০০৫ সালে। ১৫৩ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ২৩৯ উইকেট।