২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ ভাবনা ॥ এবারের বিষয় ॥ হুমকির মুখে মুক্তবুদ্ধি

  • রুখে দাঁড়াতে হবে

কামরুল হাসান

মনুষ্যত্বহীন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন বিবেকবান মানুষরা আজ হুমকির মুখে।

সাম্প্রদায়ের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাকে বহিঃপ্রকাশের প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িকতার জন্ম।

নবাব সিরাজউদদৌলার পতনের মধ্যে দিয়ে ১৭৫৭ ব্রিটেনের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষ দখল করে নেয়। ভারতবাসীরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবাদ করে।

প্রায় ১৮০ বছর পর, ভারতবাসীর প্রতিরোধে ভারত ছেড়ে চলে গেলেও সাম্প্রদায়িকতার বীজ রোপণ করে যায়। যার ফসল ভারত ও পাকিস্তান। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের ফলে সাম্প্রদায়িকতা তুঙ্গে ওঠে। বাজার দখলকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে দুই-দুটি বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে। সেভিয়েত ইউনিয়নসহ বেশকিছু দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেসব দেশ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য পুঁজিবাদ জন্ম দেয় মোল্লা উমরের। উসামা বিন লাদেনের ভূমিকাও সবার জানা। আরববিশ্বে আইএস এবং আফ্রিকার বোকো হারাম পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বাজার দখলের একটি প্রক্রিয়ার অজুহাত মাত্র। আইএসের প্যারিস আক্রমণ এটা কি কোন ধর্ম রক্ষার বিধান? পুঁজিবাদ বাজার দখল করতে গিয়ে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার করছে। যা রূপ নিয়েছে ভয়াবহতায়। পাকিস্তানী শাসন আমলে মুক্তচিন্তার স্বশিক্ষিত লেখক আরজ আলী মাতুব্বয়ের সত্যের সন্ধানে গ্রন্থ প্রকাশ বন্ধ করে দেয়। ১৯৭১ দেশ স্বাধীনের পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। পূর্ববাংলার সমাজ ও রাজনীতিতে ধর্মের নামে পাকিস্তানীকরণের যে বীজ বপন করেছিল তার শিকড় বিস্তার হয়েছে বহুদূর।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীরা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ৭০-এর অধিক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তার মধ্যে ৬৬টি ছিল ইসলাম নামধারী। তারা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় প্রশাসন, বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানপ্রেমীদের অধিষ্ঠিত করেছে। তারা হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ নিষিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং তাঁকে আঘাত করেছে মেরে ফেলার জন্য। মুক্তমনা লেখক তসলিমা নাসরিন নির্বাসিত। গত ৩ বছরে মুক্তমনা প্রগতিশীল লেখক ও ব্লগার খুন হয়েছে ১১ জন। ২১ জন পুলিশকে তারা হত্যা করে। দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য পূর্ব ঘোষণা দিয়েই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যুক্তাপরাধীদের বিচার-সাজা রুখতে সারাদেশে নাশকতা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে ব্লগার, প্রকাশক, সাংস্কৃতিক কর্মী লেখকসহ মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হত্যা করার যে নৃশংস সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে তা মেনে নেয়া কি উচিত? বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘দুর্গতি চিরস্থায়ী হতে পারে না।’

বাংলাদেশ তার গৌরব হারিয়ে মৌলবাদী জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত হবে, এমন স্বপ্ন যারা দেখে তাদের ধ্বংস ও পতন অনিবার্য। জনসমর্থন পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যাখ্যার ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে গেছে। তাই রুখে দাঁড়াতে হবে সবাইকে।

কালিহাতী, টাঙ্গাইল থেকে