২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিমি ভাইয়ের মতো তারকা হতে চাই ॥ রাকিন

  • রুমেল খান

খালেদ মাহমুদ রাকিন। জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৬ নবেম্বর। ক’দিন পরেই ১৬ বছর পূর্ণ হবে তার। ২ ভাই, ৩ বোন তারা। পাঠকদের নিশ্চয়ই চিনতে কষ্ট হচ্ছে? যদি বলি রাকিনের বড় ভাই রাসেল মাহমুদ জিমি, জাতীয় হকি দলের ফরোয়ার্ড। তাহলে নিশ্চয়ই বলবেন, ‘ও আচ্ছা, তাই বলুন!’ জিমির মতো রাকিনও হকি খেলেন। জিমি খেলেন জাতীয় দলে। আর রাকিন খেলেন অনুর্ধ ২১ দলে।

আগামী ১৪-২২ নবেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে অষ্টম যুব অনুর্ধ ২১ এশিয়া কাপ। যেখানে পুল ‘বি’ তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান ও ওমান। এ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখেই গত ২৪ অক্টোবর থেকে কোচ মাহবুব হারুনের অধীনে শুরু হয়েছে অনুশীলন। মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের নীল টার্ফে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে অনুর্ধ ২১ দল। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ম্যাচে ২-১ গোলে জেতে জাতীয় দল। ম্যাচ শেষে কথা হলো অনুর্ধ ২১ দলের ডিফেন্ডার খালেদ মাহমুদ রাকিনের সঙ্গে। জানান টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রস্তুতির কথা। সেই সঙ্গে এই টুর্নামেন্টে ভাল ফল করে সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্নটাও জানান।

‘বাবা আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া ছিলেন খ্যাতনামা হকি খেলোয়াড়। বাবা এবং বড় ভাইকে বিকেএসপিতে হকি খেলতে দেখে হকি খেলতে আগ্রহী হই। জিমি ভাইয়ের মতো আমিও তখন বিকেএসপিতে গিয়ে ভর্তি হই এবং বেছে নেই হকিকে। তাছাড়া ফুফাত ও মামাত ভাইরাও হকি খেলেন। মোট কথা, আমরা হচ্ছি হকি-পরিবার। আমার বড় ভাই এত নামী-দামী খেলোয়াড়। সংবাদপত্রে তার ছবি ছাপা হয়। তাই আমারও স্বপ্ন ছিল নিজের ছবিও পত্রিকায় ছাপা হোক। সেই ইচ্ছা থেকেই হকিতে আসা।’ শুরুটা এভাবেই করেন রাকিন। আরও জানান, তার হকির শুরুটা ওস্তাদ ফজলুর হাত ধরে, আরমানিটোলা তারা মসজিদ স্কুলের হয়ে (একে বলা হয় হকির সূতিকাগার)। তখন পড়েন মাত্র পঞ্চম শ্রেণীতে।

রাকিন জাতীয় দলে প্রথম ডাক পান ২০১৩ সালে। বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ জাতীয় দলে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক বাছাইপর্বে খেলতে যান। পরের বছর চীনের নানজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আসরের মূলপর্বে খেলতে যান রাকিন। আর এবার যাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। মালয়েশিয়ার অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্ট সম্পর্কে রাকিনের ভাষ্য, ‘আপনারা তো জানেনই হকি ফেডারেশনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ঝামেলা চলছিল। ক’দিন আগে আপাতত ঝামেলা মিটেছে। দেরিতে হলেও আমরা ক্যাম্পে যোগ দিয়েছি। কিন্তু এতে আমাদের যতটা প্রস্তুতি নেয়ার কথা ছিল, সেটা নিতে পারিনি। আসলে এত কম প্রস্তুতি নিয়ে কোন দল কোন টুর্নামেন্টে অংশ নেয় না। যা হোক, যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমরা যতটুকু সময় পেয়েছি, সেই সময়টাতে নিজেদের যতটা সম্ভব শাণিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

দলের ফিটনেসের কী অবস্থা? ‘আমাদের ফিটনেস মোটামুটি পর্যায়ে আছে। কোচ মাহবুব হারুন স্যার এ বিষয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বাকি দিনগুলোতে এভাবে নিয়মিত অনুশীলন করলে আমরা আশা করি পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাব।’

ফিটনেসে ঘাটতি থাকলেও স্কিল ও গেমপ্ল্যান নিয়ে অনেক উন্নতি হচ্ছে দলের- এমনটাই দাবি করেন রাকিন, ‘মালয়েশিয়ায় গিয়ে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটাই উপহার দেয়ার চেষ্টা করব। চাইব দল যেন ভাল রেজাল্ট করে।’

উল্লেখ্য, রাকিনদের অনুশীলন শুরু হয়েছে গত ২৪ অক্টোবর থেকে। প্রাথমিক দলে ডাক পান ২৬ খেলোয়াড়। এখন সেটা কমে এসেছে ২১-এ। ক’দিন পর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হলে সেই দলে থাকবেন ১৮ জন। এই ১৮ জনের মধ্যে থাকতে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাকিন।

বড় ভাই জিমিই হচ্ছেন আমার আদর্শ খেলোয়াড়। এ প্রসঙ্গে বলেন, তার মতো হতে চাই আমি। তিনি আমাকে সবসময়ই ভাল খেলতে অনুপ্রাণিত করেন। পরামর্শও দেন।’

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া