২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সদরঘাটে যাত্রী হয়রানির কথা স্বীকার করলেন নৌমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ সদরঘাটের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রীদের হয়রানি করছে বলে উত্থাপিত অভিযোগ যথার্থ বলে স্বীকার করলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলছেন, ইজারাদার প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নৌকার যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা, এ রকম আরও অনেক হয়রানি করছে। উচ্চ আদালত সদরঘাটে ইজারাদার প্রথা চালু করার যে আদেশ দিয়েছে, সেই আদেশ ভ্যাকেট (স্থগিত) করলে আমরা সদরঘাটে পুনরায় ইজারাদারী প্রথা বাতিল করব।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে ঢাকা-৭ থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশ্নকর্তা হাজী সেলিম নৌমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, ইদানিং একটি ইজারাদারী প্রতিষ্ঠান ১৩ কোটি টাকার টেন্ডারে ইজারা নিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করছে। হঠাৎ করে একটি কোম্পানির অত্যাচার বাড়ছে কেন? এ বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা চাই।

এ সময় মন্ত্রী ইজারাদারী প্রথার ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সদরঘাটে ইজারাদারী প্রথা বাতিলের নির্দেশনা চেয়েছিলাম। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কত টাকা আসে ইজারায়? তখন বিআইডব্লিউটিএর তথ্যমতে জানিয়েছিলাম ২ কোটি টাকা। একথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দুই কোটির চেয়ে দুই কোটি মানুষের সেবা দেন। মন্ত্রী জানান, এরপর ইজারাদারী প্রথা আমরা বাতিল করি।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ইজারাদারী প্রথা বাতিল করার পর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ আদালতে আপীল করা হয়। সেই আপীলের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ইজারাদারী প্রথা চালু রাখার নির্দেশ দেন। এরপর আমরা ইজারাদারী ব্যবস্থা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করতাম। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরায় যখন ইজারা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে গেলাম তখন সাড়ে ৫ কোটি টাকা রিজার্ভ মানি। এই রিজার্ভ মানির জায়গায় প্রতিযোগিতায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দিলাম। সেই ইজারাদার প্রতিষ্ঠান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ করল না। তারা নৌকার যাত্রীদের পারাপারে ৫০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা নিতে শুরু করলো। চুক্তিভঙ্গ করে জোরজুলম করে টাকা আদায় করা শুরু করল।

মন্ত্রী জানান, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেই। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা আবার ইজারাদারী প্রথা বাতিলের চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেই উদ্যোগকে হাইকোর্ট আবারও স্থগিত করেছে। আমরা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিলের চেষ্টা করছি। উচ্চ আদালত যদি এ আদেশটি স্থগিত করে তাহলে আমরা ইজারাদারী প্রথা আবার বাতিল করব।