২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ড্রই হলো পার্থ টেস্ট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রান-বন্যায় ড্রই হলো পার্থ টেস্টের শেষ পরিণতি। বহু আগে পাকিস্তান কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম বলেছিলেন, বোলাররাই টেস্ট জেতায়, ব্যাটসম্যানরা সেখানে বড়জোর ড্র উপহার দিতে পারেন। ক্রিকেটের অলিখিত অপ্তবাক্য এটি। প্রতিপক্ষকে অলআউট না করে জয় দেখা বিরল বৈকি। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের দাপট। সেঞ্চুরির বদলে সেঞ্চুরি, হয়েছে ডাবল সেঞ্চুরির বদলে ডাবল সেঞ্চুরিও! ৯ উইকেটে ৫৫৯ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। মনে হচ্ছিল অসিদের চাপে পিষ্ঠ হবে কিউইরা। উল্টো প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের লিড পায় সফরকারী নিউজিল্যান্ড, অলআউট হওয়ার আগে করে ৬২৪ রান! এরপর ৭ উইকেটে ৩৮৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অসিরা।

শেষ দিনে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে ৪৮ ওভারে ৩২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। এক দফা বৃষ্টির পর ২৮ ওভারে ২ উইকেটে অতিথিরা যখন ১০৪ রান সংগ্রহ করে তখনই ম্যাচের আয়ু শেষ হয়ে যায়। ১০ রানের জন্য জীবনের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি না পেলেও সান্ত¡নার ম্যাচসেরা পুরস্কার উঠেছে রস টেইলরের হাতে। ব্রিসবেনের প্রথম টেস্ট জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। এ্যাডিলেডে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ২৭ নবেম্বর থেকে, যেটি হতে যাচ্ছে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ডে-নাইট ম্যাচ। পার্থের ড্র টেস্টে মনে রাখার মতো অনেক ঘটনাই ঘটেছে। ডেভিড ওয়ার্নারের ডাবল সেঞ্চুরির (২৫৩) জবাবে ডাবল হাঁকিয়েছেন সাবেক কিউই অধিনায়ক রস টেইলর (২৯০)। দুই ইনিংসেই প্রথম চার ব্যাটসম্যান মিলে তুলেছেন রেকর্ড সংখ্যক রান (১১৯০)। তার সঙ্গে যোগ হয় আচমকা মিচেল জনসনের অবসর। সব মিলিয়ে ড্র টেস্টে আলোচনার খাতাটা কম দীর্ঘ নয়।

২ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে মঙ্গলবার শেষদিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৪০ ওভারে আরও ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। ৩৮৫/৭-এ দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন স্মিথ। ৪৮ ওভারে জয়ের জন্য কিউইদের সামনে ৩২১ রানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। তার আগে বৃষ্টিতে নষ্ট হয় কিছুটা সময়। ৪৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনার টম লাথাম (১৫) আর মার্টিন গাপটিল (১৭) সাজঘরে ফিরলেও তাতে প্রাণ ফিরে পায়নি ম্যাচ। বাকি সময়টা ক্রিজে কাটিয়ে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়েন কেন উইলিয়ামসন (৩২*) ও ম্যাচের নায়ক রস টেইলর (৩৬*)। প্রথম ইনিংসে টেইলরের ২৯০, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। প্রায় ১১২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙ্গেন তিনি। ১৯০৩ সালে সিডনি টেস্টে নিজের অভিষেকে ২৮৭ রান করেছিলেন ইংল্যান্ডের টিপ ফস্টার। ১০ রানের জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিটি পাননি, টেইলরকে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়েই সান্ত¡না খুঁজতে হয়েছে।